গোল উৎসবে রেকর্ড গড়ার পথে বার্সেলোনা

গোল উৎসবে রেকর্ড গড়ার পথে বার্সেলোনা

ফন্ট সাইজ:

শেষ দুই মৌসুম ট্রফিহীন রিয়াল মাদ্রিদ। ট্রফি খরা কাটাতে জাবি আলোনসোর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন জোসে মরিনহো। এর আগেও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ডাগআউট সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। প্রথম মেয়াদে ২০১১-১২ মৌসুমে মরিনহোর অধীনে লা লিগায় ১২১ গোল করে ক্লাবটি। যা লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ, ম্যাচ প্রতি গড় ছিল ৩.১৮। সেই রেকর্ড এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। বুধবার রাতে রাতে ন্যু ক্যাম্পে রেসিং সান্তান্দারকে ৭-২ গোলে হারায় বার্সেলোনা। এটি লীগে কাতালানদের টানা ষষ্ঠ জয়। চ্যাম্পিয়নস লীগ মিলে টানা সপ্তম। প্রথম ছয় লীগ ম্যাচে বার্সার গোলসংখ্যা এখন ২৮, গড় ৪.৬৬। মরিনহোর প্রথম মেয়াদে রিয়াল একই সময়ে করেছিল ২০ গোল।

ন্যু ক্যাম্পে অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। লামিন ইয়ামালের কোনাকুনি পাস ধরে ভেতরে ঢুকে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন জোয়াও ক্যানসেলো। বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায়। ২২তম মিনিটে ডি-বক্স থেকে স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। চলতি লা লিগায় ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জালের দেখা পেলেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। ৩০তম মিনিটে একটি গোল শোধ করে রেসিং। বার্সা রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন মিডফিল্ডার গেয়ি। তবে গোল শোধ করে বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে পারেনি রেসিং। পাল্টা আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। বিরতির ঠিক তিন মিনিট আগে আরও একটি গোল আদায় করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি। দানি ওলমোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে বার্সেলোনা। তবে দুই মিনিটের মধ্যেই ফের ব্যবধান বাড়ায় তারা। ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন বার্সা স্ট্রাইকার। ৭৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে জালের দেখা পান গাব্রিয়েল জেসুস। লামিনে ইয়ামালের থ্রু পাস ডি-বক্সে পেয়েই চমৎকার বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। আর ৮৯তম মিনিটে নিজেই গোলের দেখা পান ইয়ামাল। শেষ পর্যন্ত ৭-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই জয়ে হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার জয়ের হার প্রায় ৭৭ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

যা একবিংশ শতাব্দীতে বার্সার কোচদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। হ্যাটট্রিক করা রাফিনিয়া সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ১১টি গোল করেন, যা ইউরোপের শীর্ষ লীগগুলোর ক্লাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জয়ের পর রাফিনিয়া ডিএজেডএনকে বলেন, ‘গোল পাওয়া ও জয়-এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আমি এতে খুশি। আমাদের ব্যক্তিগত ও দলগত দিক থেকেই উন্নতি করা ধরে রাখতে হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে আরও ভালো করার, আরও বেশি গোল ও সুযোগ তৈরির যে ক্ষুধা, তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা দল হিসেবে কতটা কাছাকাছি বা ঐক্যবদ্ধ, সেটাই মাঠে ফুটে উঠেছে।’ তবে রাফিনিয়া কিন্তু মনে করেন না যে সেরা ফর্মে আছেন, ‘কোনো না কোনো ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি কখনো বলব না যে সেরা ছন্দে আছি; কারণ, আমি সব সময় সাধ্যমতো উন্নতির চেষ্টা করি এবং দল আমাকে যা দেয়, তার চেয়ে বেশি কিছু দলকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।’ লা লিগায় প্রথম ছয় ম্যাচে রাফিনিয়ার গোল এখন ৯টি। ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিওনেল মেসির পর প্রথম কোনো বার্সা খেলোয়াড় হিসেবে এত দ্রুত এই সংখ্যায় পৌঁছালেন তিনি। আর রাফিনিয়া-ইয়ামাল জুটি প্রথম ছয় ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল, যা ১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়ার কাম্পানাল-তোরেনতেগুই জুটির ১৯ গোলের রেকর্ডের কাছাকাছি। আগামী শনিবার সপ্তম রাউন্ডে সেভিয়ার মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।