উখিয়া টেকনাফে সারের জন্য হাহাকার

ফন্ট সাইজ:

চাষ করেছেন ১০ কানি জমি। অথচ সার পাচ্ছেন মাত্র ১০ কেজি। কোথাও দুই বস্তা সারের প্রয়োজন হলেও কৃষকের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে মাত্র ২০ কেজি। প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য সার পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন উখিয়া-টেকনাফের কৃষকরা। সার নিতে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং চাহিদামতো সার না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। টেকনাফের হ্নীলা ও উখিয়ার বিভিন্ন সার বিতরণকেন্দ্রে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে উখিয়ার মেসার্স ছয়তারা সার বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই সার নেয়ার জন্য কৃষকদের ভিড়। অনেক কৃষক জমির পরিমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার চাইলেও তাদের সীমিত পরিমাণ সার দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

সার নিতে আসা এক কৃষক বলেন, তার দুই বস্তা সার প্রয়োজন। কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ২০ কেজি। আরেক কৃষক বলেন, প্রয়োজনীয় সার না পেলে কৃষিকাজ বন্ধ করে দেয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো উপায় থাকবে না। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ না থাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ডিলারদের একটি অংশ কৃষকের বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফে সরকারি ভর্তুকির ইউরিয়া সার রাতের আঁধারে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তে সার পাচারের অভিযোগের মধ্যেই গত ৬ই সেপ্টেম্বর উখিয়ার মরিচ্যা বাজারসংলগ্ন চেকপোস্ট এলাকায় প্রায় ১৫ টন ইউরিয়া সার জব্দের ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন, ৩০ বিজিবি ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ অভিযানে ৩০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে ইউরিয়া সারের চাহিদাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র দেশের অভ্যন্তর থেকে ভর্তুকির সার সংগ্রহ করে সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

দিনের বেলায় কৃষকরা সার নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও রাতের আঁধারে একটি অংশ পাচারের পথে যাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এদিকে সার সংকটের মধ্যে উখিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী জানান, উপজেলার সব মেইন ডিলার ও খুচরা ডিলারদের মধ্যে ৭০ টন সার বিভাজন করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম নজরে এলে ইউএনও বা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করার জন্য সচেতন নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে অতিরিক্ত বরাদ্দের পরও কৃষকের চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে, বরাদ্দকৃত সার শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে। কৃষকদের দাবি, প্রতিটি ডিলারের বরাদ্দ, মজুত ও বিক্রির হিসাব প্রকাশ্যে আনতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমির পরিমাণ যাচাই করে নির্ধারিত পরিমাণ সার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। উখিয়া-টেকনাফের কৃষকদের অভিযোগ, কয়েকজন ডিলার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রভাবের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের পরিবর্তে কৃষকের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিলারদের কার্যক্রম তদারকির দাবি তাদের। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যাতে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। অনিয়ম বা অবৈধভাবে সার পরিবহনের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।