সিন্ডিকেটের দখলে রংপুরের নিত্যপণ্যের বাজার

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক হচ্ছে না জিনিসপত্রের দাম। বাজার সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে পণ্য মজুতকরণের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। তবে দাবি উঠেছে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক না হওয়ার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের অভিযানসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের। রংপুর সিটি বাজার, লালবাগ বাজার, সাতমাথা বাজার, মাহিগঞ্জ বাজার, বুড়িরহাটসহ নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সবজির পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা আসছেন, দাম করছেন আর চলে যাচ্ছেন।

বাজার ঘুরে কম দামে যেসব সবজি পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোই কিনছেন নিম্ন-মধ্যআয়ের মানুষজন। এ ছাড়াও কেবল অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রই কিনছেন তারা। বাজারে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, রসুন ১১০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, আলু ৪৫ টাকা, পটোল-করলা-বেগুন ৬০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। এদিকে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি (সোনালি) ৩২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ২৪০ টাকা। এ ছাড়া ইলিশ মাছ ২১০০ থেকে ২৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ত্রেতা আশিক নবী বলেন, প্রতিটা জিনিসের দাম বেশি। জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। কোনো সবজি ৬০ টাকার নিচে মিলছে না।

মাছ-মাংসের কথা তো বাদই দিলাম। এদিকে আদা, রসুন, পিয়াজেরও দাম চড়া। পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা মিজান ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম বেড়েছে। আমরা পাইকারদের কাছ থেকে যে দরে কিনে আনি, তার থেকে কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করি। দাম বাড়লে আমাদের কি কিছু করার আছে। মুরগি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লার ফিডের দাম বেড়েছে- তাই খামারিরা মুরগির দাম বাড়িয়েছে। যার ফলে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে। ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। এই বাজার সিন্ডিকেটকে প্রশাসন আইনের আওতায় আনুক এটা আমরাও চাই। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখাসহ বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাজারে নির্দিষ্ট পণ্যের দাম স্বাভাবিককরণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে।