বিশ্বাস-অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা ও অস্থিরতায় ভোগা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। শিগগিরই জেলা বিএনপি’র কমিটি ঘোষণা করা হবে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত ১৬ই সেপ্টেম্বরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। বুধবার এ খবর চাউর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কে আসছেন, দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি’র হাল ধরতে। জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৬ই জানুয়ারি আলমগীর সরকারকে সভাপতি এবং জহুরুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায়, তা ভেঙে দিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ই জুলাই মীর সেলিম ফারুককে আহ্বায়ক এবং এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেলকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কমিটি সাংগঠনিকভাবে বেশ তোড়জোড় শুরু করে। এদিকে ১২ই ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী স্মরণকালের সর্বোচ্চ ভোট পেয়েও জামায়াত প্রার্থী এড. আল-ফারুক আব্দুল লতীফ-এর কাছে মাত্র দশ হাজার ৫২৩ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয় কাদা ছোড়াছুড়ি। দলীয় প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ ও বিষোদগার চাউর হয়ে ওঠে গোটা জেলা।
প্রকাশ্যে একে অপরকে গালমন্দ করতেও শোনা যায়। সামনে আসতে থাকে নির্বাচনে সমন্বয়হীনতা এবং পৌর এলাকাকে গুরুত্ব না দেয়ার জোরালো অভিযোগ। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে অনেক প্রভাবশালী নেতা নিজ নিজ অনুসারীদের অন্যদিকে ধাবিত করারও অভিযোগ ওঠে। এর প্রমাণও মেলে নির্বাচনের ফলাফলে। বিএনপি’র মতো জামায়াতে ইসলামীরও ভোট পরিসংখ্যান এখানে সুখকর নয়। এহসানুল হক মিলনের দেয়া মফিজ উপাধির সঙ্গে যুক্ত হয় জান্নাতি মফিজ। এদিকে নতুন কমিটিতে কারা আসছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিএনপি পাড়ায় নানা গুঞ্জন। এরই মধ্যে গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে জেলা জুড়ে। অনেকেই বলছেন, বিএনপি’র যে লেজেগোবরে অবস্থা, তাতে করে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। কেউ কেউ শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের কথা বলছেন। তাদের মতে, দলের ভেতরে বাইরে প্রকাশে অপ্রকাশ্যে থাকা বিরোধ জিয়েই রেখে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা করা কখনই সম্ভব নয়। তাদের মতে, সব ভেদাভেদ ভুলে বিএনপিকে এখনই সাংগঠনিকভাবে ঢেলে সাজানো না গেলে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনেও এর চরম প্রভাব পড়বে।
