আলোচিত পাবনার সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক (৫০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পাবনা সদর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কীভাবে এবং কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। ওসি আরও বলেন, কলির বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেছিলেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর এ বিষয়ে জানা যাবে।
এদিকে কলি হত্যার বিচার ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন, পাবনা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। মানববন্ধনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বেঁচে থাকার অধিকার চাই’, ‘শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই’, ‘কলি হত্যার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কলি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকলে তারও সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারা বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তারা মনে করেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
