গত আট মাসে ৯১৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সরাইল রিজিয়ন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর উদ্যোগে জুড়ীর ফুলতলা বিওপিতে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান। তিনি জানান, সারা দেশে বিজিবি’র পাঁচটি রিজিয়নের মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো উত্তর-পূর্ব (সরাইল) রিজিয়ন। ১৭টি জেলার ১৫৬টি উপজেলার দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল-এই চার সেক্টরের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিজিবি সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে গত আট মাসে সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিজিবি’র এই অধিনায়ক জানান, সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন এ বছরের জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ৭টি ম্যাগাজিনসহ ১১টি পিস্তল, ৭টি এয়ারগান, ৫টি পাইপগান, ৪০ রাউন্ড কার্তুজের পাশাপাশি ১৯ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন অভিযানে সর্বমোট ৩ লাখ ৭ হাজার ৭৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৩ হাজার ১৬৮ কেজি গাঁজা, ৫৮ হাজার ৭০০ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার, ১৪ হাজার ৩০০ বোতল ফেনসিডিল ও ইস্কাফ সিরাপ, ৩ লাখ ৪ হাজার ৮০০ পিস বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং ১৫১ লিটার চোলাই মদ আটক করেছে। সরাইল রিজিয়নের গত আট মাসে জব্দ করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালান মালামালের সর্বমোট মূল্য ৯১৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫০ টাকা। এসব ঘটনায় সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন ২৮১ জন আসামিকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরাইল রিজিয়নের অন্তর্গত ময়মনসিংহ ও সিলেট সেক্টরের সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন প্রতিরোধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসব অভিযানে ১৫ হাজার ঘনফুট পাথর ও ৬ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত আট মাসে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন দুর্যোগে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার রোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানুষের কল্যাণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এই নিরলস প্রচেষ্টা বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
