সাতক্ষীরার শ্যামনগরের শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বাস্তবে কোনো ছাত্রী না থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী। এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থাতেও শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সরজমিন বিদ্যালয়ে দেখা যায়, পুরো প্রতিষ্ঠান জুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা। একটা কক্ষে কয়েকজন শিক্ষক বসে ছিলেন এবং দুইজন-কর্মচারী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। তবে কোনো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি ছাত্রীশূন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকার পরও সরকারি সুবিধা কীভাবে নিচ্ছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আসা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আল আজাদের কাছে শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা রিপোর্ট করলেও আমাদের কিছু হবে না। তবে শিক্ষার্থী সংকট নিরসনে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময় বা যোগাযোগ করেন কিনা এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি হাতে-পায়ে ধরে শিক্ষার্থী আনতে পারবো না। ইংরেজি শিক্ষক মনোরঞ্জন কুমার, বাংলা শিক্ষক জাহিদ আলম ও সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক কাজল কুমার দেবনাথের অভিযোগ- প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে বিদ্যালয়টি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জব্বার পেয়াদা বলেন, শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে। তার দাবি, ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১লা জানুয়ারি ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পেলেও শিক্ষার্থী না থাকায় প্রতিষ্ঠানের মূল শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
