সৌদি আরবে হুতিদের আক্রমণ সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’র নিয়ম অনুযায়ী সৌদি আরবে হামলার প্রতিক্রিয়া সমানভাবে অনুভূত হওয়ার কথা জোটের সঙ্গী পাকিস্তান ও তুরস্কের। কারণ, মক্কা চুক্তিতে বলা হয়েছে এই চুক্তির আওতায় একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা জোটের অন্য দেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবে বিবেচ্য হবে। ফলে কয়েকদিন ধরে হামলা হওয়ার পর এবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বুধবার বলেছেন, পবিত্র নগরী মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, মক্কা চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। তিনি বলেন, পাকিস্তান এই চুক্তির আওতায় রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারবেন না। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে, সৌদি আরবের পক্ষে কি পাকিস্তান হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে? তুরস্কই বা কি করবে? যদি এই দুটি দেশ এই যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, গাজাকে কেন্দ্র করে যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তা আরও বিস্তৃতি লাভ করবে। বিষয়টি বিশ্বের জন্য মোটেই শুভ নয়। আবার সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ার পর যদি পাকিস্তান ও তুরস্ক তার পাশে না দাঁড়ায় তাহলে মক্কা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কথা উঠতে পারে। বিশেষ করে ইসলামের পবিত্র স্থাপনা, পবিত্র নগরী আক্রান্ত হলে সেক্ষেত্রে কোনো চুক্তির দিকে না তাকিয়ে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মুসলিমদের পবিত্র দায়িত্ব। তাই বুঝি খাজা আসিফ বলেন, পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য পাকিস্তানের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। মক্কার পবিত্র স্থান রক্ষা করা চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, পাকিস্তানের দায়িত্ব। খাজা আসিফ বলেন, মক্কায় হামলা হলে সেটিকে রক্ষার জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই।
সৌদি আরব জানানোর পর তিনি এসব মন্তব্য করেছেন যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের সামরিক জোটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। তার দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, আমাদের অভিযান তাদের (সৌদি আরবের) তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়, যেগুলো পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে।
এর আগে বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার প্রতি ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান রিয়াদের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়েছে। মক্কার পবিত্র স্থানের বিরুদ্ধে যাকে তিনি ‘জঘন্য ও ন্যক্কারজনক ড্রোন হামলার চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হুতিদের হামলা
মক্কার পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাকিস্তানের
মানবজমিন ডেস্ক
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ১২ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
