প্রথমবারের মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে’কে হেগে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) সশরীরে উপস্থিত করা হয়েছে। সেখানে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে তার বিচার প্রক্রিয়া চলমান। বুধবার এ সময়ে ৮১ বছর বয়সী দুতের্তে একটি কালো স্যুট এবং সাদা শার্ট পরেছিলেন। দেড় বছর আগে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর এটাই আদালতে তার প্রথম সশরীরে উপস্থিতি। এদিন তিনি কোনো কথা বলেননি। তবে পাবলিক গ্যালারিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। বুধবারের আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে ভিডিও লিঙ্ক মারফত। তারপর অনেক শুনানি এড়িয়ে গেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ে হাজার হাজার কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ আনা হযেছে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।
তারই বিচার হচ্ছে। তার আইনজীবী আদালতের কাছে আর্জি জানান যে, তার মক্কেলের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। এ জন্য তিনি বিচারের মুখোমুখি হতে পারছেন না। এই বলে এর আগের শুনানি এড়িয়ে যান তারা। এরপর বুধবার আইসিসি নতুন করে শুনানি করে। প্রথম ট্রায়াল তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০শে নভেম্বর।
উল্লেখ্য, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন দুতের্তে। এ সময় তার মূল কর্মসূচি ছিল মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তিনি যুক্তি দেন যে, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য প্রয়োজন শান্তি ও আইন শৃংখলা। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দুতের্তে দাভাও শহরের মেয়র ছিলেন। এটা দক্ষিণের মেট্রোপলিটন পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১১ সালের ১লা নভেম্বর থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের ১৬ই মার্চ পর্যন্ত যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার অধীনে সেগুলো আমলে নিচ্ছে আইসিসি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৬ই মার্চ আইসিসি থেকে ফিলিপাইনের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেন তিনি। সম্প্রতি তার আইনজীবী পিটার হাইনেস আদালতে বলেন, তার মক্কেল গুরুতরভাবে স্মৃতিভ্রংশ রোগে ভুগছেন।
এর ফলে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তবে প্রকিসিউটররা এ দাবিকে খণ্ডন করেছেন। এখন বিচারক যাচাই করে দেখছেন বিচার করার মতো মানসিক সুস্থতা দুতের্তের আছে কিনা। এটা নির্ধারণ করতে তিনজন মেডিকেল বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। এই বিশেষজ্ঞ দলের মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি। তবে বার্তা সংস্থা এএফপির মতো, বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দুতের্তে মনে করেন তিনি ২০০৭ বা ২০০৮ সালে বসবাস করছেন। তার বয়স ৮৪ বা ৮৫ বছর। এমনকি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নামও স্মরণ করতে পারছেন না।
বুধবার দুতের্তের এই বিচার প্রক্রিয়া ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
যেসব মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে, তাদের আত্মীয়-স্বজনরা ওই বিচার প্রত্যক্ষ করেন। তাদের একজন লোরে পাসকো। তার দুটি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং দেখে মনে হচ্ছে তিনি সুস্থ আছেন। এটা দেখেই আমাদের কাছে খুশি লাগছে। ২০১৭ সালে টিনেজ এক ভাতিজাকে হারিয়েছেন র্যান্ডি ডিলোস স্যান্তোস। তিনি এএফপি’কে বলেন, দুতের্তেকে আদালতে দেখে তিনি সন্তুষ্ট। তবে যেহেতু তিনি সুস্থ আছেন, তাই শুনানির গতি বাড়ানোর আশা করেন তিনি।
