আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সাইবার সুরক্ষা আইন: সংশোধনীর খসড়াতেও শঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হয়রানি ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধনীর একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। তবে খসড়ার কয়েকটি বিধান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অংশীজনেরা। তাঁরা বলছেন, এসব ধারা চূড়ান্ত হলে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হবে। আইনটির অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের শঙ্কাও রয়েছে।
সরকার বলছে, সংশোধনীর খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়ায় সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে একই কাঠামোয় আনা হয়েছে। এতে তিনটি ক্ষেত্রের কোনোটিই যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে অপব্যাখ্যার সুযোগ থাকে। এতে বাক্স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আইন সংশোধনের খসড়ায় গুজব ও অপতথ্য প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
গুজব বলতে অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবিকে বোঝানো হয়েছে। এমন তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। অপতথ্য বলতে মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি, প্রকাশ বা প্রচারের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, কোনো তথ্য দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এমন আশঙ্কা থাকলেও। ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো এবং জাতিগত সহিংসতার আশঙ্কার ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নির্দেশনা দেওয়া হলেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
কোনো তথ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য মানহানিকর হলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর তথ্যের ক্ষেত্রেও একই বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়ায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেলিং ও সেক্সটরশনকে অপরাধ হিসেবে রাখা হয়েছে। রয়েছে রিভেঞ্জ পর্নো ও ডিজিটাল শিশু নিপীড়নের বিষয়ও। বুলিং ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশের বিষয়ও শাস্তির আওতায় রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে লেখা, অডিও, ভিডিও, গ্রাফিকস ও স্থিরচিত্রের কথাও বলা হয়েছে। মিম বানানো আর মিম শেয়ার করার মধ্যে আইনে কোনো পার্থক্য টানা হয়নি।
বর্তমান আইনে ধারা ২৫-এ মূলত যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেল, রিভেঞ্জ পর্নো, সেক্সটরশন এবং শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদানসংক্রান্ত অপরাধের মধ্যে সীমিত।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে একই ধারায় ‘মানহানি’, হেয়প্রতিপন্ন করা এবং বুলিং যুক্ত করা হয়েছে।
হেয়প্রতিপন্ন করার সংজ্ঞাও বিস্তৃত। শব্দ, আচরণ, প্রকাশনা, অঙ্গভঙ্গি বা এমন কোনো কাজ, যা অন্য ব্যক্তির মর্যাদা, সম্মান, সুনাম বা সামাজিক অবস্থান কমিয়ে দেয় এবং অন্যদের কাছে তাকে অপমানিত বা অসম্মানিত হিসেবে তুলে ধরে; তা এর আওতায় পড়তে পারে। প্রস্তাবিত ধারা ২৫(১)-এ সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য প্রায়ই কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। বিরোধী রাজনীতিতে এমন বক্তব্য থাকে। সম্পাদকীয় কার্টুনেও থাকে। রাজনৈতিক বিতর্কেও থাকে। প্রতিবাদের স্লোগানেও থাকতে পারে। ২৫(১)-এর মাধ্যমে তাদের শাস্তির আওতায় আনা যাবে।
ধারা ২৭-এ বলা হয়েছে, শেয়ার করাই প্রচার। এবং সহায়তার শাস্তি মূল অপরাধের সমান। অর্থাৎ মিম যিনি বানালেন আর যিনি শেয়ার করলেন দুজনেরই একই শাস্তি। এআই-নির্মিত ও এডিটকৃত উপাদান আইনে সরাসরি নাম ধরে লেখা আছে। ব্যঙ্গ, প্যারোডি বা কার্টুনের জন্য কোনো ছাড় নেই।
বর্তমান আইনে কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে, তা জনসমক্ষে না প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি এই আইনের অধীনে অপরাধ করলে তার নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। প্রয়োজনে ওই কোম্পানির কার্যক্রমও স্থগিত করা যাবে। বর্তমান আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট বলেছে, এসব সংশোধনী অনলাইনে মুক্ত মতপ্রকাশের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বাড়াবে।
সংশোধনীর খসড়ায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কাউন্সিলের প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৮ সদস্যের কাউন্সিলে পাঁচজন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা থাকবেন। বেসরকারি পর্যায় থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবেন। তাঁদের মনোনীত করবে সরকার। কাউন্সিলের সদস্য এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়মুক্তির বিধানও রয়েছে।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের নেতৃত্বে কাউন্সিল হলে সরকারের প্রভাবই বেশি থাকবে। এতে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষ কাউন্সিল গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের এতে যুক্ত করতে হবে।
পুরোনো আইনের সঙ্গে যেসব মিল
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে দীর্ঘদিন সমালোচনা ছিল। বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগও উঠেছিল। ২০২৩ সালে ওই আইন বদলে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। পরে ২০২৫ সালে তা বাতিল করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হয়। পরে ৩০ জুন সংসদে এর একটি সংশোধনী পাস হয়। তখনই আইনটি আরও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সেই সংশোধনের খসড়া তৈরি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি) মন্ত্রণালয়ের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া তৈরির সময় পলিসি অ্যানালিস্ট ছিলেন বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব পলিসি ডায়নামিকসের নির্বাহী পরিচালক আসিফ শাহ্রিয়ার সুস্মিত। তিনি বলেন, ‘গত বছর সংস্কারের মধ্য দিয়ে যে জিনিসগুলোকে এড়ানোর জন্য আমরা নতুন করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ (এখন আইন) করেছিলাম, এখন সেগুলোর প্রায় সবই ফিরছে, কয়েকটা আগের চেয়ে বড় হয়ে।’ তিনি বলেন, খসড়ায় মানহানি আর ‘হেয়প্রতিপন্ন’ ঢোকানো হচ্ছে যৌন নিপীড়ন আর শিশু সুরক্ষার ধারার ভেতরে প্যাকেট করে। যদিও দণ্ডবিধির ১৮৬০-এ ইতিমধ্যে মানহানির ধারা রয়েছে। হেয়প্রতিপন্নের সংজ্ঞায় ‘ইঙ্গিত’ও আছে; আছে ‘প্রকাশ’ বা সহায়তায় সমান দণ্ড। মানে সমালোচনা মাত্রই অফেন্স, রিয়্যাক্ট-শেয়ার দিলেও জেল। তথ্য মিথ্যা না হলেও পড়তে পারে ‘গুজব-অপতথ্য’র আওতায়, শাস্তি ১০ বছর। বিচারের এখতিয়ার পাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। যেখানে উচ্চ আদালতের বিধান অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত অসাংবিধানিক।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারা নিয়ে ব্যাপক অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল, সেগুলোর কিছু নতুন খসড়ায় আবার দেখা যাচ্ছে; যা উদ্বেগজনক।
সরকারকে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক এই সংগঠন মনে করে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ‘যাচাই করা হয়নি’ বলে বিবেচিত সংবাদ প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনে গত মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, গত দুই বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে গালিগালাজের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডে পরিণত করা হয়েছে। গালিগালাজ সভ্য বিষয় নয় এবং সমাজও তা সমর্থন করে না। এমনকি টকশোতেও গালিগালাজ করা হয়। তাই এই বিষয়গুলো সাইবার সুরক্ষা আইনে থাকা উচিত। আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে কেউ নিপীড়িত হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
প্রথম আলো
‘এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা কম’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করলেও এ বছর ভোট হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা, এরপর রমজান ও এসএসসি পরীক্ষার সময় বিবেচনায় আগামী মের আগে নির্বাচন আয়োজনের কম সম্ভাবনা দেখছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা তাঁদের মতামত ও প্রস্তুতির অবস্থা তুলে ধরবেন। সবার মতামত পাওয়ার পর কখন নির্বাচন করা সম্ভব, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সভায় আলোচনার আগে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের কথা বলা ঠিক হবে না।
এদিকে ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার প্রস্তুতিমূলক সভা ডাকা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থার কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভোটের সময় নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও প্রস্তুতির বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনের কারণে এতে ব্যাঘাত ঘটুক, তা সরকার চায় না। চলতি বছরের শেষ ভাগ এবং আগামী বছরের প্রথম কয়েক মাসের পরীক্ষা, রমজান ও ঈদের সময় মিলিয়ে ভোটের উপযুক্ত সময় বিবেচনা করার জন্য আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রস্তাব আসতে পারে।
ইসি ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। পরে ইসি সচিবালয়ও ব্যাখ্যা দিয়েছে, তারিখগুলো একেবারেই প্রাথমিক; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, শুধু ভোটের দিন পরীক্ষার বাইরে রাখলেই হবে না, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজনের সময়ও বিবেচনায় নিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে এ সময়ে ভোট আয়োজনের পক্ষে নয় সরকার-সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।
এরপর আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতরের সম্ভাবনা ধরে সময় বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। রমজান ও ঈদের সময়ও নির্বাচন করতে চায় না সরকার।
ঈদের পরপরই রয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৪ মার্চ পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এর আগে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। পরীক্ষার এ সময়েও ভোট আয়োজনের পক্ষে নয় সরকার। এসব বিবেচনায় আগামী মে মাসের আগে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে মে মাসেই ভোট হবে—এমন সিদ্ধান্তও হয়নি। আজকের সভায় মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত পাওয়ার পর সম্ভাব্য সময় নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘হচ্ছে আরও তিন মেট্রোরেল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আনতে তিন মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পসহ ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং বাকি টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (লাইন-৫) : সাউদার্ন রুট, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (লাইন-৫) : নর্দার্ন রুটের প্রথম সংশোধন, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (লাইন-১)-এর প্রথম সংশোধন, রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কগুলো মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (তৃতীয় পর্যায়)।
তিন মেট্রোরেলের মধ্যে নতুন প্রকল্প হিসাবে অনুমোদন পেয়েছে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ঢাকা ও এর চারপাশ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জাপানি অর্থায়নে বাস্তবায়িত দুটি মেট্রোরেলের তড়িঘড়ি অনুমোদনের ব্যাপারে তিনি বলেন, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণের সুদের হার এ মাসের পর ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আরও ছয় মাস গেলে এই হার সাড়ে ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ কারণে জাপানের ঋণনির্ভর মেট্রোর দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, দেশে নিজেদের মেট্রোরেল তৈরি করার সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। জাপানও এর চেয়ে কম ব্যয়ে মেট্রোরেল তৈরি করতে পারবে না। কারিগরি কমিটি প্রকল্পগুলোর ব্যয় খতিয়ে দেখেছে। মেট্রোরেলের গুণগত মান ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সেবার মান এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের শর্তপালন নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাতাল অংশে কাজ করার সময় ওপরের বাড়িঘর বা স্থাপনায় কোনো ফাটল বা ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি তিন বছর মেরামতের দায়িত্বও তাদের পালন করতে হবে।
পাতাল রেলপথের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকায় বর্তমানে যে পরিমাণ জনসংখ্যা রয়েছে, তাদের চলাচলের জন্য বড় অংশ ভূগর্ভে নেওয়া না গেলে যানজট ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এটি গণপরিবহণ হিসাবে নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নানা সুবিধা তৈরি করবে।
মেট্রোরেলের কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের হিসাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে প্রায় ৪১ হাজার টন তেল সাশ্রয় হবে। যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার কমে আসবে। মানুষের কর্মঘণ্টা ও শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও এর ভূমিকা থাকবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে বৈদ্যুতিক ট্রাকশন চালু এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালে এই রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধন এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘সার ঘাটতি নেই, সংকট তদারকিতে’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে সারের ঘাটতি নেই। বরং আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় সরকারি মজুদ প্রায় ১৬ লাখ টন বেশি।
এর পরও আমন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। কোথাও চাহিদামতো সার মিলছে না, আবার কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় সার মজুদ করে সংকট তৈরির ঘটনাও ধরা পড়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সারের সম্ভাব্য চাহিদা ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন।
এর বিপরীতে সরকারি মজুদ রয়েছে ৫১ লাখ ৮৩ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন সার বেশি রয়েছে। তার পরও মাঠে সংকট কেন—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকার এবং ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন বলছে, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি সিন্ডিকেট। আর এ বিষয়ে গোয়ন্দা সংস্থাও কাজ করছে।
তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন বিতরণের শেষ ধাপের ব্যবস্থাপনা, ডিলারদের অনিশ্চয়তা, সমন্বয়হীন মনিটরিং এবং দুর্বল নজরদারি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ডিলারনীতি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণের জটিলতা।
মজুদ আছে, মাঠেও যাচ্ছে, কৃষকদের হাতে পৌঁছাতেই সংকট : সার বিতরণব্যবস্থায় তৈরি হওয়া জটিলতার কারণে একদিকে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ডিলারের গুদামে সার না থাকলেও অন্যত্র অতিরিক্ত দামে সেই সার বিক্রির অভিযোগ উঠছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে জেলার চাহিদার ভিত্তিতে ৭৭ হাজার ৬৪০ টন নন-ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৬ টন। আর অক্টোবর মাসের চাহিদা ধরা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ১৯০ টন। এর মধ্যে বিএডিসি এক লাখ ৪৬ হাজার ১৯০ টন এবং বিসিআইসি সাত হাজার টন সার দেবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় অক্টোবরের বরাদ্দকৃত টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার বিধি অনুযায়ী ডিলারদের মধ্যে উপবরাদ্দ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দ পাওয়া ডিলারদের মাসের ৭ তারিখের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে সার উত্তোলন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিতে পুরনো ডিলারদের অনিশ্চয়তা: সারসংকটের পেছনে নতুন ডিলারনীতি বাস্তবায়নের প্রভাবও দেখছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আমন মৌসুমে সারের চাহিদা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই ডিলার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মাঠে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। অভিযোগ উঠেছে, পুরনো ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় কোনো কোনো ডিলার সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছেন বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন। তবে নতুন নীতিমালায় যোগ্য পুরনো ডিলারদের বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ও বিদ্যমান রাসায়নিক সার খুচরা বিক্রেতাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু নীতির পরিবর্তন এবং মাঠ পর্যায়ে তার বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা। এর সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি অংশ।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প পাস, আগের দুটির ব্যয় দ্বিগুণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মেট্রোরেলপথের দুই প্রকল্পের ব্যয় ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা বৃদ্ধিতে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা ২০১৯ সালে নির্ধারিত ব্যয়ে রাজি না হওয়ায় গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাপানের নানা শর্তে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্প দুটির অগ্রগতি স্থগিত করে বিকল্প অর্থায়ন সন্ধান করতে চেয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার জাপানের ঋণে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে প্রকল্প দুটির ব্যয় ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। পাতাল ও উড়ালপথের প্রকল্প দুটিতে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প দুটির মেয়াদও সাত বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে একনেক।
গতকাল একনেকের একই সভায় রাজধানীর গাবতলী থেকে আসাদগেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল (এমআরটি-৫ দক্ষিণ) প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা।
২০১৯ সালে অনুমোদনের সময় ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর-পূর্বাচল-কমলাপুর মেট্রোর (এমআরটি-১) ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা বাড়ানোর পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়াল ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। ব্যয় রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে এমআরটি-১ চালুর পরিকল্পনা ছিল। গতকাল প্রকল্পটির মেয়াদ সাত বছর বাড়িয়ে ২০৩৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১৯ সালে অনুমোদনের সময় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আমিনবাজার-গাবতলী-মিরপুর-ভাটারা মেট্রোর (এমআরটি-৫ উত্তর) ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। একনেকে ৪৮ হাজার ৬১০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ৮৯ হাজার ৮৪৮ টাকা। এই প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সংশোধনীতে মেয়াদ ৬ বছর বাড়িয়ে ২০৩৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২০ সালে এমআরটি-১ এবং এমআরটি-৫ নর্থ প্রকল্পের ঋণচুক্তি শুরুর সময়ে জাইকার ঋণের সুদ ছিল দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে জাপান ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বর্তমানে এই হার ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আগামী মাসে তা হতে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
সুদহার বৃদ্ধির আগেই জাপানের ঋণের প্রকল্প দুটি অনুমোদন করা হয়েছে বলে একনেক সভার পর জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। লাইন-১ ও লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প দুটি একনেক বৈঠকের কার্যতালিকায় না থাকার পরও কেন এবং কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হলো– এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প দুটিতে কারিগরি ও ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাইকা। আগামী মাসে জাইকার ঋণের হার আবার বাড়বে। নতুন করে ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ার আগেই সংশোধন অনুমোদিত হলে বর্ধিত সুদ এড়ানো যাবে। এই চিন্তা থেকেই দেশের স্বার্থে দ্রুত প্রকল্প দুটি একনেকে তোলা হয়েছে।
প্রকল্প দুটিতে অস্বাভাবিক বেশি ব্যয় কেন ধরা হলো– এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প দুটিতে অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। এ কারণে বর্তমান সরকার গঠনের পরই প্রকল্প দুটির ব্যয় মূল্যায়নে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ব্যয়ের খাত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই বাড়তি ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ লাভজনক হবে কিনা– প্রশ্ন রয়েছে। জাইকার ঋণে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকায় মিরপুর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল (এমআরটি-৬) নির্মাণ চলছে। এ প্রকল্পের শুরুতে ব্যয় নির্ধারিত হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি ডিএমটিসিএলকে বছরে ৭০০ কোটি টাকার মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। অথচ অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী এমআরটি-৬ লাইনে যাত্রী পরিবহন করে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। বেতন-ভাতা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ খরচ দিতে হচ্ছে সরকারের ভর্তুকি থেকে। সরকার ভর্তুকি প্রত্যাহার করলে কয়েক গুণ হয়ে যাবে মেট্রোরেলের ভাড়া।
জাপানের ঋণের প্রকল্পে ব্যয় বেশি হলেও কাজের মান ভালো হয়– এমন ধারণা প্রচলিত। তবে মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পের ৪৬টি পিলারে ফাটল ও ২৭টি বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এগুলো নির্মাণ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান।
ইত্তেফাক
‘আড়াই লাখ কোটি টাকায় হবে তিন মেট্রোরেল’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মেট্রোরেলের তিন প্রকল্প একসঙ্গে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। তিন প্রকল্পের মধ্যে দুটি হলো—জাপানের অর্থায়নে মেট্রোরেল লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব। অন্য প্রকল্পটি হলো—এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প। তিন মেট্রোরেলসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গতকাল বুধবার মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প সাতটি ও সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মেট্রোরেল প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করেন।
জানা গেছে,গতকাল বুধবার একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে এই প্রকল্পের সঙ্গে জাপানের অর্থায়নের সংশোধিত দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাপানের অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। জাপানের অর্থায়নের ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ১৩.১০ কিলোমিটার আন্ডরগ্রাউন্ডসহ ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪ শতাংশ। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এমআরটি করিডোর নির্মাণ ও চালু করা।
শিগিগর আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট)। প্রকল্পের সবকিছু মোটামুটি প্রস্তুত। রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এ মেট্রোলাইন। হাতিরঝিল অংশের লাইন যাবে টানেল দিয়ে। আফতাবনগর থেকে বাকিটা হবে উড়াল। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা যৌথভাবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (ইডিসিএফ)। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর ‘দেশে জ্বালানি আমদানিতে সংকট নেই, ব্যয় বৃদ্ধির বড় ঝুঁকি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের বাজারে তেল রফতানি স্থগিত কিংবা কার্গো সরবরাহ বাতিল করলেও বাংলাদেশ সরবরাহ বন্ধ-সংক্রান্ত কোনো বার্তা নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউরোপের কয়েকটি রিফাইনারিতে নির্ধারিত তেল সরবরাহ বাতিল হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য এখনই সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখছে না জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং পরিবহন রুটের ঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বৃহৎ জ্বালানি তেলের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউরোপের তেল পরিশোধনাগারগুলোতে তেল রফতানি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইউরোপের রিফাইনারিগুলোর জন্য সেপ্টেম্বরে সরবরাহের শিডিউল থাকা বেশকিছু কার্গো এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় ফিউচার মার্কেটে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের বেশিতে ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি আরো অবনতি হলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট এশিয়ার বাজারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণের পূর্বাভাস দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো।
ইউরোপের বাজারে তেল রফতানি স্থগিত কিংবা কার্গো সরবরাহ বাতিল করলেও বাংলাদেশ সরবরাহ বন্ধ-সংক্রান্ত কোনো বার্তা নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা। বরং অপরিশোধিত জ্বালানি যে পরিমাণ আমদানি করা হয়েছে তা দিয়ে আগামী চার মাস কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্ম সচিব) মনির হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সৌদি জ্বালানি সংকটে আমাদের আমদানি বন্ধ-সংক্রান্ত কোনো বার্তা নেই। আমরা জ্বালানি তেলের বড় অংশ এ অঞ্চল অর্থাৎ চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে সংগ্রহ করি। সৌদি থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করি। এখন পর্যন্ত দুটো জাহাজ আমাদের স্টক রয়েছে, যা দিয়ে আগামী চার মাস ক্রুডের কোনো সমস্যা হবে না। এদিক থেকে আমরা নিশ্চিত রয়েছি।’
সৌদি আরবের তেল সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুমকি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে তা জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
এরই মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস খুঁজছে বিপিসি। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনাও করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের উপযোগী চারটি দেশের অপরিশোধিত তেল চিহ্নিত করেছে বিপিসি। নাইজেরিয়ার ‘বনি ক্রুড’, মালয়েশিয়ার ‘মালয়েশিয়ান ব্লেন্ড’, নরওয়ের ‘আলভহেইম ব্লেন্ড’ এবং আলজেরিয়ার অপরিশোধিত তেলের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়েছে। বিপিসি জানিয়েছে, বিদ্যমান শোধনাগার সুবিধা ব্যবহার করেই এসব অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা সম্ভব। গত এপ্রিলে ইস্টার্ন রিফাইনারি নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন বিপিসির কাছে জমা দেয়।
দেশে প্রতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন। যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় ১৪-১৫ লাখ টন। দুটি দেশ থেকে এ তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মারবান ক্রুড’। এ দুই ধরনের অপরিশোধিত তেল থেকে ডিজেল, বিটুমিন ও পেট্রলসহ ১৩ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি হয় দেশের রিফাইনারিতে।
বিপিসির নতুন চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবে না। সেই সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎসগুলোর সঙ্গে বিপিসি এরই মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে।’
দেশ রূপান্তর
‘কয়লা তুলতে চায় সরকার, পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কয়লা তোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে পরিবেশবাদী এবং খনি এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার মনে করছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলার অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে দেশীয় কয়লা উত্তোলন। অন্যদিকে পরিবেশবাদী এবং খনি এলাকার মানুষ মনে করছে, এতে বিপুল পরিমাণ মানুষ যেমন উচ্ছেদ হবে, ঠিক একইভাবে খনি এলাকার প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস হবে।
দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। ব্যবহৃত জ্বালানির অন্তত ৭০ ভাগ আমদানিনির্ভর। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, প্রাপ্যতা এবং ডলার সংকটে জ্বালানির জোগান নিশ্চিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন এককভাবে গ্যাসনির্ভর। কিন্তু গত ১০ বছরে স্থলভাগের গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। দেশে আর কোনো বড় খনি পাওয়ার আশাও দেখছে না পেট্রোবাংলা। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে সরকার কয়লাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশীয় কয়লাখনির উত্তোলন বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়লা তোলার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কাজ শুরু হয়নি। সম্প্রতি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বড়পুকুরিয়ায় গিয়েছিলেন। এর উত্তরে খনি সম্প্রসারণের বিষয়ে আগে থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা এখন জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করছি। তবে এখানে বড় সমস্যা হচ্ছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে প্রভাবশালীরা সব জমি কিনে নিয়েছেন। এখন তারা সরকারের কাছে তিনগুণ দামে এই জমি বিক্রি করবে।
পেট্রোবাংলার ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কয়লার মোট মজুদ প্রায় ৭ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মেট্রিক টন। তবে মজুদের পুরোটা উত্তোলনযোগ্য নয়। ধারণার ওপর ভিত্তি করে উত্তোলনযোগ্য কয়লা কতটুকু তা নিয়ে নানা সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে পেট্রোবাংলা। আবার উন্মুক্ত খনন না ভূগর্ভস্থ খনি পদ্ধতির কোন প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করা হবে, তা নির্ধারণ হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো সমীক্ষাই হয়নি অনেক জায়গার।
এমনকি ২০১৬ সাল থেকে দেশের একমাত্র কয়লাখনি বড়পুকুরিয়ার উত্তরে একটি উন্মুক্ত খনি করা যায় কি না, সেই আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনো বড়পুকুরিয়া খনি কোম্পানি উন্মুক্ত খনি সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সমীক্ষাই শেষ করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে জানান, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ফুলবাড়ীর উচ্চমানের কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ ধরনের কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ধরে জ্বালানি বিভাগ এবং পেট্রোবাংলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়াই শুরু করেনি সরকার। তবে এর মধ্যে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বড়পুকুরিয়া খনি এলাকা পরিদর্শন করেন।
অন্যদিকে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ৭ সেপ্টেম্বর জানান, বড়পুকুরিয়ার দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াটের একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সবকিছু মিলিয়ে সরকার কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত বলে মনে করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা তাদের প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদনে বলেছে, দেশে মোট ৫টি কয়লাখনি আছে। এই খনিগুলো দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দিঘীপাড়া, রংপুরের খালাসপীর এবং জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার জামালগঞ্জ কয়লাখনি। এর মধ্যে একমাত্র বড়পুকুরিয়া থেকে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন এক থেকে তিন হাজার টন কয়লা তোলা হয়। এই কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করা হয়। তবে এই খনির কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫৩৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্র একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয় না। নতুন করে এখানে কয়লা তোলা না হলে কোনো কেন্দ্র নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে কয়লা তোলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খনির গভীরতা। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়ার খনিতে কয়লা রয়েছে ১১৮ থেকে ৫০৯ মিটার গভীরতায়। ফুলবাড়ীতে ১৫০ থেকে ২৭০ মিটার, খালাসপীরে ২৩৯ থেকে ৪৮৫ মিটার গভীরতায়, জামালগঞ্জে ৬৪০ থেকে ১ হাজার ১৫৮ মিটার এবং দীঘিপাড়ায় ৩২০ থেকে ৫০৬ মিটার গভীরতায় কয়লা রয়েছে। এত গভীরতায় উন্মুক্ত খনন করতে হলে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এখানে ফসলি জমির পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। এখন আমাদের খনিজের মধ্যে রয়েছে কয়লা। আমাদের একটি বাস্তবসম্মত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে হবে। সবার আগে একটি গ্রহণযোগ্য সমীক্ষা প্রয়োজন। ওই এলাকা থেকে খনন করার সময়জুড়ে কী পরিমাণ ফসল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে কী পরিমাণ কয়লা পাওয়া যাবে। দুটোর হিসাবে যদি মনে হয় কয়লা বেশি পাওয়া যাবে, তাহলে কেন আমরা কয়লা তুলব না। কিন্তু সবার আগে ওই এলাকার মানুষের মতামত নিতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের গ্যাস ২০৩০ সালের পর শেষ হয়ে যাবে। এরপর যদি কয়লা দিয়ে আরও ২০ বছর চালানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। এই সময়ে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার একটি পথ বের করতে হবে। কয়লাখনি করার পর ওই এলাকা যদি আবার মাটি দিয়ে ভরে দেওয়া যায়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যে আবার ফসল ফলানো সম্ভব হতে পারে।
বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় কয়লা প্রকল্প ঘিরে রক্তাক্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ২০০৬ সালে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ী। ওই বছরের ২৬ আগস্ট এশিয়া এনার্জির প্রস্তাবিত কয়লা প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের বিশাল সমাবেশে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) গুলি চালালে তিনজন নিহত হন। আহত হন অন্তত দুই শতাধিক আন্দোলনকারী। ওই ঘটনার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ফুলবাড়ীর বাইরেও। পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর, বিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে ওই বছরের ৩০ আগস্ট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতায় আসে তৎকালীন সরকার। স্বাক্ষরিত হয় বহুল আলোচিত ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’, যার মাধ্যমে ফুলবাড়ীর কয়লা প্রকল্প নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘পাঁচ ধাপে ভোট চায় বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে চায় সরকারি দল বিএনপি। সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের কথা না বললেও চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ধাপ শুরু করে তা আগামী বছরের মার্চে শেষ করার পক্ষে দলটি।
জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এটাই নিয়ম। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পাদন করার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে অনেক বিষয় আছে। তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া ভালো। তিনি বলেন, ‘আশা করি, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্বের সৃষ্টি হবে না।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল। এ ঘোষণার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে পরদিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করেই ইসি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না। প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও ইসির মতদ্বৈততা প্রকাশ পেয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি কখন কীভাবে নির্বাচন চায়।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, পাঁচ ধাপে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে পাঁচ ধাপে নির্বাচনের বিষয়ে মতামত দেন অধিকাংশ সদস্য। এতে দলের হাইকমান্ডও একমত। দলটির পরিকল্পনা, চলতি বছরের শেষদিকে নির্বাচন শুরু করে আগামী বছর মার্চের মধ্যে সব ধাপের ভোট গ্রহণ শেষ করা।
বিএনপির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য শুধু ভোটের সময়সূচির বিষয় নয়। এটি দলের তৃণমূল সংগঠন ও প্রার্থী ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও যুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন-স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকলে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা, প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনি জোট বা সমঝোতার বিষয়ও সামনে আসবে। এ কারণে বিএনপির পাঁচ ধাপের প্রস্তাবের সঙ্গে শুধু ভোট দ্রুত শেষ করার বিষয়টি নয়, দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতির প্রশ্নও যুক্ত রয়েছে।
দলীয় নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের জন্য সঠিক সময় না পেলে দলের ভিতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাঁচ ধাপে নির্বাচন হলে দল প্রতিটি ধাপের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বাছাই করার পর্যাপ্ত সময় পাবে। বিএনপি মনে করে, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলো ভেঙে পড়েছিল এবং বর্তমানে অনেক জায়গায় প্রশাসকদের মাধ্যমে কাজ চলছে। পাঁচ ধাপে ধীরে ধীরে নির্বাচন সম্পন্ন করলে মাঠপর্যায়ে একটি স্বাভাবিক ও সর্বজনগ্রাহ্য রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
বিএনপি মনে করে, পাঁচ ধাপে নির্বাচন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি রাখা এবং নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখা সহজ হবে। এতে সরকারের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ফুটে উঠবে। প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের ফলাফল ও মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ধাপগুলোতে কৌশল নির্ধারণ করা সহজ হবে।
সহযোগীদের খবর
সাইবার সুরক্ষা আইন: সংশোধনীর খসড়াতেও শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ০৪ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
