প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি নিরাপত্তা, জীবনদক্ষতা ও বাস্তব জ্ঞান শেখাতে কারিকুলামে বছরজুড়ে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন করে কারিকুলাম সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট থিমকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ সাজানো হবে। সংশ্লিষ্ট মাসের বাংলা, গণিতসহ অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও ওই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ, সংখ্যা, প্রশ্ন ও আলোচনা যুক্ত করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিকের একজন শিক্ষার্থী শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন করবে না, কীভাবে নিরাপদ থাকতে হয়, দায়িত্বশীলভাবে জীবন পরিচালনা করতে হয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলাতে হয়, সে বাস্তব জীবনদক্ষতাও শিখবে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট’- প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবে এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে শিখবে। এজন্য শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনদক্ষতা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো মাসে যদি অগ্নিনিরাপত্তা থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও অগ্নিনিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট উদাহরণ ও আলোচনা যুক্ত করা যেতে পারে। একইভাবে সড়ক নিরাপত্তা, পানিতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বিষয় পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব পেতে পারে। এর ফলে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির সম্পর্ক তৈরি হবে।
তবে ১২টি থিমের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জীবনঘনিষ্ঠ এসব থিমে শিশুদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সচেতনতা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় ও দায়িত্বশীল আচরণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানের চেয়ে ভালো ব্যবস্থা করেছে, তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবে। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শুধু নিয়ন্ত্রক নয়, অংশীদার হিসেবেও কাজ করতে চায়। ভালো উদ্যোগগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
