এবারের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১)-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, সৌরশক্তি, এলএনজি পরিবহন ও অবকাঠামোসহ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৃথক দু’টি বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। দেশটির জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারসলান বায়রাকতার এবং তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হকের মধ্যে বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়।
একই দিনে বাংলাদেশের দূতাবাসের উপ-প্রধান ড. শাহানূর আলমের সঙ্গে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক ড. আলী এরহান ইলমাজের বৈঠকে কপ-৩১ ও জলবায়ু সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে। তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আমন্ত্রণপত্র তার হাতে তুলে দেন রাষ্ট্রদূত আমানুল হক। এতে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বায়রাকতার চলতি বছরেই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের খসড়াও হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সম্ভাব্য সুযোগে স্বাক্ষরের জন্য সমঝোতা স্মারকটি প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন তুরস্কের মন্ত্রী। অন্যদিকে, কপ-৩১ সামনে রেখে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী ৯ থেকে ২০শে নভেম্বর আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ, অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকার সম্মেলনে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বৈঠকে কপ-৩১ এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সম্মেলনের আগে ও সম্মেলন চলাকালে জলবায়ু কূটনীতিতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
এ প্রেক্ষাপটে কপ-৩১ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপমন্ত্রী ফাতমা ভারাঙ্কসহ তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তুরস্কের পক্ষ থেকে উন্নয়নশীল ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব মোকাবিলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়। কপ-৩১ এর আগে তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানানো হয়। জ্বালানি ও জলবায়ু বিষয়ে পৃথক দুই বৈঠকে দুই দেশের বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও উঠে আসে।
