সিলেটে বৈঠকে হুইপ গউছ’র কঠোর নির্দেশনা

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ। হবিগঞ্জের এমপি। সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তিনি। গতকাল সিলেটের এমপি, প্রশাসনের সঙ্গে করেছেন প্রথম বৈঠক। আর এ বৈঠকেই তিনি কঠোর নির্দেশনা দিলেন। বললেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কোনো ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এজন্য প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে মূল আলোচনায় উঠে আসে মাদকের বিষয়টি। যেটি নিয়ে ক’দিন আগে সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদিরের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের বৈঠকে উঠে এসেছিলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যানই বলছে; সিলেটে অপরাধের পেছনের কারণ মাদক।

এ পর্যন্ত যে ক’টি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় সবক’টির নেপথ্যে মাদকসেবনকারী চিহ্নিত অপরাধীদের সম্পৃক্ততা মিলেছে। নগরের কীনব্রিজের কাছে র‌্যাব সদস্য হত্যা, মিতালী আবাসিক এলাকায় তিন খুন, শাহপরান এলাকায় ব্যবসায়ী খুনসহ নানা ঘটনার ঘটনাকারীরা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। একইসঙ্গে নগর জুড়ে যারা ছিনতাই, রাহাজানি ও চাঁদাবাজি করে বেড়ায় তাদের বেশির ভাগই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। হুইপ জিকে গউছ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। হুইপ মানবজমিনকে জানান- মাদক বিক্রির পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাদের তালিকা প্রস্তুত করে অ্যাকশনে যাওয়ার কথা বলেছেন বলে জানান। তিনি জানিয়েছেন- বর্তমান সরকার মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথভাবে এই আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। অপরাধের নেপথ্যে যখন মাদক সুতরাং মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে জানান তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই বৈঠকে সিলেট-২ আসনের এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিক, সিলেট-৫ আসনের এমপি আবুল হাসান, সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনাসহ সমন্বয় সভা হয়েছে এটি।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন- নগরের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নগরের মানুষের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় ও নগর ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। যেসব বিষয় উঠে এসেছে সেগুলোর বিষয়ে আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে বৈঠকে সিলেটের সার ব্যবস্থাপনা, ফ্যামেলি কার্ডের তালিকা প্রণয়ন, আসন্ন দুর্গাপূজায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিদ্যুতের লোডশেডিং কমিয়ে আনা, উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান হুইপ জিকে গউছ জানিয়েছেন- সিলেটে সারের কোনো সংকট নেই। তবে পাচার, মজুত ও কালোবাজারিদের লাগাম টেনে ধরতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।