অস্থিরতা ভুলে চীন-বধের মিশনে ‘অসুখী’ টাইগ্রেসরা

অস্থিরতা ভুলে চীন-বধের মিশনে ‘অসুখী’ টাইগ্রেসরা

ফন্ট সাইজ:

এশিয়া কাপের ব্যর্থতার ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। তার ওপর টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। এশিয়ান গেমসের পর আর টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিতে চান না এই উইকেটকিপার ব্যাটার। সবমিলিয়ে দলের ভেতর-বাইরে চলছে এক ধরনের অস্থিরতা। সেই অস্থিরতার ছাপ পড়েছে ক্রিকেটারদের আচরণেও। একে অপরের সঙ্গে কথাবার্তা কম, অনুশীলনে নেই চেনা খুনসুটি। পুরো দলে যেন একটা থমথমে আবহ। এর মধ্যেই সামনে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট। আজ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের মিশন। প্রতিপক্ষ চীন তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট খেলতে এসেছে। অভিজ্ঞতা ও শক্তিমত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে তারা। তাই চীনকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি সেমিফাইনালের পথটাও সহজ করতে চায় বাংলাদেশ।

গতকাল জাপানে আসার পর প্রথমবার অনুশীলনে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের মতো গুমটভাব নাগোয়ার আবহাওয়াতেও। সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে কোরোগি স্পোর্টস পার্কের মূল ক্রিকেট মাঠে অনুশীলনের সুযোগ হয়নি। পার্কের পাশের ফুটবল মাঠেই সেরে নিতে হয়েছে প্রস্তুতি। ব্যাট-বলের চেয়ে ফিটনেস ট্রেনিংয়েই বেশি সময় কাটিয়েছেন জ্যোতিরা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অনুশীলন নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে মাঠের বাইরের অস্বস্তিটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার কোনো উন্নতি চোখে পড়েনি। সেই একশো কিংবা ১২০ রানের পুরোনো বৃত্তেই আটকে আছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার মতো রান তোলার সামর্থ্য এখনো তৈরি হয়নি। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এশিয়া কাপের ওই সেমিফাইনালের পর মাঠের আচরণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ম্যাচ শেষে ভারতের অধিনায়কের সঙ্গে জ্যোতির হাত না মেলানোর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু। তার ভাষায়, বাংলাদেশের নীতি সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি মেনে চলা। কেন এমনটা হয়েছিল, এশিয়ান গেমস শেষে অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলেই তা জানতে চান তিনি। তবে এসব আলোচনা আপাতত পাশে সরিয়ে রাখতে চাইছেন সুবহানা মুশতারী। চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এই ব্যাটার। অনুশীলন শেষে তিনি বলেন, আগের এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছি। এবারও সেই লক্ষ্য নিয়েই জাপানে এসেছি। আর সেই পথে চীনের বিপক্ষে জয় দিয়েই শুরু করতে চাই। হাংজু এশিয়ান গেমসের স্মৃতিও বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণার। কোয়ার্টার ফাইনালে হংকংকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।

সেখানে ভারতের কাছে হেরে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন শেষ হলেও ব্রোঞ্জের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে পদক নিয়ে ফিরেছিল জ্যোতির দল। এবারও চীনকে টপকাতে পারলে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। অর্থাৎ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের ক্ষত শুকানোর আগেই আবারও সামনে আসতে পারে সেই ভারত। তার আগে অবশ্য চীন বাধা। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ কতটা চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলতে পারে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ এশিয়া কাপের ব্যর্থতা এবং নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনার প্রভাব যেন মেয়েদের পারফরম্যান্সে না পড়ে, সেটিই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান চিন্তা।

এ কারণেই চীনের ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চান না রফিকুল ইসলাম বাবু। এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পরই তিনি বলেছিলেন, নারী দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে। তবে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে এশিয়ান গেমসের পর। গেমসে মেয়েদের শেষবারের মতো দেখে নিতে চান তারা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও একটি অচেনা চ্যালেঞ্জ- কোরোগি স্পোর্টস পার্কের মাঠ। নাগোয়া থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নিশিন সিটিতে তৈরি করা হয়েছে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

মাত্র দুই হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠ বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে একেবারেই অপরিচিত। গেমস শুরুর আগে এখানে হয়েছে মাত্র একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। ফলে উইকেট ও মাঠের আচরণ নিয়ে খুব বেশি জানা নেই জ্যোতিদের। এশিয়া কাপের হতাশা, নেতৃত্ব নিয়ে অস্থিরতা, দলের ভেতরের চাপ-সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন যেন নিজেদের সঙ্গেই লড়ছে। সেই লড়াইয়ের প্রথম পরীক্ষা আজ চীনের বিপক্ষে। শক্তির বিচারে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও মাঠে তার প্রমাণ দিতে হবে ব্যাট-বলেই। বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি ফিরবে দলের মধ্যে। আর সেই স্বস্তিই হতে পারে নতুন করে পদকের স্বপ্ন দেখার প্রথম ধাপ।