দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করতে চায় বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস ফুটবল

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করতে চায় বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান কোচ পিটার বাটলার। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের বেঞ্চে বসিয়ে রেখে শুরুর একাদশ সাজান এ বৃটিশ কোচ। ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়ররা বেঞ্চে বসে সতীর্থদের অসহায়ত্ব দেখেন। এবার আরেক কোরিয়ার সামনে সামনে লাল-সবুজ মেয়েরা। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দুপুর ১টায় দক্ষিণ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চায় পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সিনিয়র ফুটবলারদের অনুপস্থিতিতে তরুণরা নজর কাড়তে পারেননি। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জুনিয়র ফুটবলারদের বাজিয়ে দেয়ার পরীক্ষায় ফেল বাংলাদেশ কোচ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সহকারী কোচ আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি যে আমরা ভালো শুরু করতে পারিনি। তবে আমাদের সামনে এখনও দুটি ম্যাচ রয়েছে। আমাদের ভালো করার জায়গা আছে। আশা করি, মেয়েরা পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে গতকাল সকালে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে জে-গ্রিন সাকাই স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিতে প্রস্তুতি সারে বাংলাদেশ নারী দল।

অনুশীলনে রক্ষণভাগের উপর বিশেষ জোর দেন বাটলার। চীনে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পাওয়া নবিরন খাতুন ছাড়া দলের বাকি সবাই পুরোপুরি ফিট রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে সহকারি কোচ বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ দেখেছি এবং বিশ্লেষণ করেছি। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলার ধরন প্রায় একই রকম। সেই অনুযায়ী আমরা কৌশল সাজিয়েছি। সত্যি বলতে, আমাদের এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মানের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা মাঠে ভালো একটি ম্যাচ খেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’ বৈশ্বিক ফুটবলের র‌্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১তম স্থানে রয়েছে। তাদের ৮ ধাপ পর আছে দক্ষিণ কোরিয়া। মিয়ানমারের অবস্থান ৫৫তম। ‘এফ’ গ্রুপের মধ্যে মিয়ানমারকেই মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছে বাংলাদেশ।

সেটা স্বীকার করেন আবুল হোসেন, ‘শুরু থেকেই উত্তর বা দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল না। আমাদের নজর মূলত মিয়ানমারের দিকে। কারণ মিয়ানমার ও আমাদের দলের মান কাছাকাছি। তাই আমরা তাদের বিপক্ষে একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।’ অনুশীলন শেষে রক্ষণভাগের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমাদের প্রস্তুতি ভালো। আগের ম্যাচে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো আর না করার চেষ্টা করবো। যেহেতু আমাদের পরের প্রতিপক্ষও অনেক শক্তিশালী, তাই আমাদের মূল চেষ্টা থাকবে গোল হজমের সংখ্যা কমানো। আমরা চেষ্টা করবো কোনো গোল না খেতে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে।’ এশিয়ার তৃতীয় সেরা দল উত্তর কেরিয়া। দুই ধাপ পরেই দক্ষিণ কোরিয়া। শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় সমশক্তির দল। মাঠে তাদের গতির সঙ্গে তাল মেলানো আমাদের জন্য খুবই কঠিন। তবে আমরা উন্নতি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি।’