রঙিন ব্যাগি ক্যাপে সাদা পোশাক রাঙানোর প্রত্যয়

রঙিন ব্যাগি ক্যাপে সাদা পোশাক রাঙানোর প্রত্যয়

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল)-এর সঙ্গে ‘পিকনিক ক্রিকেট’ তকমা সেঁটে গিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ধীরে ধীরে তা থেকে বের হতে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। সবশেষ সংযোজন ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য ব্যাগি ক্যাপ। পৃথক ৮ রঙের ক্যাপ পরে এবার সাদা পোশাকে মাঠে নামবে ক্রিকেটাররা। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে দলগুলোর অধিনায়কদের মাথায় পরিয়ে দেয়া হয় ক্যাপগুলো। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক ইয়াসির রাব্বি বলেন, ‘হ্যাঁ বলতে পারেন যে একটা সময় পিকনিক ক্রিকেট বলা হতো এটাকে ন্যাশনাল লীগ বা ফার্স্ট ক্লাসকে। এনসিএল কিন্তু লাস্ট দুই-তিন বছর ধরে আমাদের অনেকগুলো
ইনিশিয়েটিভ নিয়েছে যেমন ফিটনেস টেস্ট। আগে আসলে ওগুলো ছিল না।

এখন ম্যাচ ফি বেড়েছে। আগে আমরা ট্রাভেল করতাম বাসে। দেখা যাচ্ছে আমরা খুলনা থেকে চিটাগং আসবো বাসে আসলাম। এখন সেটা ফ্লাইট হয়েছে। তো আমার কাছে মনে হয় বোর্ড অনেকগুলো আমাদের ফ্যাক্টরস যেগুলো আমাদের লজিস্টিক্যাল ইস্যু ছিল ওগুলো ইমপ্রুভ করেছে। অ্যান্ড আই ডোন্ট থিঙ্ক এখন আর আসলে ওইরকম কোনো একটা ইস্যু নাই যেটাতে আপনি বলতে পারবেন যে এনসিএল কোনো কিছুতে ল্যাক করে। হ্যাঁ আপনি বলতে পারেন যে
মাঝে মাঝে হয়তো কক্সবাজারে যখন খেলা হয় বৃষ্টি হলে খেলা হয় না। ওইটা দ্যাটস এ ডিফারেন্ট ইস্যু ওটা আমাদের হাতে নেই আসলে।’ আগামী ৩রা অক্টোবর ৮ দল নিয়ে মাঠে গড়াবে এবারের এনসিএল।

এনসিএলের আয়োজন নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ঘাটতি মেনে নিয়েই মাঠে নামেন ক্রিকেটাররা। সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে রাব্বি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয় অ্যাজ এ প্লেয়ার আমার যেরকম ফ্যাসিলিটিসগুলো দরকার আমি এনসিএল থেকে এখন ওই ফ্যাসিলিটিসগুলো পাই। এখন কোনো অভাব নাই। এখন আপনি যদি অভাব খুঁজতে চান এখন আপনি সব জায়গায় অভাব পাবেন। আমি আগে কি ছিল না এখন কি আছে ওটাতে ফোকাস করি।’ আগে ক্রিকেটাররা বাসে যাতায়াত করলেও এবার বিমান ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছে ক্রিকেট বোর্ড। দেশের আটটি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করবে বিসিবি। মিরপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার পাশাপাশি খেলা হবে রাজশাহী বিভাগ স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক একাডেমি মাঠ, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম এবং কক্সবাজার একাডেমি মাঠে। সূচি অনুযায়ী মিরপুরে মুখোমুখি হবে রংপুর ও ঢাকা। খুলনায় লড়বে খুলনা ও বরিশাল।

সিলেটে নামবে সিলেট ও ময়মনসিংহ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে লড়বে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী। টুর্নামেন্টে বলের ব্যবহারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কয়েক মৌসুম ডিউক বল ব্যবহারের পর এবার ফিরছে কোকাবুরা বল। আগামী ১৭ই নভেম্বর পর্দা নামবে আসরের।
নিজ নিজ বিভাগের ক্রিকেটাররা অধিনায়কদের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দেন। খুলনার মোহাম্মদ মিঠুন, বরিশালের ইফতেখার হোসেন ইফতি, ময়মনসিংহের রাকিবুল হাসান, সিলেটের জাকির হাসান, রংপুরের আকবর আলী, ঢাকার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও রাজশাহীর প্রীতম কুমার দাস ক্যাপ গ্রহণ করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যাপের গুরুত্ব ও সম্মান নিয়ে সিলেট অধিনায়ক জাকির বলেন, ‘এই ক্যাপের মূল্য আছে, একটা প্রাইড আছে। প্রত্যেকটা ডিভিশন একটা প্রাইডের ব্যাপার। ডিভিশন টিম মানে ডিভিশনে এক নম্বর যে থাকে তার ওই প্রাইডটা সে জাস্ট বহন করে। অ্যাট দ্য সেম টাইম এই প্রাইডের সাথে যখন সে ন্যাশনাল টিমে আসবে, ন্যাশনাল টিমের ব্যাগি ক্যাপটা পাবে, তার ফিলিংসটা অন্যরকম হবে যে সে একটা হাইয়েস্ট লেভেলের জায়গায় এচিভ করেছে।

তো এই কালচারটা আমার কাছে মনে হচ্ছে খুব ভালো।’ বলের পরিবর্তন ও উইকেট প্রসঙ্গে জাকির বলেন, ‘এবার মনে হয় ডিউক বলে খেলা হচ্ছে না, কোকাবুরা দিয়ে টুর্নামেন্ট হচ্ছে। কোকাবুরা হলে কিছুটা হলেও ব্যাটসম্যানদের জন্য ফেভার থাকবে। বাট আমার কাছে মনে হয়েছে যে এখন এনসিএল যারা খেলতে আসে সবাই খুব ওয়েল প্রিপেয়ার্ড হয়ে আসে। আমার কাছে মনে হয় না যে বোলাররাও যে ওইভাবেই চলে আসবে যে আসবে রান হবে। ওরাও আমাদের টাফ টাইম দিবে। দে উইল ফাইন্ড এ ওয়ে যে কীভাবে টাফ টাইমটা দিতে হয়। আমার কাছেও মনে হয় না যে ফ্ল্যাট উইকেট। আমরা অনেক সময় বলে থাকি ফ্ল্যাট উইকেট, বাট ফ্ল্যাট উইকেটেও বোলারের কী পাওয়ার আছে যদি বোলার চায় সেটা বের করতে পারে। তো হেলদি কম্পিটিশন হবে।’