মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ নিয়ে বড় পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার

ফন্ট সাইজ:

আর মাত্র একটি ম্যাচ। এরপরই আকাশি-সাদা জার্সিতে চিরতরে বিদায় নেবেন লিওনেল মেসি। তবে সেই বিদায়টা যেন স্মরণীয় হয়ে থাকে, তার সব আয়োজনই করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল এসোসিয়েশন (এএফএ)। আগামী ৬ই অক্টোবর বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠেই শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নামবেন মেসি। মঙ্গলবার রাতে মেসিকে রেখে দল ঘোষণা করে এএফএ। গত ৩১শে আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তখনই আলোচনা শুরু হয়েছিল, ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে থেকে তাকে বিদায় জানাতে চায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত সেটাই হচ্ছে।

এক ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের জাতীয় দলের প্রতীক, আমাদের অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন আগামী ৬ অক্টোবর এখানে আর্জেন্টিনাতে সে যথাযথভাবে তার প্রাপ্য বিদায়টি পেতে পারে।’ দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে আরও একটি উদ্যোগ নিয়েছে এএফএ। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এই ম্যাচে। আর ম্যাচটি উৎসর্গ করা হবে মেসিকে। তাপিয়া বলেন, ‘লিওনেল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা কাতারে তাঁর সঙ্গে খেলা ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ এ ম্যাচে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা স্মরণীয় উপলক্ষ হতে চলেছে। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের ‘শেষ ট্যাঙ্গো’ উপভোগ করতে আমরা সব আর্জেন্টাইন ও জাতীয় দলের সমর্থককে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। এরপর মেসির অবসর ঘোষণায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ওই ফাইনালের হারই হয়তো জাতীয় দলে তার শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। কিন্তু এএফএ সেটি হতে দিচ্ছে না। এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে মোট তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০শে সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়া, ৩রা অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বুরকিনা ফাসো এবং সবশেষে ৬ই অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে। শেষ ম্যাচটি হবে জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২০৮তম ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডে মেসির ওপরে আছেন কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ২০৭ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ ১২৫ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

তবে বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে কিছু জটিলতাও রয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে গত মাসে আর্জেন্টিনাকে ঘরের মাঠে পরবর্তী ম্যাচে দর্শক ধারণক্ষমতা অর্ধেকে নামানোর নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। ফলে বলিভিয়ার বিপক্ষে মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামের ম্যাচটি হবে ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে। শাস্তির কারণ, সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। এর বাইরে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষের ঘটনায় দেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলোও এই প্রীতি ম্যাচগুলোতেই কার্যকর হবে। ওই ঘটনায় মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ১০ ম্যাচ, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা ৭ ম্যাচ এবং ফরোয়ার্ড থিয়াগো আলমাদা ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান।