ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তাদের মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে, একই সঙ্গে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে- এমন আশঙ্কা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। বিষয়টিকে ইরানের ‘দ্বিমুখী খেলা’ হিসেবে দেখছে তারা।
হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল জাজিরাকে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরান একদিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ অন্যরা জানে, তারা সরাসরি এই সংঘাতে জড়িত না থাকলেও ইরাক কিংবা ইয়েমেনে থাকা কিছু গোষ্ঠীর ওপর তাদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব রয়েছে। তারা চাইলে এসব গোষ্ঠীকে শান্ত করার উদ্যোগ নিতে পারত।
বারাকাত বলেন, এরই মধ্যে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। ইয়েমেন ও সৌদি আরবজুড়ে হুতিদের কয়েক দিন ধরে চালানো হামলার পর বৈঠকটি বাতিল হয়েছে।
তিনি বলেন, তবে সৌদিদের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে, তা হলো এসব ঘটনার সময়কাল। হঠাৎ করে হুতিরা এই সুযোগ দেখতে পেয়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং লোহিত সাগরের নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছে। এতে সৌদি আরবের মনে এমন ধারণা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক যে, ইরান এখনো দ্বিমুখী খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বারাকাতের ভাষায়, একদিকে ইরান তাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে- সম্মিলিত নিরাপত্তা নিয়ে মুখোমুখি আলোচনা করার জন্য। অন্যদিকে, তাদের মিত্রদের ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে এসব দেশের ওপর চাপ অব্যাহত রাখছে।
