যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় হতাহতের ঘটনার দু’টি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানায় নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। আর এতে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৬৬ জনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছেন তিনি।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি এ মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
এজাহারে বলা হয়, যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন তোলারাম কলেজের ছাত্র মেহেদী হাসান প্রান্ত ও নাদিম। তখন আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। একটি গুলি প্রান্তের থুতনি দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। নাদিমের বাম হাঁটুতে গুলি লাগে এবং গুলি বের হয়ে যায়। প্রান্তকে উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ীর সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাদিম চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।
এছাড়া রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেয়া আবু তালেবকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন তার বাবা বাবুল মৃধা। লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২২ আগস্ট তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচে মারা যান বাবুল মৃধা।

ট্যাগসমূহ: