আদানির সরবরাহ বাড়লেও লোডশেডিং কমছে না

ফন্ট সাইজ:

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি কমছে না। ফলে লোডশেডিং করতে হচ্ছে শহর থেকে গ্রামে। উৎপাদন ঘাটতির মধ্যেই গতকাল রামপালে আবারো ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। এতে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। এদিকে, আদানির বন্ধ হওয়া ইউনিট থেকে রোববার দুপুর থেকে উৎপাদন বাড়াচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। রোববার বন্ধ ইউনিট চালুর পর দুপুর থেকে উৎপাদন বাড়ে। সন্ধ্যায় সাড়ে ১৪শ’ মেগাওয়াট সরবরাহ করে কেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। তার আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমেছে।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লাচালিত। মাঝে কয়লাস্বল্পতায় উৎপাদন কমেছিল। এখন কয়লার মজুত আছে। উৎপাদন হচ্ছিল ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি। এখন এটি ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, কী কারণে বন্ধ হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে কাজ চলছে। দ্রুতই উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কয়লার পর্যাপ্ত মজুত আছে।
সূত্র বলছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আদানি থেকে ১৪৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ২ হাজারের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে দেশে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সেটি সরাসরি পরিদর্শন বা মেরামত করা যায় না। প্রথমে ইউনিটটিকে কুল-ডাউন বা ঠাণ্ডা করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। বর্তমানে সেই প্রাথমিক প্রক্রিয়াই চলছে। ইউনিটটি পরীক্ষার জন্য ভারত থেকে দু’জন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা এসে পর্যবেক্ষণ করার পর বলা সম্ভব হবে এটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে। আপাতত দুইদিন পর পরিস্থিতি স্পষ্ট বোঝা যাবে।