আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, তদন্তে দুদক

আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, তদন্তে দুদক

ফন্ট সাইজ:

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকে পাওয়া এক আবেদনে তার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, সারা দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

নতুন এই অভিযোগ আসিফের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে জানিয়েছে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে আসিফের বিরুদ্ধে। কমিশন অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ১১ই ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি অখ্যাত অনলাইনে ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই অভিযোগের সঙ্গে দুদকের অভিযোগের মিল রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
২০২৪ সালে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান। ২০২৫ সালের ১০ই ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এবার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির মুখপাত্র হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও পেয়েছে দুদক। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্যের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থপাচার। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন। সব মিলিয়ে বিদেশে পাচার করা অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি ব্যবসায়ী গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।