জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে পারেনি। বৈশ্বিক নেতৃত্বে বিরাজমান ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ ও বিভাজন নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার সবচেয়ে কড়া মন্তব্যে এ কথা বলেছেন। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দ্য হিন্দু’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: গত বছর এক বক্তৃতায় আপনি বলেছেন, গণহত্যার ক্ষেত্রে ‘আর কখনো নয়’- এই অঙ্গীকার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পর আপনার কি মনে হয়, যে ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা পালনে সংস্থাটি আর সক্ষম নয়?
উত্তর: প্রথমেই বিষয়টি খুব পরিষ্কার করা যাক। জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে যে আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হইনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের অনেক সংঘাত রয়েছে। কিন্তু দুই পরাশক্তি সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়নি। আর গত ১৮ বছরে জাতিসংঘের কাজের কারণেই মূলত এটি সম্ভব হয়েছে। সমস্যা হলো, এখন আমরা একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছি। একদিকে এমন কিছু পরাশক্তি রয়েছে, যারা এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেনি এবং এমন সব অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে, যার ভয়াবহ পরিণতি হচ্ছে। এই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজনের ফলে মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্য যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন: এখন ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী বাব আল-মান্দাব প্রণালি দখল করেছে- এমন খবর এসেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ কি কোনো সহায়তা করতে পারে?
উত্তর: নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো একটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আমরা যতটা সম্ভব সহায়তা করার চেষ্টা করছি। কৃষ্ণসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব সব জায়গাতেই নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো টোল নেয়া যাবে না, কাউকে অনুমতি দিয়ে অন্য কাউকে সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। নৌ চলাচলের স্বাধীনতা একটি মৌলিক নীতি, যা আমরা রক্ষা করছি। এর পাশাপাশি, খাদ্য ও সার পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্তত কিছু ব্যতিক্রম রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরিতে যুক্ত হয়েছে এবং এ ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছে।
প্রশ্ন: ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরির জন্য এই সুযোগটি কি আপনি কাজে লাগাবেন?
উত্তর: আমি তাদের সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, পরাশক্তিগুলো যখন বিভক্ত থাকে, তখন কোনো কিছুরই প্রতি সম্মান থাকে না। সবাই মনে করে, তারা যা খুশি করতে পারে। আর আমরা দেখছি, মাঝারি শক্তির দেশগুলোও বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। সুদানের দিকে তাকান। সুদানের সংঘাতে কতগুলো দেশ জড়িত? সংঘাতটি শুধু সুদানের জনগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এরপর আরও অনেক দেশ এতে জড়িয়ে পড়েছে, কারণ সেখানে এক ধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন: ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখন কি একটি সংস্কার করা জাতিসংঘের সময় এসেছে, নাকি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে?
উত্তর: আমরা মৌলিক সংস্কারের জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছি। আর এখানে মূল বিষয়টি হলো ক্ষমতার প্রশ্ন। আমাদের এখনো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো ১৯৪৫ সালের বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটা স্পষ্ট যে জাতিসংঘে গভীর সংস্কার প্রয়োজন, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে। জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা অনেক সংস্কার করছি। কিন্তু মূল প্রশ্নটি হচ্ছে ক্ষমতার প্রশ্ন।
প্রশ্ন: প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘ যদি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে সেটিকে কি সংস্কার করা প্রয়োজন, নাকি এর পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত?
উত্তর: কিন্তু জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিসংঘ যে বিপুল মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, সেদিকে তাকান। সম্পদ কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের কাটছাঁটের পরও জাতিসংঘের কোনো প্রতিষ্ঠানই ভেঙে পড়েনি। তারা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে এবং সেখানকার মানুষকে সহায়তা করছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের দিকে তাকান। বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে এখনো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা সক্রিয় রয়েছে।
প্রশ্ন: বিশ্বের বিভিন্ন ভূখণ্ডের প্রকৃত আকারের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে মানচিত্রটি সংস্কারের জন্য জাতিসংঘ সম্প্রতি একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে থাকা সেই মানচিত্র নিয়ে ভারত কি উদ্বেগ জানিয়েছে? সেখানে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ভারতের ভূখণ্ডের কিছু অংশ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
উত্তর: ‘সীমান্তসহ জাতিসংঘের মানচিত্র’ বলে আসলে কোনো বিষয় নেই। সাধারণ পরিষদে যে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে, সেটি কোনো মানচিত্র নয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভূখণ্ডগুলোর প্রকৃত আকার এবং অতীতের ক্ষমতার সম্পর্কের ভিত্তিতে যে ধরনের বিকৃতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো রয়েছে। আমার মনে হয়, সেগুলো সংশোধন করা যথার্থই হবে। তবে জাতিসংঘ সীমান্ত নির্ধারণ করে কোনো মানচিত্র প্রকাশ করেনি। আর কোনো দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করাও জাতিসংঘের কাজ নয়। সুতরাং, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বা বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রশ্ন: জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে একটি মানচিত্র রয়েছে, যেটিকে নতুন মানচিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর: সেটি জাতিসংঘের কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয়। এটি একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দেয়া অবদান। মানচিত্রটি কেবল একটি নির্দেশক হিসেবে রয়েছে। তবে কোন দেশের সীমান্ত কোথায় হবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো সংজ্ঞা বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।
প্রশ্ন: অবশ্যই এটি জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আপনার মোকাবিলা করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ- ভারত ও পাকিস্তান সংঘাতের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। ২০১৮ সালে ভারতে আপনার প্রথম সফরের সময় আপনি ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতিতে সহায়তার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন এবং প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতায় আপনার ‘শুভ উদ্যোগ’ ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এমন কোনো সময় কি এসেছিল, যখন আপনি সত্যিই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছিলেন? যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা তা করেছে।
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করেছে কি না, তা আমি জানি না। আমি মধ্যস্থতাকারী নই, এটি পরিষ্কার করে বলা যাক। আমি দুই দেশকেই সম্মান করি। দেশ দুটির নেতাদের সঙ্গে আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। আমি আশা করি, একদিন দুই দেশ একসঙ্গে বসতে পারবে। তবে জাতিসংঘ সরাসরি কোনো মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। যেকোনো মধ্যস্থতার জন্য উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। এখানে সেটি নেই।
প্রশ্ন: শুধু পরাশক্তিগুলো যুদ্ধ করছে- বিষয়টি এখন আর এমন নয়। পরাশক্তিগুলো এখন জাতিসংঘের বিকল্পও সামনে আনছে- যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অব পিস’ এবং চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’।
উত্তর: আপনি কি মনে করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ একটি বিকল্প ব্যবস্থা?
প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র এটিকেই সেভাবে উপস্থাপন করছে।
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্রও সব সময় বলেছে, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের জন্য নয়। আর চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে জাতিসংঘকেই থাকতে হবে।
প্রশ্ন: কিন্তু এগুলো তো একতরফা উদ্যোগ, যা জাতিসংঘের ব্যবস্থাই যে কাজ করছে, তার জায়গা নিচ্ছে।
উত্তর: এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডের কোনো ত্রুটি সংশোধন করছে না। আর ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক- এটি মূলত গাজা পরিস্থিতির সমাধানের একটি প্রস্তাব। স্পষ্ট করে বলি, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নয়। জাতিসংঘ সারা বিশ্বে কাজ করছে।
প্রশ্ন: জাতিসংঘের জন্য আরেকটি হুমকি আসছে ইসরাইলের কাছ থেকে। দেশটি শুধু জাতিসংঘের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যায়নি, আপনাকেও ব্যক্তিগতভাবে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করেছে এবং ভিসা দেয়নি। এ ছাড়া জাতিসংঘের বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
উত্তর: আমি কোনো ভিসা চাইনি। একটি বিষয় যদি স্পষ্ট হয়ে থাকে, তা হলো- জাতিসংঘ এবং এর জন্য মূলত আমিই দায়ী, সব সময় অত্যন্ত সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়ার সংঘাত হোক কিংবা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত জাতিসংঘ সব সময় সনদের পক্ষে, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বা মানদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, কখনো কখনো সবচেয়ে দায়িত্বশীল দেশগুলোর কয়েকটিও, যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক আইনকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে না এবং আইনের শক্তির পরিবর্তে শক্তির আইনই প্রাধান্য পাবে- এর জন্য আমরা দায়ী নই।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ আপনার সেই বক্তব্যে উল্লেখ করা ‘আর কখনো নয়’- অর্থাৎ যে গণহত্যার কথা আপনি বলেছিলেন- তার পর্যায়ে পড়ে?
উত্তর: ‘গণহত্যা’ একটি আইনি সংজ্ঞা, যার সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার আদালতের এবং নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের। আমরা যা বলছি, তা হলো- গাজায় যা ঘটছে, তা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতিরই এটি ভয়াবহ লঙ্ঘন। তবে আমরা এর কোনো আইনি সংজ্ঞা দিচ্ছি না। এটি এতটাই ভয়াবহ যে, একে ওই নামে অভিহিত করারও প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন: আপনি কি চান, এটিকে (গণহত্যা) হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হোক?
উত্তর: এটি আমাদের বিষয় নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যা ঘটে, তার আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা আমাদের কাজ নয়।
প্রশ্ন: তাহলে পরবর্তী কোনো দেশ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারাও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের নিজেদের দেশে ঢুকতে দেবে না, মহাসচিবকেও প্রবেশ করতে দেবে না এবং এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাবে, তখন কী হবে?
উত্তর: জাতিসংঘের তা থামানোর ক্ষমতা নেই। আর এটাই সেই সমস্যা, যার কথা আমি শুরুতেই বলেছি।
প্রশ্ন: এ বছর জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই কি আপনার আরও একটি মেয়াদ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
উত্তর: না, আমার একেবারেই আরেকটি মেয়াদ প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন: আপনার পদে প্রার্থী হওয়া অনেকেই নারী। আপনি কি আশা করেন, আপনার উত্তরসূরি হিসেবে জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব নির্বাচিত হবেন?
উত্তর: আমি এই নির্বাচনী প্রচারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তবে আমি মনে করি, জাতিসংঘে, অন্য যেকোনো দেশের মতোই, নারীদের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ থাকা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এটি লিঙ্গসমতা ও লিঙ্গসমতার ভারসাম্যের বিষয়। গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের ১৭০টি নেতৃত্বস্থানীয় পদে নারী ও পুরুষের পূর্ণ সমতা অর্জন করেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটরদের ৫৫ শতাংশই এখন নারী।
প্রশ্ন: ‘গ্লাস সিলিং’-এর প্রকৃত অর্থই হলো- নারীরা প্রতিষ্ঠানের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন, কিন্তু সর্বোচ্চ পদে থাকবেন না। আপনি কি একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান?
উত্তর: আমি তাতে খুবই আনন্দিত হব।
প্রশ্ন: আপনার মতে, আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী এবং সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কী?
উত্তর: আমার অর্জন বা ব্যর্থতা কী, তা অন্যদেরই বিচার করতে হবে। আমি যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট, তা হলো- গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের মূলনীতিগুলোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে নানা সংকট মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমরা কখনো দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করিনি। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো- বিশেষ করে যেসব দেশের হাতে ক্ষমতার প্রধান উপকরণ রয়েছে, তাদের বোঝাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি যে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোকে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদকে, আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে সংস্কার করতে হবে।
প্রশ্ন: আমি ভেবেছিলাম আপনি বলবেন- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের জন্য দেশগুলোর পর্যাপ্ত অঙ্গীকার না করা...
উত্তর: এটি জাতিসংঘের ব্যর্থতা নয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লড়াইয়ে জাতিসংঘ সামনের সারিতে রয়েছে। এটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতা, যারা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে নিজেদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থকে বারবার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রশ্ন: এরপর কী করবেন, তা কি ভেবেছেন? জাতিসংঘের মহাসচিবের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কী করবেন?
উত্তর: আমার একেবারেই কোনো ধারণা নেই। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার যে দায়িত্ব, তা যেন ঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। এরপর কী হবে, তখন দেখা যাবে।
