বিদ্যুৎ সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও বিভিন্ন ঘটনার কারণে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে কি না। যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, সেটা ভারতের একটি রাজ্য ঝাড়খণ্ড। সেখানে কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সেটার একটা ইউনিট নষ্ট। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, সেটার সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এখন আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয়, এটায় কোনো ঘটনা আছে কি না, একটা রহস্য আছে কি না, কোনো নাশকতা হচ্ছে কি না? আর দেশ যে পরিস্থিতির মধ্যে আছে, সেটা একটা সংকট এবং সে সংকটটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোনো কনস্পিরেসি হচ্ছে বলে আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, কেন এখন একটার পর একটা কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে-মানুষের মনে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকার চেষ্টা করেছে যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সরকারের কাছ থেকে যে টাকা পায়, সে টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে সচেষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি আছে, সেখানে তাদের যে পাওনা সেটাও সরকার দিচ্ছে। তাহলে এটা কেন হচ্ছে?
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ উঁকি মারার চেষ্টা করছে। কিন্তু করছে কীভাবে? এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? তারা মানুষ জড়ো করলো এতগুলো, তো গোয়েন্দা সংস্থা জানে।
এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি করেছে সংগঠনটি। র্যালিপূর্ব উদ্বোধনী বক্তব্য মহিলা দলের নেত্রীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনি এবং আপনারা প্রত্যেকেই তো আমরা সরকারের অংশ। শুধু পদ পেতে হবে তা নয়। আমার দল ক্ষমতায়, আপনার দল ক্ষমতায়- আজকে নির্বিঘ্নে কথা বলতে পারি, আজকে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারি এবং নির্বিঘ্নে যেতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের কি মনে নেই, আফরোজা আব্বাস, সুলতান আহমেদ এবং আপনাদের এখানকার অনেক নারীরা, কতোবার কারাগারে গেছেন- রিমান্ডে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কতোবার নির্যাতিত হয়েছেন, কতো নির্মমভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কীভাবে তাদেরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হতো! কীভাবে সেখান থেকে আদালতে তোলা হতো! তারপরে মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হতো, এটা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
