পলাতক নেতাদের ‘লন্ডন বৈঠক’ নিয়ে সিলেটে যে গুঞ্জন

পলাতক নেতাদের ‘লন্ডন বৈঠক’ নিয়ে সিলেটে যে গুঞ্জন

ফন্ট সাইজ:

‘লন্ডন বৈঠক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন অনেকেই। ক’দিন আগেই হলো সেটি। সিলেটের পলাতক নেতারা একসঙ্গে বসেছিলেন। সেই বৈঠকের তথ্য গোপন থাকেনি। ছবি এসেছে। অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সিলেটের নেতারা। মধ্যমণি সিলেটের নেতা আজাদুর রহমান আজাদ ও রঞ্জিত সরকার। সিলেটের টিলাগড় এলাকার অধিপতি ছিলেন তারা। ১৭ বছর শাসন করেছেন আলোচিত টিলাগড়। অনেক ঘটনার মূলে ছিলেন তারা। সরকার পরিবর্তনের পর পালিয়ে যান দেশ ছেড়ে। দীর্ঘদিন দেখা মেলেনি। শেষে লন্ডনে দেখা মিললো তাদের। বর্তমানে ওখানেই সরব। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দেখা যাচ্ছে। কেন এ বৈঠক?- এ নিয়ে এন্তার আলোচনা সিলেটে। আর বৈঠকে নেই কেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ যুক্তরাজ্যের নেতারা।

ভারতে থাকা নেতাদের যোগসূত্র আছে বৈঠকে। এমনটি নেট দুনিয়ায় প্রচার হওয়া নানা মন্তব্যে উঠে এসেছে। দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান। আলোচনার কেন্দ্রে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সিলেটের নেতাদের লন্ডনে দেখভাল করেন আনোয়ারুজ্জামান। অথচ বৈঠকে তার উপস্থিতি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ বলেন- সিলেটের রাজনীতিতে মাইনাস আনোয়ারুজ্জামান ফর্মুলার বীজ বপন হয়েছে বৈঠকে। বৈঠককে আনোয়ারুজ্জামানের বিরোধিতার সরাসরি একটি প্ল্যাটফরম জানান দিয়েছে। আনোয়ারুজ্জামান সিলেটের সাবেক মেয়র। আনোয়ারুজ্জামান ও নাদেলের ফর্মুলায় সিলেট চলেছে বিগত ৭-৮ বছর।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সাইড লাইনে রেখে তাদের নেতৃত্বে চালানো হয়েছে দলটির সিলেটের কার্যক্রম। গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছিল। পলাতক থাকা নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট আওয়ামী লীগে এখন নানা ঘটনাই ঘটছে। মাঠে নীরব থাকলেও ভার্চ্যুয়ালি সরব নেতারা। চলছে দলকে সাংগঠনিকভাবে গোছানোর প্রক্রিয়া। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ক্লোজলি সিলেটের এসব বিষয় দেখছেন। মাঠে আন্দোলন জমিয়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। আর এই কমিটি গোছানোর প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে দেশে থাকা ত্যাগীদের স্থান দেয়ার বিষয়টি আলাপ-আলোচনায় আসা মাত্রই আনোয়ারুজ্জামানের প্রতিপক্ষ হয়েছেন সিলেটের পলাতক নেতারা। আর এর অংশ হিসেবে তারা বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন।

অন্তরালে রয়েছে আরেকটি নির্দেশনার বিষয়টিও। কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় নেতাদের দেশে ফেরার নির্দেশ রয়েছে। বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করা নেতাদের এ ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। নির্দেশনা রয়েছে, যারা দেশে ফিরবেন তারা কমিটিতে স্থান পাবেন। আর যারা যাবেন না তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পালিয়ে প্রবাসে যাওয়া নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ঝুঁকি নিতে চান না অনেকেই। কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন- দেশে এলেই গ্রেপ্তার হবেন। হামলার শিকার হতে পারেন। ফলে অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। এই অবস্থায় দেশে ফিরলে অনেকের জীবন বিপন্ন হতে পারে। সব দিক বিবেচনা করে আপাতত অনেকেই দেশে ফিরতে চান না। দেশে ফেরার এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করতে কাজ করছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

ফলে তার প্রতি অনেকটা নাখোশ হয়েছেন লন্ডনে থাকা সিলেটের নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক নেতা জানিয়েছেন- লন্ডনে বৈঠকে মূলত দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কেবলমাত্র পলাতক সিলেটের উপস্থিত ছিলেন। এতে দলের সিলেট সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কেবলমাত্র পালিয়ে আসা সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার বিষয়টি অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই নেতা।