পাঁচ বছর পরও এভিয়েশন খাতে হতাশা থাকলে জবাবদিহি করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পাঁচ বছর পরও এভিয়েশন খাতে হতাশা থাকলে জবাবদিহি করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর পরও দেশের এভিয়েশন খাতের মানুষ একইভাবে হতাশ থাকলে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও গতিশীল এভিয়েশন খাতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেয়া হবে। ব্যবসা পরিচালনার সুযোগের পাশাপাশি যাত্রীদের বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করার পরিবেশও তৈরি করা হবে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, পাঁচ বছর পরও যদি এভিয়েশন খাতের মানুষ একইভাবে হতাশ থাকে, আমাদের প্রথম মেয়াদের শেষে যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তো বটেই, পুরো খাতের কাছেও আমাদের কয়েকজনের, আমারও, জবাবদিহি করতে হবে। এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বিকার করে তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর দেশে গণতন্ত্র না থাকায় সরকারের নীতিগত ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো কিংবা নীতিগত পরিবেশ এ খাতকে সহায়তা করেনি। বরং এ খাতকে সহায়তা করার মতো সরকারি নীতিব্যবস্থার পুরোপুরি অনুপস্থিতি ছিল। এক্ষেত্রে অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ডিসেম্বর মাসে তৃতীয় টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। এর মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য স্থানান্তর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সার্বিক পরিচালন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার অগ্রযাত্রায় এভিয়েশন খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভিয়েশন খাতের নীতিগত ও আইনি সংস্কারের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতদিনের নিয়মগুলো অংশীজনদের জন্য বাধা হয়ে ছিল। সেই বাধা দূর করে অংশীজনদের কাজের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি কমাতে নেয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা দেয়া হয়েছে। যাত্রীদের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে কার্গোর দরজাও খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ বেল্টে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মিল্লাত বলেন, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে যে চুক্তি বাতিল করেছিল, বর্তমান সরকার তা পুনরায় চালু করেছে। প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি পুনরায় চালুর জন্য জাপানের সঙ্গে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উড়োজাহাজ আনার পাশাপাশি এমআরও, বাজেট এয়ারলাইনস ও কার্গো পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার ও আগামীর করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন।