ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত, সৌদিকে ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত, সৌদিকে ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সংঘাত ফের তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে হুতিদের গোলাবর্ষণে অন্তত তিন শিশু নিহত ও আরও ছয়জন আহত হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল এ ধরনের দ্বিতীয় হামলা। এর আগের হামলায় দুই শিশু নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছিল।

অন্যদিকে সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতিরা তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বুধবার হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের ছয়টি প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হুতি-সমর্থিত সংবাদ সংস্থা সাবা আরও ৪০টি সৌদি বিমান হামলার দাবি করেছে। হুতিরা মারিবে শিশু নিহতের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

তবে তাদের দাবি, মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের একটি কারাগারে সৌদি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ হয়েছে। আহত হয়েছে আরও সাতজন।
সৌদি আরবেও ছড়াচ্ছে সংঘাত
ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবেও পড়ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, হুতিরা খামিস মুশাইত, আবহা ও জাজান এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।
সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষও খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় একাধিক সতর্কতা জারি করেছে। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি বাহিনীর বিমানগুলো খামিস মুশাইতের কিং খালিদ ও তাইফের কিং ফাহদ বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি হামলার জবাব অবশ্যই দেয়া হবে এবং শাস্তিও দেয়া হবে।

মঙ্গলবার হুতিরা দাবি করে, গত কয়েক দিনে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২১টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আবহা, নাজরান ও জিজানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, ইকোনমিক সিটি এবং খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা।
সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ইয়েমেনের সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে। এতে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর তাদের কৌশলগত প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। দীর্ঘ এই যুদ্ধে আনুমানিক দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে বড় ধরনের লড়াই থেমে গেলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে সংঘর্ষ ফের শুরু হয়। গত সপ্তাহে হুতিরা হোদেইদা ও তাইজে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এর পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান জোরদার করে এবং আল-জাওফসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।