মৃত্যু থামেনি কোনো ব্যবস্থাতেই

সহযোগীদের খবর

মৃত্যু থামেনি কোনো ব্যবস্থাতেই

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকার শিরোনাম- মৃত্যু থামেনি কোনো ব্যবস্থাতেই। এতে বলা হয়, হাম বাংলাদেশে নতুন কোনো রোগ নয় । স্বাধীনতার পর থেকে দেশে হামের সংক্রমণ এবং এই রোগে কমবেশি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে । তবে বিশেষজ্ঞদের মতে , চলতি বছরের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত গত পাঁচ দশকের হিসাব ছাড়িয়ে গেছে । হিসাব নথিভুক্ত করার পর থেকে গত সাড়ে ৫ মাসে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯ - এ পৌঁছেছে । প্রাদুর্ভাবের পর জরুরি টিকাদান কর্মসূচি , বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মৃত্যু থামেনি । জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ববিদদের বিশ্লেষণ বলছে , এর পেছনে একাধিক কারণ বিদ্যমান । এগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের টিকাদানের ঘাটতি , রোগ শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা , শিশুদের অপুষ্টি এবং হাম সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি । অর্থাৎ চলতি বছরের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব শুধু একটি সংক্রামক রোগের বিস্তার নয় , দেশের টিকাদান ও রোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে ।

এ বছরের শুরু থেকে দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে । তবে গত ১৫ মার্চ থেকে সরকার নিয়মিত পরিসংখ্যান রাখা শুরু করে । সেই থেকে এ পর্যন্ত হামসদৃশ উপসর্গে মৃত্যু

হয়েছে ৮৯৯ জনের । আর মৃতদের মধ্যে পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল আরও ১০০ জনের । ফলে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৯ জনে । এর বিপুল

অপুষ্টিতে বেশি ঝুঁকি হামে হাসপাতালে ভর্তি ৩৫৪ শিশুর ৬৫ % অপুষ্টিতে ভুগছিল ।
সরকারি আশ্বাস ৪০ লাখ ডোজ টিকা আসবে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে । চলতি মাসেই নতুন টিকাদান কর্মসূচি ।

সংখ্যাগরিষ্ঠই বিভিন্ন বয়সের শিশু । রোগতত্ত্ববিদেরা এবারের প্রকোপের প্রায় গোড়া থেকেই বলে আসছেন , প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুকেও সামগ্রিক মৃত্যুর হিসাবের

বাইরে রাখা যায় না । কারণ , সেই মৃত্যুগুলোও হামজনিত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি । কথাটি বিবেচনায় নিলে , হামে গত ১৭৮ দিনে কার্যত গড়ে প্রতিদিন ৫ দশমিক ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ( ডব্লিউএইচও ) ২৩ এপ্রিলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল , হামে আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশেরই বয়স ছিল পাঁচ বছরের কম । ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম । তখন উপসর্গযুক্ত মৃত্যুর বেশির ভাগই ছিল টিকা না নেওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ।

যেভাবে বেড়ে চলেছে মৃত্যু সরকারের তথ্য অনুযায়ী , এপ্রিলের শেষ দিকে এবং মে মাসে দেশে হামের প্রাদূর্ভাব তীব্র হয়ে ওঠে । ৩ এপ্রিল মোট মৃত্যু ছিল ১০৩ , ১৬ এপ্রিল তা বেড়ে ২০৬ , ৪ মে ৩১১ এবং ১০ মে ৪০৯ - এ পৌঁছায় । এরপর ২৩ মে মৃত্যু বেড়ে হয় ৫১২ , ৩ জুন ৬০১ এবং ২৬ জুন ৭০২। ২২ জুলাই মৃত্যুর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে ৮০৩ - এ ওঠে । ১৫ আগস্ট তা বেড়ে ৯০২ - এ পৌঁছায় ।

মৃত্যু থামেনি কোনো ব্যবস্থাতেই সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে । অর্থাৎ মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ থেকে ৬০০ অতিক্রম করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস । এরপর এক মাসের কম সময়ে মৃত্যু ৭০০ ছাড়িয়েছে । পরের কয়েক সপ্তাহেই তা ৮০০ ও ৯০০ অতিক্রম করেছে । ১৫ আগস্টের ৯০২ থেকে মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে ৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯৯ । অর্থাৎ মৃত্যুর ধারা থামার আলামত নেই । টিকা ও ভিটামিন ‘ এ ’ ক্যাম্পেইন দেখা গেছে , এবারের প্রাদুর্ভাবে টিকা না পাওয়া এবং অল্পবয়সী শিশুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি । ডব্লিউএইচওর মতে , সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি , ২০২৪-২৫ সালে হাম - রুবেলা টিকার সরবরাহ - সংকট এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী অতিরিক্ত টিকাদান অভিযান না হওয়ায় অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে । গত ৫ এপ্রিল ১৮ টি অগ্রাধিকারের জেলার ৩০ টি উপজেলায় জরুরি হাম - রুবেলা টিকাদান শুরু হয় । পরে চারটি সিটি করপোরেশন হয়ে ৩ মে থেকে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয় । ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ঝুঁকিতে থাকা এবং নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনা ছিল এই কর্মসূচির লক্ষ্য । তবে বয়সসীমার বাইরেও সংক্রমণ ছিল । জুনের শেষে ভিটামিন ‘ এ ’ ক্যাম্পেইন করা হয় । ডব্লিউএইচও বলছে , হাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে এমআর টিকার দুই ডোজই দিতে হবে । জরুরি গণটিকাদান নিয়মিত কর্মসূচির বিকল্প নয় ; এটি শুধু বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত সুরক্ষায় সহায়ক । পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার অংশ হিসেবে ভিটামিন ‘ এ ’ দেওয়া হয় । কারণ , অপুষ্ট ও ভিটামিন ‘ এ’র ঘাটতিতে থাকা শিশুদের গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বেশি । তাই এবারের প্রাদুর্ভাবে জরুরি টিকার পাশাপাশি নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ভিটামিন ' এ ' পাওয়ার চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ ।

অপুষ্টির শিকার ও অল্পবয়সী শিশুর বাড়তি ঝুঁকি হামে আক্রান্ত শিশুর পরিণতির ক্ষেত্রে টিকার ইতিহাসের পাশাপাশি বয়স ও পুষ্টিগত অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ । বাংলাদেশ

শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের ( আইসিডিডিআরবি ) গবেষণায় দেখা গেছে , হাসপাতালে ভর্তি ৩৫৪ জন হামে আক্রান্ত শিশুর ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল থেকে ৯ মাস । তাদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল । আক্রান্ত শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণ বুকের দুধ পায়নি । মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে এই হার ছিল ৮২ শতাংশ । বয়স ও টিকার ইতিহাস অনুযায়ী ৩৪১ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় , ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশেরই হাম শনাক্ত হয়েছে । টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর ৯৭ শতাংশ , এক ডোজ নেওয়া ৪৮ শিশুর ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ নেওয়া ২১ শিশুর ৭৬ শতাংশের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয় । তবে এটি হাসপাতালভিত্তিক সীমিত পরিসরের গবেষণা । তাই দুই ডোজ নেওয়া শিশুদের মধ্যেও হাম শনাক্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে টিকার কার্যকারিতা কমেছে বা টিকা কাজ করেনি — এমন সিদ্ধান্তে আসা যাবে না ।

সরকারের অগ্রাধিকার নেই — বিশেষজ্ঞ মত হাম এখন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই বলে মনে করেন জাতীয় হাম - রুবেলা নির্মূল যাচাই কমিটির সভাপতি এবং রোগতত্ত্ব , রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ( আইইডিসিআর ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা . মাহমুদুর রহমান । তিনি বলেন , ‘ নিয়মিত টিকাদান জোরদার করার পাশাপাশি সংক্রমণ বেশি , এমন এলাকায় আবার লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে । জ্বর বা হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা , পরিচর্যাকারীদের সুরক্ষা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে । ' মাহমুদুর রহমানের মতে , মাঠপর্যায়ে টিকাদান , জনবল এবং অর্থের ঘাটতির পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা দরকার । রোগতত্ত্ববিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা . মুশতাক হোসেন বলেন , “ শুধু পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দিয়ে এবারের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না । ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদেরও অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায়

এনে বাদ পড়া শিশুদের তালিকা করে বাড়ি বাড়ি টিকা দিতে হবে । ’ মৃত্যু কমাতে টিকাদানের পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন মুশতাক হোসেন । তাঁর মতে , আক্রান্ত অপুষ্ট শিশুদের দ্রুত দ্বিতীয় স্তরের হাসপাতালে নেওয়া , দরিদ্র ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর এলাকায় চিকিৎসাসেবা বাড়ানো এবং জটিল রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে । মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি সঠিকভাবে চিহ্নিত করে টিকাদানের অবস্থা যাচাই , বাদ পড়া শিশু শনাক্ত , জ্বরের রোগীদের নজরদারি ও দ্রুত চিকিৎসা — সব কটি কাজ একসঙ্গে করতে হবে ।

সরকারের বক্তব্য

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার শুরু থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা . প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস । আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন , ‘ হাম সরকারের অগ্রাধিকারে না থাকলে দ্রুত জরুরি টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হতো না । জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে । ' মৃত্যুর হিসাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার বিষয়ে অধ্যাপক প্রভাত বলেন , ‘ হামে আক্রান্ত শিশু নিউমোনিয়া , কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে মারা যেতে পারে ; তাই উপসর্গ থাকা সব মৃত্যুকে সরাসরি হামের মৃত্যু বলা ঠিক নয় । হাম অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হয় , কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যেতে পারে , সব রোগীর হাম ছিল না ৷ ভাইরাসজনিত সংক্রমণের পর অন্য জটিলতাও তৈরি হতে পারে — মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন । ত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস । তিনি বলেন , ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়স থেকে নিয়মিত টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দাবি , আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা আসবে এবং বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের টিকা দিতে চলতি মাসেই নতুন কর্মসূচি নেওয়া হবে । জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি ।

যুগান্তর
যুগান্তরের শিরোনাম - ষড়যন্ত্র সিন্ডিকেটে সার সংকট। এতে বলা হয়, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু অসৎ ডিলারসহ মহল বিশেষ সরকারকে বিব্রত করতে কৃত্রিমভাবে সার সংকট সৃষ্টি করছে। এ কারণে কিছুদিন থেকে সার নিয়ে দেশের কয়েকটি জেলায় ডিলারের গোডাউন ভেঙে ক্ষুব্ধ কৃষকদের সারের বস্তা লুট করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারের হাতে চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সার মজুত আছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক হিসাবে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন। বিপরীতে সরকারের সংগ্রহে রয়েছে ৫১ লাখ ৮৩ লাখ টন সার। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের সংগ্রহে উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পেছনে এক শ্রেণির ডিলার, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। এজন্য ইতোমধ্যে ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরও চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম এবং যুগ্ম সচিব ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান যুগান্তরকে বলেন, ‘কার্যত সারের কোনো সংকট নেই। সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তার পেছনে রয়েছে সার ইস্যুতে সরকারকে বিব্রত করার গভীর ষড়যন্ত্র। যে কেউ অনুসন্ধান করলে প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন। মূলত হীন উদ্দেশ্যে একশ্রেণির লোকজন কৃত্রিমভাবে নানা ঘটনা তৈরি করছে। কিছু অসৎ ডিলারসহ মহল বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের চাহিদা নিরূপণ করে দেশের প্রতিটি জেলায় সার সরবরাহ করেছি। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা পর্যায় ছাড়াও মন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্রান্ত প্রতিটি বিষয় কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

পর্যাপ্ত মজুত তারপরও কেন হাহাকার : কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউরিয়া সার দরকার ১৪ লাখ ২৯ হাজার টন। এর মধ্যে টিএসপি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টন, ডিএপি ১০ লাখ ২৩ লাখ টন এবং এমওপি সারের চাহিদা ৬ লাখ টন। সারের এই পরিমাণ চাহিদার বিপরীতে মোট জোগান রয়েছে ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন। এই জোগানের মধ্যে রয়েছে-ইউরিয়া সার ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টন, টিএসপি ৯ লাখ ৪৫ হাজার টন, ডিএপি ১৩ লাখ ৮৪ হাজার টন এবং এমওপি ১১ লাখ টন। এতে দেখা যায়, মজুতের পরিমাণ প্রায় ৫১ লাখ ৮৩ হাজার টন।

তারপরও কেন সংকট : সারের মুজত পর্যাপ্ত। তারপরও কেন সারের এত সংকট? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, সার নিয়ে সরকারের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে সাড়ে ১৫ বছরের অবৈধ সুবিধাভোগী আওয়ামী দোসররা। পরিকল্পিতভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত তারা। ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার ভয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের। এ ছাড়া কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে সার পাচারের চেষ্টাও করছে। এছাড়া নতুন নীতিমালার আলোকে বিসিআইসি ডিলারদের একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা ও কৃষকদের কাছ থেকে কিছু খুচরা বিক্রেতার সারের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে সারের কৃত্রিম সংকটের নেপথ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইন্ধন জোগাতে পারে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক
ইত্তেফাকের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম- বাড়ছে ই-বর্জ্যের ভাগাড়। তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এতে বলা হয়, দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্যের (ই-বর্জ্য) পরিমাণ। দেশে প্রতিদিনই লাখ লাখ মুঠোফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনারসহ নানা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অকেজো হয়ে যায়। এসব ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের পরিবেশসম্মত ও আনুষ্ঠানিক তেমন কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। সেগুলোর স্থান হয় অন্যান্য গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে আস্তাকুঁড় বা ডাস্টবিনে। সিটি করপোরেশন থেকেও এগুলো আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা হয় না। নতুন করে যোগ হচ্ছে সোলার ও ব্যটারির বর্জ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের মধ্যে সিসা, সিলিকন, টিন, ক্যাডমিয়াম, পারদ, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি রাসায়নিক থাকে। এসব রাসায়নিক দেশের মাটি ও পানিকে দূষিত করছে। নানাভাবে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুদের ঝুঁকি বেশি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন বলছে, দেশে প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে ই-বর্জ্য বাড়ছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ ই-বর্জ্য বছরে ৪৬ লাখ টনে দাঁড়াবে। ২০১৮ সালের ঐ প্রতিবেদনে বছরে দেশে ৪ লাখ টন ই-বর্জ্য উত্পন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। যার মধ্যে কেবল ৩ শতাংশ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বা রিসাইক্লিং শিল্পে ব্যবহার করা হয়। বাকি ৯৭ শতাংশের ঠাঁই হয় ভাগাড়ে। ই-বর্জ্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং নবজাতক শিশুর জন্য। ই-বর্জ্যের প্রভাবে মানুষের বিভিন্ন টিস্যু, অঙ্গ ও সিস্টেম বিষাক্ত হচ্ছে। যা শ্বাসযন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্নায়ু, মূত্রতন্ত্র ও প্রজনন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এতদিন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন বা জাহাজভাঙা শিল্পের বর্জ্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা হলেও এখন নতুন করে ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত হয়েছে সৌরবিদ্যুত্ খাত।

নয়া দিগন্ত

পানি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা। এটি নয়াদিগন্তের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশকে বাইরে থেকে দেখলে পানির দেশ বলেই মনে হয়। নদী, খাল, বিল, হাওর-বাঁওড় আর বর্ষার বিস্তৃত জলরাশি- সব মিলিয়ে পানির প্রাচুর্যই এ দেশের স্বাভাবিক পরিচয়। কিন্তু এই রূপময় দৃশ্যের আড়ালে তৈরি হচ্ছে ভিন্ন এক সঙ্কটময় বাস্তবতা। দেশের বহু অঞ্চলে নিরাপদ ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ ক্রমেই চাপে পড়ছে। কোথাও পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে, কোথাও লবণাক্ততা বাড়ছে, আবার কোথাও ভূগর্ভস্থ পানির মান নিয়ে দেখা দিচ্ছে আর্সেনিক, আয়রনসহ বিভিন্ন দূষণের সমস্যা।
বিশেষ করে ঢাকা ও এর আশপাশ, উত্তর-পশ্চিমের বরেন্দ্র অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট পানির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বেশ কিছু এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের হার পুনর্ভরণের চেয়ে বেশি হওয়ায় পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে। তথ্যে দেখা যায়, ঢাকার কিছু এলাকায় বছরে প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত পানির স্তর নিচে নামছে।

এ অবস্থায় শুধু কত মিটার নিচে পানি আছে- এ তথ্য দিয়ে আর কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এখন জানা জরুরি : এই পানি কোথা থেকে এসেছে, কত পুরনো, কত দ্রুত এটি পুনর্ভরণ হচ্ছে, কোন পথে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আমরা যে পরিমাণ পানি তুলছি তার কতটা প্রকৃতপক্ষে মাটির নিচে ফিরে যাচ্ছে।

ঠিক এখানেই নতুন আশা জাগিয়েছে পরমাণু বিজ্ঞানের একটি পরিবেশবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ প্রয়োগ- আইসোটোপ হাইড্রোলজি।

পানি শুধু পানি নয়, তারও আছে ‘পরিচয়’

আইসোটোপ হাইড্রোলজির মূল ধারণাটি বেশ সহজ। একই মৌলের কিছু পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা এক হলেও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে; এগুলোই আইসোটোপ। পানির ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম (হাইড্রোজেন-২) এবং অক্সিজেন-১৮ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোকে পানির এক ধরনের প্রাকৃতিক ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা স্বাক্ষর হিসেবে গণ্য করা হয়।

বৃষ্টি, নদী, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানির আইসোটোপিক বৈশিষ্ট্য এক নয়। বাষ্পীভবন, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের উৎস, ভৌগোলিক অবস্থান ও পানির ভূগর্ভে প্রবেশের প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে এই বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসে। ফলে নির্দিষ্ট পানির নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পানির মূল উৎস এবং বিভিন্ন উৎসের মিশ্রণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, পরিবেশগত আইসোটোপ ব্যবহারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি, ভূ-পৃষ্ঠের পানি ও ভূগর্ভস্থ পানির পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রবাহের পথ এবং ভূগর্ভস্থ পানির গতিশীলতা নিখুঁতভাবে বোঝা সম্ভব। অর্থাৎ প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে কেবল পানির স্তরের গভীরতা মাপা হয়, আইসোটোপ সেখানে পানির পুরো ‘জীবনকাহিনী’ উন্মোচন করে।
ভূগর্ভস্থ পানি কতটা নতুন, কতটা পুরনো?

পানি ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- একটি অ্যাকুইফারে জমা থাকা পানি কত বছরের পুরনো?

সব ভূগর্ভস্থ পানির বয়স এক নয়। কোনো পানি হয়তো মাত্র কয়েক বছর আগে বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে শোষিত হয়েছে, আবার কোনো গভীর স্তরের পানি কয়েক শত বা কয়েক হাজার বছর ধরে ভূগর্ভে সঞ্চিত রয়েছে।

এই বয়স নির্ণয়ে ট্রিটিয়াম (হাইড্রোজেন-৩) এবং কার্বন-১৪-সহ বিভিন্ন রেডিওআইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। অপেক্ষাকৃত তরুণ পানির গতিপথ বুঝতে ট্রিটিয়াম এবং হাজার বছরের পুরনো পানির বয়স নির্ধারণে কার্বন-১৪ ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই গবেষণার গুরুত্ব অনেক আগে স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও আইএইএ-এর যৌথ গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অগভীর ও গভীর নলকূপের পানিতে পরিবেশগত আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। এতে দেখা যায়, কিছু অগভীর ভূগর্ভস্থ পানি নিয়মিত পুনর্ভরণ হলেও গভীর স্তরে বহু পুরনো পানি আটকে রয়েছে, যেখানে আধুনিক পুনর্ভরণ অত্যন্ত সীমিত।

এই তথ্য পানি ব্যবস্থাপনার জন্য সতর্কবার্তা। কারণ একটি অ্যাকুইফারে যদি হাজার বছরের পুরনো পানি থাকে এবং তা প্রাকৃতিক উপায়ে পুনর্ভরণ না হয়, তবে সেখান থেকে অনবরত পানি তোলা মানে একটি সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদকে স্থায়ীভাবে নিঃশেষ করে ফেলা।


আগামীর সময়

ভ্রমণ ভাতা বাড়ছে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের। আগামীর সময় এর শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিদেশে হোটেল ভাড়া ও পকেটের নগদ ভাতা ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি সফরে গেলেই তারা এ সুবিধা ভোগ করবেন। এ ব্যাপারে একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে সরকারের এ-সংক্রান্ত কমিটি। এটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র আগামীর সময়ের কাছে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এক যুগের বেশি সময়ের ব্যবধানে সরকারি কাজে বিদেশ সফরকালে প্রধান বিচারপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের হোটেল ভাড়া ও ভাতা বাড়েনি। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ব্যাপক পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করে ভাড়া ও নগদ ভাতার হার পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১২ এবং ২০০১ ও ১৯৯৫ সালে ভ্রমণসংক্রান্ত দৈনন্দিন ভাতা ও সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সূত্রমতে, রাষ্ট্রীয় কাজে সম্প্রতি লন্ডন সফরকালে একজন মন্ত্রীর জন্য একটি পাঁচতারকা হোটেলে সাধারণ রুম দৈনিক ৮৫০ মার্কিন ডলারে ভাড়া বুকিং করা হয়, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। পরে অর্থ বিভাগ থেকে এতে সম্মতি দেওয়া হয়। অথচ একই হোটেলে মডারেট সুইট বুকিং করা হলে তা সিলিংয়ের চেয়ে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি হতো। এমন বাস্তবতার নিরিখে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সরকারি বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে হোটেল ভাড়ার সিলিং প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে গত ১৮ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশ চূড়ান্ত করে। সেখানে উচ্চ, মধ্যম এবং কম খরচের হিসাবে সারা বিশ্বের দেশগুলোকে ভাগ করা হয়। হোটেল ভাড়া ও দৈনিক ভাতা সবচেয়ে বেশি বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে উচ্চ খরচের দেশগুলোতে অবস্থান করলে। পর্যায়ক্রমে মধ্যম ও নিম্ন খরচের দেশগুলোর হোটেল ভাড়া ও দৈনিক ভাতা কমিয়ে সিলিং নির্ধারণ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, রাশিয়াকে উচ্চ খরচের দেশের তালিকায় যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন, হংকংও এ তালিকায় আছে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, ওমানকে অানা হয় এ তালিকায়।

এ ছাড়া মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, মালে (মালদ্বীপ), তুরস্ক, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, চেক রিপাবলিক, রোমানিয়া, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান রয়েছে মধ্যম খরচের দেশে। পাশাপাশি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, চিলি, কলম্বিয়া এবং মিসর, জর্ডান, মরক্কো, লেবাননও আছে এ তালিকায়। আর কম খরচের তালিকায় আছে নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, লাওস, কম্বোডিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি।

‘সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকালে বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্য ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্নির্ধারণ’ সংক্রান্ত কমিটি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির জন্য উচ্চ খরচের দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য প্রতি রাতে হোটেল ভাড়া ৫৬০ থেকে বাড়িয়ে ৮২৩ ডলার করার সুপারিশ করেছে। তবে মধ্যম খরচের দেশগুলোর ক্ষেত্রে ৪৫৯ থেকে বাড়িয়ে ৬৭৫ এবং কম ব্যয়ের দেশগুলোর জন্য ৩৯৩ থেকে বাড়িয়ে ৫৭৮ ডলারের সুপারিশ করা হয়। এ বাড়তি হার বর্তমানের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশ প্রতিদিনের শিরোনাম- বিপদ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। এতে বলা হয়, দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। প্রায় প্রতিদিনই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘শুধু সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমাদের নজরদারি ও পূর্বাভাস মডেল স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এক মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘থেমে থেমে বৃষ্টি, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার জন্য অনুকূল তাপমাত্রা এবং নজরদারির তথ্য-সবকিছুই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এডিস মশা এখন জেলা, উপজেলা এমনকি অনেক গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মূল সমস্যা হলো প্রমাণভিত্তিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বাস্তবায়ন না করা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক জরিপে কোথায় কত শতাংশ এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু সেই হটস্পটগুলো লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে রাস্তায় ফগিং ও সাধারণ লার্ভিসাইডিংয়ের মতো গতানুগতিক কার্যক্রমই চলছে। যেখানে এডিস মশা জন্মাচ্ছে, সেখানে যদি নিয়ন্ত্রণকার্যক্রমই না পৌঁছায়, তাহলে শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ঢাকার বাইরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোরও মশা নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত দায়িত্ব ও বাজেট রয়েছে। তাই দ্রুত মশা নিধনে প্রমাণভিত্তিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন আক্রান্ত : ডেঙ্গুর ভরা মৌসুমে হুহু করে বাড়ছে আক্রান্ত। প্রায় প্রতিদিনই হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩১৪ জন, মারা গেছে চারজন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে একজন, ঢাকা বিভাগে একজন এবং খুলনা বিভাগের হাসপাতালে একজন মারা গেছে। গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৩ হাজার ৯০৪ জন, মারা গেছে ১২১ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের সাত দিনেই আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৫৮ জন, মারা গেছে ২৪ জন।

কালের কণ্ঠ

কালের কণ্ঠের শিরোনাম- ডেটা বেইস দুর্বলতায় অপরাধীরা অধরা। এতে বলা হয়, চারপাশে ভয়ংকর অপরাধীচক্র সক্রিয়। নানা মুখোশের আড়ালে তারা বেপরোয়া। কখনো নাম পরিচয় বদলিয়ে, কখনো ঠিকানা কিংবা পদ-পরিচয় গোপন করে একের পর এক অপরাধ করে চলছে তারা। এক জায়গায় ধরা পড়লেও আগের অপরাধ শনাক্তকরণে দুর্বলতা কিংবা সমন্বয়হীনতার কারণে অপরাধের মাত্রা যাচাই করা যাচ্ছে না। আবার সরকারি চাকরিতে যত সহজে অপরাধী চিহ্নিত করা যায়, বেসরকারিতে তা করার কোনো উদ্যোগ নেই। গৃহকর্মী, দারোয়ান থেকে কর্মকর্তা কিংবা করপোরেট নির্বাহী—কারো ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ একক ডেটা বেইস বা তথ্যভাণ্ডার নেই। এক জায়গায় তথ্য যাচাইয়ে মিলছে না সার্বিক তথ্য। ফলে অপরাধী একেক জায়গায় একেক অপরাধ করেও থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। চাকরি, বাসাভাড়া কিংবা ব্যাবসায়িক সম্পর্ক—একজন মানুষের বর্তমান পরিচয় যাচাই করাই এখনো অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করছে কাগজপত্র, স্থানীয় পরিচিতি ও মৌখিক তথ্যের ওপর। তথ্যের মধ্যে কার্যকর সংযোগ না থাকায় অপরাধীর অতীত নিয়ে যাচাই অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, কেস স্টাডি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ আলোচনায় আসে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মুখে ও দুই হাতে স্কচ টেপ পেঁচানো ইসমাঈল হোসেনের (৪৯) লাশ বাস থেকে ফেলে যাওয়ায় জড়িত বাসচালক এবং এক সহযোগী আটকের ঘটনাটি। ওই বাসের সুপারভাইজার সাজুর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতির মামলা এবং চালক সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও দুটি মাদকের মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও আছে। এর পরও কিভাবে সাজু বাসের স্টিয়ারিংয়ে বসল—এই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

জানতে চাইলে বনানী থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের পেশায় সাধারণত পূর্ববর্তী রেকর্ড যাচাই করার প্রবণতা কম। ফলে চাকরি পেয়ে তারা ওই সুযোগটি (অপরাধ) নিয়েছে। যদি যাচাই করে বাসে চাকরি দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো এমন ঘটনাটি না-ও ঘটতে পারত।’

জানা যায়, থানাগুলোতে পর্যাপ্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি না থাকার কারণে একাধিক মামলার আসামিরাও গ্রেপ্তারের পর নাম-ঠিকানা বদলে ফেলে, পরবর্তী সময়ে কারাগারের বায়োমেট্রিক পরীক্ষায় তাদের আসল পরিচয় উঠে আসার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। গত এক বছরে শুধু কুমিল্লা কারাগারেই এমন ২৩ জনের ঘটনা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধীর তথ্য এক জায়গায়, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধ গোপন রেখে চাকরি কিংবা ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। এমনকি সরকার আন্তরিক হলে একটি সিস্টেমে একজন ব্যক্তির সব তথ্য একটি কার্ডেও নিয়ে আসা সম্ভব। সেখানে তার সব তথ্য থাকবে, গুরুতর অপরাধী হলে রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা পেতে গেলে তার অপরাধ ধরা পড়বে—এমন সিস্টেম চালু করা জরুরি।

প্রথম আলো

প্রথম আলোর প্রথম পাতার একটি শিরোনাম - দেশে জ্বর-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের ১৩% ইনফ্লুয়েঞ্জা
বিশ বছরের পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে। সাধারণ জ্বর-কাশি ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ১৩ শতাংশ ইনফ্লুয়েঞ্জার রোগী। একই পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক।

২০০৭ সাল থেকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এই কাজে তাদের সহায়তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। গতকাল মঙ্গলবার আইইডিসিআরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে দুই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ওই চার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেশ কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালের