মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন- পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত যৌথ প্রতিরক্ষা জোট ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ ইরানের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে। সোমবার মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে (এমজিআইএমও) দেয়া বক্তব্যে লাভরভ বলেন, ২০ বছরেরও বেশি আগে রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছিল যে, উপসাগরীয় দেশগুলো, যার মধ্যে ‘আরব রাজতন্ত্রগুলো’ এবং ইরানও রয়েছে, তারা একটি অভিন্ন নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লাভরভ বলেন, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক জটিল। এটা স্বীকার করেই আমরা ধরে নিয়েছিলাম, আমরা তাদের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে, পারস্পরিক অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে এবং আস্থা তৈরির কিছু পদক্ষেপে সম্মত হতে সহায়তা করব। ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। লাভরভ বলেন, চীনের মধ্যস্থতায় এবং রাশিয়ার উৎসাহে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল। তিনি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর কয়েক বছর আগে চীনের উদ্যোগ এবং আমাদের সক্রিয় উৎসাহে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উপস্থাপিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন লাভরভ। তিনি এটিকে ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা ও একটি প্রতিরক্ষা জোটের’ কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, এই কাঠামো ভবিষ্যতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে মিশর ও আলজেরিয়াও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান তিনি। লাভরভ বলেন, যদি এই কাঠামো এমন শর্তে একমত হতে পারে, যার আওতায় ইরানও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে, তাহলে আমার মনে হয়, আমরা শুরুতে যে ধারণাটি প্রস্তাব করেছিলাম, তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটিই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় রাশিয়া নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা নেয়ার চেষ্টা করবে না।
