যুগান্তর
দৈনেক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘রাশিয়া থেকে ক্রয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: টাকা গেল, এলো না কপ্টার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশবাহিনীর জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাশিয়া থেকে ৫৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা দুটি হেলিকপ্টারের একটিও পাচ্ছে না বাংলাদেশ সরকার। জি-টু-জি পদ্ধতিতে এই আমদানির মধ্যস্থতাকারীকে ৪ শতাংশ হারে প্রায় ১৭ কোটি টাকা কমিশন দেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩ অর্থবছরে হেলিকপ্টারের মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪২৮ কোটি টাকা। সবকিছু সঠিকভাবে পরিশোধ করা সত্ত্বেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হেলিকপ্টার পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কবে নিষেধাজ্ঞা উঠবে আর কবে হেলিকপ্টার পাওয়া যাবে-তা কেউ বলতে পারছেন না। এই অবস্থায় সরকার অর্থ ও পণ্য দুদিকেই ক্ষতির শিকার। ‘আম-ছালা দুটোই গেল’ বলা যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তির ২ মাসের মাথায় রাশিয়ান জেএসসি হেলিকপ্টার্সের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জেনেশুনে পর্যায়ক্রমে ৩ অর্থবছরে মূল্য পরিশোধ করেছে সরকার। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ কর্মকর্তা প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশনে (চালানের আগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা) রাশিয়াও সফর করেছেন। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার হেলিকপ্টার আপাতত গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্রটি জানায়, ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর ওই রুশ কোম্পানি থেকে ‘এমআই১৭১এ২’ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার কেনার জন্য চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। দরপত্র ছাড়াই জি-টু-জি পদ্ধতিতে চুক্তি হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫৫৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩ অর্থবছরে মোট মূল্যের ৭০ শতাংশ হারে প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। রুশ কোম্পানিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ২০২২ সালের প্রথমদিকে। বিষয়টি জানার পরও ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। এরপরই সরকারের নড়াচড়া শুরু হয়।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘রাশিয়া থেকে পুলিশ বাহিনীর জন্য আমি কোনো হেলিকপ্টার কিনিনি। যারা কিনেছে তাদের গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। এটা আমার বিষয় নয় এবং এ বিষয়ে আমি কথা বলব না।’ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু নঈম যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান দায়িত্বে আমি মাত্র ২৪ দিন কাজ করছি। হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘এই চুক্তি হয়েছে ২০২১ সালে। তখন আমরা কেউ বর্তমান দায়িত্বে ছিলাম না। রাশিয়ার সরকারি যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের নজরে এসেছিল। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা হয়েছে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে সবাই কেমন যেন লুকোচুরি করছে।’
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া হেলিকপ্টার সরবরাহ করবে বলে জানালেও আপাতত তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে রাশিয়ার হেলিকপ্টার নেওয়া যাবে না। তা নিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে।’
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, ‘জি-টু-জি পদ্ধতিতে হেলিকপ্টার কেনা হলেও এর মধ্যস্থতাকারী সৈয়দ আহসান আহমেদ সায়মুমকে ক্রয়মূল্যের ওপর ৪ শতাংশ হারে ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা কমিশন দেওয়া হয়েছে। সাইমুম তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার ছিলেন। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পরও আট কর্মকর্তা চালান পরীক্ষা (পিএসআই) করতে রাশিয়া যাওয়ার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ওই কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, চুক্তির শর্ত অনুসারে যেতে হয়েছিল, কারণ এটা আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ও ইউক্রেন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এরপর রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদনকারী সব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার মাত্র ২ মাস আগে ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৩ অর্থবছরে ৪২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা। শর্তানুযায়ী ওই সময়ের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুটি সরবরাহ করার কথা ছিল রাশিয়ার। এমনকি রাশিয়া ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি সরবরাহের জন্য একটি হেলিকপ্টার প্রস্তুতও করে। অপরটি ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেওয়ার কথা ছিল।
একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরই রাশিয়ার চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি ছিল। কারণ চুক্তির ২ মাসের মধ্যে অর্থকড়িও লেনদেন তেমন হয়নি। সবকিছু জানার পরও অর্থ পরিশোধ করার মধ্যে বড় কোনো দুর্নীতি থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ব্যক্তি স্বার্থের জন্য জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। কমিশনভোগী রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজ আমলারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল। অদৃশ্য কারণে তারা সত্য গোপন করেছেন। নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এখনো এ সংক্রান্ত ফাইল চালাচালি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রথম আলো
‘টিকা না পাওয়া শিশুর হামের ঝুঁকি ৯ গুণ’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকা না পাওয়া শিশুর হামের ঝুঁকি টিকা পাওয়া শিশুর তুলনায় ৯ গুণ বেশি। গবেষকেরা এমন ছয় ধরনের ঝুঁকি শনাক্ত করেছেন। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, শুধু টিকা দিয়ে হাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনির্ণয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তাদের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে অনুসন্ধান করে। তাদের ভাষায় এটি ‘আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন’। এই অনুসন্ধানে আইইডিসিআর দেখেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রথমে সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বেশি নেওয়া হয়। ফেসবুকে টিকাবিরোধী প্রচারণাও এ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এ বছর মার্চ মাসের শুরুর দিকে। আইইডিসিআর কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ১৩ থেকে ১৬ মে এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ২০ থেকে ২২ মে এ অনুসন্ধানকাজ পরিচালনা করে। এই দুই উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬২ জন হামে আক্রান্ত শিশুর সম্ভাব্য সব ধরনের তথ্য গবেষকেরা সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুর বাড়ির পাশে হামে আক্রান্ত হয়নি, এমন দুটি শিশুর তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করেন। ১৩ সদস্যের অনুসন্ধান দলের নেতৃত্ব দেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী। দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম এবং লৌহজং উপজেলার সদ্য সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা লস্কর।
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামের আলোচনায় টিকা, টিকার কাভারেজ—এ ধরনের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মানুষের আচরণ—এ নিয়ে আলোচনা কম। আমরা গবেষণায় এমন কিছু বিষয় পেয়েছি, যেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।’ এ অনুসন্ধানের ফলাফল গত আগস্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
দুই উপজেলায় কী পাওয়া গেছে
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুরা প্রথমে বেসরকারি খাত থেকেই বেশি চিকিৎসা নেয়। আক্রান্ত ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু প্রথম যায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ওষুধের দোকানে। অথবা তারা বাড়িতে সেবা নেয় বা গ্রাম্য চিকিৎসকের চিকিৎসা নেয়। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ওষুধের দোকানের বিষয়টি এখনো সরকারি তথ্যব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত নয়। হামে আক্রান্ত শিশুদের মাত্র এক–তৃতীয়াংশ প্রথমে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসে।
আক্রান্ত শিশুদের ৪৭ শতাংশের টিকা কার্ড আছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (আপিআই) টিকার মজুতের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা গেছে। এ বিষয়ে যে রেজিস্টার আছে, তাতে অসম্পূর্ণতা লক্ষ করা গেছে। ২০২৫ সালে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কর্মবিরতি টিকা কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছিল। টিকাবিরোধী প্রচারণাও ধরা পড়েছে অনুসন্ধানে। ১২ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় হামের টিকার বিরুদ্ধে প্রচারণা আছে।
গবেষকেরা বলছেন, টিকার জন্য উপযুক্ত এমন ১০০ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও টিকা পায়নি এমন শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। ইপিআইয়ের মাঠপর্যায়ের পরিকল্পনায় (মাইক্রোপ্ল্যান নামে পরিচিত) শিশুদের সংখ্যা কম ধরার কারণে এমন হয়েছে।
কোথায় কাদের ঝুঁকি
গবেষকেরা টিকা নেওয়া এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে কিছু বিষয় তুলনা করার চেষ্টা করেছেন। ইপিআই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া বা ঠিকঠাকভাবে না চলার করণে অনেক শিশু ঠিক সময়ে টিকা পায়নি। গবেষকেরা বলছেন, ইপিআই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে হামের ঝুঁকি ৩ গুণ বেড়ে যায়। ওই দুই উপজেলার মানুষ অনেকে গ্রামের বাইরে গেছেন, অনেকে যাননি। যেসব পরিবারে ভ্রমণের ইতিহাস বেশি, সেখানে হামে আক্রান্ত শিশুও বেশি। ভ্রমণ বা যাতায়াত হামের ঝুঁকি প্রায় ৩ গুণ বাড়িয়েছে।
গবেষকেরা দেখেছেন, আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে অন্য শিশু এলে তার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২ গুণ বেশি। আবার যেসব শিশু মা–বাবা বা অন্য অভিভাবকের সঙ্গে বাজারে যায়, তাদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আড়াই গুণ বেশি। এ ছাড়া সামাজিক বা ধর্মীয় জমায়েতের কারণেও হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪ গুণ বাড়ে বলে গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে যেসব এলাকায় টিকা দেওয়া হয়, সেখানে ঘাটতি চোখে পড়েছে। সব শিশুকে সমানভাবে টিকার আওতায় আনার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত হওয়া শিশুর সংস্পর্শ থেকে অন্য শিশুকে দূরে রাখার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’
সামনের পথ কী
প্রতিটি ঝুঁকি কমানোর জন্য পৃথকভাবে করণীয় বা কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা বলে দিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলেছেন, সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এই একটি কাজ করলেই হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৯ গুণ কমে যাবে। ইপিআই ঠিকঠাক চলতে হবে, যেন শিশুরা নিয়মিতভাবে টিকা পায়। বড় শহরে যাওয়া বা বাজারে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। এ ছাড়া সরকার হাম নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষকে বা কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
এ অনুসন্ধানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু টিকা দিয়ে সরকার হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে না—এ কথা আমরা হামের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে বলে আসছি। কিন্তু সরকার জনস্বাস্থ্যবিদদের কথা শুনছে না। আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে জোর প্রচার–প্রচারণা চালানোসহ নানা পদক্ষেপ নিতে হবে। আইইডিসিআরের গবেষকেরাই অনেক সুপারিশ করেছেন। তা বাস্তবায়ন করা জরুরি।’
হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু
গতকাল সোমবার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫৬ জন চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর বাইরে একই সময় ৬০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ বছর মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে ৯৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৭৫৬ জনের। গতকাল সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় সাড়ে চার হাজার হামের রোগী ভর্তি ছিল।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর তৎপরতা বেড়েছে: ইয়াবা বেচে কিনছে অস্ত্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের আরাকান বা রাখাইনভিত্তিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে অস্ত্র সংগ্রহের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। নিজ নিজ দলের সদস্যসংখ্যা বাড়াতেও তারা বেশ তৎপর।
এ কারণে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও ইয়াবার বাজার কিছুদিন ধরে রমরমা। অস্ত্র সংগ্রহে অর্থের উৎস ইয়াবা। এ জন্য সীমান্তে ইয়াবার বাজার দখল নিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে, যা থেকে প্রায়ই খুনাখুনি ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত দুই বছরে অন্তত ১৯টি বড় সংঘর্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ২৯২ জন। সবচেয়ে রক্তাক্ত বছর ছিল ২০২৩ সাল। ওই বছর আরসা ও আরএসওর সংঘাতে নিহত হয় ৮৩ জন।
সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট উখিয়ার বালুখালী ৮ নম্বর ওয়েস্ট ক্যাম্পে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে ইউসুফ নামের ছয় বছরের একটি শিশু নিহত হয়।
নাম প্রকাশ না করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের এক সদস্যের কালের কণ্ঠকে দেওয়া তথ্য মতে, সবচেয়ে বেশি অস্ত্র রয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা)। আরসার কাছে বর্তমানে অন্তত চার থেকে সাড়ে চার হাজার অস্ত্র রয়েছে। আরসার সদস্যসংখ্যা প্রায় সাত হাজার। বর্তমানে আরসার কমান্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন রোহিঙ্গা আবদুল খালেক।
গ্রুপের সদস্যরা বর্তমানে ইয়াবার কারবার করে অস্ত্রের ভাণ্ডার বাড়াতে তৎপর বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) দুই থেকে আড়াই হাজার অস্ত্র রয়েছে। কমান্ডার নবী হোসেনের এক ভাই কামাল খুন হওয়ার পর তাঁর আরেক ভাই ভুলু বর্তমানে সেকেন্ড ইন কমান্ডারের দায়িত্বে।
নবী হোসেনের প্রসঙ্গটি সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় ওঠে। সভায় কমিটির অন্যতম সদস্য এবং উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা নবী হোসেন ছিলেন কুখ্যাত ডাকাত। তিনি নাফ নদে ইয়াবা পাচারের পয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এর পর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কিনে গঠন করেছেন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি নামের সংগঠন। গতকাল সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, নবী হোসেন এখনো নাফ নদ দিয়ে পাচারকালে ইয়াবা কারবারিদের কাছ থেকে দিনে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
নবী হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে একসময় নাফ নদের লালদিয়া ও হউসেরদিয়া নামের দুটি দ্বীপে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। তখন মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে প্রচুর টাকা হাতিয়ে অস্ত্রের মজুদ বাড়ান।
এমন অভিযোগও রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে থানাগুলো থেকে লুণ্ঠিত কিছু অস্ত্র নবী হোসেনের কাছে পৌঁছায়। ইয়াবা বিক্রির টাকায় এসব অস্ত্র তিনি কিনে নেন।
নিরপেক্ষভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়। ওই সময় নাফ নদে নবী হোসেনের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। তাঁর ইয়াবার ব্যবসাও ছিল একচেটিয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ত্রের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে পুরনো সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। এই গ্রুপে অন্তত দুই হাজার অস্ত্র ও পাঁচ হাজার সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের কমান্ডার মাস্টার আইউব। আরএসওর লোকজনের সঙ্গে নবী হোসেনের গ্রুপের বিরোধ রয়েছে। নবী হোসেনের দখল করা নাফ নদের একটি দ্বীপ বর্তমানে আরএসও দখলে নিয়ে ইয়াবা কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে চতুর্থ আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)। তাদেরও রয়েছে দেড় থেকে দুই হাজার সদস্য এবং কয়েক শ অস্ত্র। রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে ছোট গ্রুপ ইসলামী মাহাজ। রোহিঙ্গা আলেম-ওলামা ও মুজাহিদদের এ সংগঠনেও রয়েছে হাজার দেড়েক সদস্য এবং কয়েক শ অস্ত্র।
সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত বিভিন্ন বাহিনী এবং রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার-বাংলাদেশের সীমান্ত রেখা নাফ নদের আধিপত্য নিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর যত বিরোধ। নাফ নদের মাঝখানে বেশ কয়েকটি দ্বীপ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লালদিয়া (দ্বীপ), খেরেরদিয়া, হউসেরদিয়া, তোতারদিয়া ও জইল্যারদিয়া। এসব দ্বীপ মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের সময় ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ কারণে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলো এসব দ্বীপে আধিপত্য বিস্তারে তৎপর।
সমকাল
‘১০ জেলায় উচ্চ সংক্রমণ, টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন’—এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ছয় মাস হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রতিদিনই বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বর্তমানে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছুঁইছুঁই। দেশের ৬৪ জেলাতেই হাম ছড়িয়েছে। তবে ১০ জেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক অনেক বেশি। সন্দেহভাজন ও হাম রোগীর সংখ্যা ঢাকায় সবচেয়ে বেশি। এর পরই আছে চট্টগ্রাম, বরিশাল, কক্সবাজার ও সিলেট।
এদিকে গত এপ্রিলে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর সময় সরকার জানিয়েছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই দেশে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হবে এবং হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে পাঁচ মাস ২৩ দিন পার হলেও সংক্রমণ কমার লক্ষণ নেই। এ নিয়ে টিকা কর্মসূচির কার্যকারিতা ও কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৯৭। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৮৫ হাজার ৬০ জন।
জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৬৬৬। এর মধ্যে সন্দেহভাজন রোগী ৪৭ হাজার ৮৬১ এবং নিশ্চিত রোগী ১০ হাজার ৮০৫ জন। এ জেলায় মৃত্যু হয়েছে ৪১৪ জনের। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম। সেখানে সন্দেহভাজন সাত হাজার ২৮৩ এবং নিশ্চিত ৭৪৪ জনসহ মোট আক্রান্ত আট হাজার ২৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।
বরিশালে মোট আক্রান্ত সাত হাজার ২০৮ জন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন সাত হাজার ৬৪ এবং নিশ্চিত রোগী ১৪৪ জন। এ জেলায় মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। কক্সবাজারে আক্রান্ত ছয় হাজার ৪২০ জন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন ছয় হাজার ১৮৯ এবং নিশ্চিত ২৩১ জন। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। সিলেটে আক্রান্ত ছয় হাজার ৬৯ জন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন পাঁচ হাজার ৭১০ এবং নিশ্চিত রোগী ৩৫৯ জন। এ জেলায় মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জনের। আক্রান্তে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে অন্যগুলো হলো নোয়াখালী, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা। নোয়াখালীতে মোট আক্রান্ত পাঁচ হাজার ৮১৯, ফরিদপুরে পাঁচ হাজার, কুমিল্লায় চার হাজার ৫০৩ জন।
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকায়ও নিয়ন্ত্রণে নেই হাম
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের গণহারে টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচি চলে ২০ মে পর্যন্ত। কর্মসূচি শুরুর সময় সরকার সারাদেশে অন্তত এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এপ্রিল ও মে মাসের ক্যাম্পেইনে প্রায় এক কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজারের বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে টিকার কাভারেজ হয়েছে শতভাগেরও বেশি। তবে শুরু থেকেই এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এর একটি বড় কারণ, একই বয়সী শিশুদের নিয়ে জুনে হওয়া ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কর্মসূচির তথ্য। সেখানে প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হয়। ফলে হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত জনসংখ্যার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে টিকাদান শুরু করা ঠিক ছিল। কিন্তু এরপর তৃণমূলের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা ও টিকার অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া এবং পরিস্থিতি শুরুতেই যথাযথভাবে স্বীকার না করা। হাম নিয়ন্ত্রণে জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। এই মাত্রায় টিকাদান না হলে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো কঠিন।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে শঙ্কা কাটেনি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ জটিলতা ও কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা শেষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার খবরে দেশের লাখো অভিবাসন ইচ্ছুক কর্মী এবং জনশক্তি রপ্তানিকারকের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা গেলেও এখনো শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত এবং কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতির কথা বলা হলেও, মালয়েশিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য, নতুন করে নিয়োগকারী ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে পুরোনো সিন্ডিকেট প্রথা নিয়ে আতঙ্ক এবং মালয়েশিয়া সরকারের অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান ঘোষণার কারণে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও শঙ্কার মেঘ জমা হয়েছে।
এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হবে বলে ঘোষণা দিলেও তা কার্যকরে কোনো অগ্রগতিও দৃশ্যমান নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসা বক্তব্যের সঙ্গে মালয়েশিয়ার জাতীয় পরিকল্পনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সরকারের অবস্থানের মিল নেই। ফলে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কর্মী নেওয়া হবে কিনা, হলে কতসংখ্যক এবং কবে থেকে নেওয়া হবে, এসব বিষয় নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও তাতে অগ্রগতি আসেনি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ছিল মালয়েশিয়া। এ সফর ঘিরে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রত্যাশা তৈরি হলেও সরাসরি কোনো ঘোষণা আসেনি। পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এ বিষয়ে নানা বক্তব্য এলেও কবে থেকে এবং কী পরিমাণ কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর ভিন্নমত
গত ২৮ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। এর দুই দিন পর, গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রায় ২ লাখ শ্রমিক নেবে তারা। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক তারা ফ্রিতে নেবে। বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে।
তবে মীর শাহে আলমের এ দাবিকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ২ লাখ কর্মী নেওয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, এ সংখ্যা বর্তমান বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ছয় মাসে ২ লাখ কর্মী নিতে হলে প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে হবে, যা বাস্তবসম্মত নয়।
সিন্ডিকেট তৈরির শঙ্কা
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় আবারও ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। নিয়োগকারী ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বহুপ্রতীক্ষিত এই শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই পুরোনো ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা নতুন মোড়কে ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফরম এফডব্লিউসিএমএস—এ ৩৩৮টি বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সি, তাদের অধীনে ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল ও এর অধীনে ৬২টি এজেন্সিকে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এই তালিকার বড় একটি অংশ জুড়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশে কর্মী পাঠানোর ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই এবং লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি একটি লোকও বিদেশে পাঠায়নি, এমন অখ্যাত রিক্রুটিং এজেন্সির নামও তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে।
অভিবাসন নিয়ে মালয়েশিয়ার কঠোর নীতি
মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানা যায়। আগামী পাঁচ বছরের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘থার্টিন্থ মালয়েশিয়া প্ল্যান (১৩এমপি), ২০২৬-৩০’ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট কর্মশক্তিতে বিদেশি শ্রমিকের অংশ ১০ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ১৩ শতাংশ কমেছে।
নয়া দিগন্ত
‘হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত হচ্ছে’—এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং সংগৃহীত অর্থ ভুক্তভোগী ও শহীদ পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ বা কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। প্রক্রিয়াটি সংশোধিত ও চূড়ান্ত হলে তা আইনি পরিভাষায় ‘রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট’ বা ভুতাপেক্ষ হিসেবে (পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর) প্রযোজ্য হবে। ফলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না।
গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও বর্তমান রুলস অব প্রসিডিউরে আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা জরিমানা করা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার মৌলিক বিধান থাকলেও ঠিক কোন প্রশাসনিক বা সরকারি কাঠামোর মাধ্যমে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, নিলাম বা বিক্রি করা হবে, তার নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি বিধিতে উল্লেখ নেই। ট্রাইব্যুনাল-২ এর একটি মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই শূন্যতার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। আমাদের প্রচলিত ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ বা ‘ফৌজি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা’য় বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি ও জরিমানা আদায়ের যে পদ্ধতি রয়েছে, তার আদলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে অর্থাৎ মিউটেটিস মিউটেন্ডিস নীতিতে ট্রাইব্যুনালের বিধিতে বিস্তারিত বিধান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে করে ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর করার সময় সরকারের নির্বাহী বিভাগ একটি স্পষ্ট আইনি কাঠামোর আলোকেই পদক্ষেপ নিতে পারবে। এ বিষয়ে দু’টি ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি আইনি সেমিনার আয়োজনেরও চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে আইনি সংশোধনীর সঠিক রূপরেখা তৈরি করা যায়।
শেখ হাসিনার যেসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে
জুলাই হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার ঘোষিত সম্পদের মধ্যে কোনগুলো সরাসরি বাজেয়াপ্তির আওতায় আসবে এবং কোনগুলোর ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়েছে।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিজের নামে চার কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা করেছিলেন। বাজেয়াপ্তির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তার নিজ নামের যেসব অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত বা নিলামে ওঠার প্রক্রিয়ায় আসবে, সেগুলো :
ব্যাংক হিসাব ও স্থায়ী আমানত: শেখ হাসিনার ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা থাকা দুই কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর)।
যানবাহন ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি: হলফনামায় প্রদর্শিত সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের দু’টি মোটরগাড়ি (উপহারের একটি বাদে), ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার এবং সাত লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র।
কৃষিজমি ও ব্যক্তিগত প্লট: গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, গাজীপুর ও রংপুরে ছড়িয়ে থাকা ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি (যার অর্জনকালীন মূল্য ছয় লাখ ৭৮ হাজার টাকা), ঢাকার পূর্বাচলে তার নিজের নামে থাকা ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের ১০ কাঠার একটি প্লট এবং টুঙ্গিপাড়ায় তিন তলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমি।
তবে শেখ হাসিনার নামে থাকা এসব ঘোষিত সম্পদের বাইরেও দুদকের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় উঠে এসেছে ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় তার অসত্য তথ্য দেয়ার ইতিহাস। সে সময় শেখ হাসিনা ৬.৫০ একর জমি দেখালেও দুদকের তল্লাশিতে তার নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছিল। আইন অনুযায়ী, তদন্তের মাধ্যমে শেখ হাসিনার একক মালিকানায় থাকা বাড়তি বা গোপন করা সম্পত্তি পাওয়া গেলে তাও বাজেয়াপ্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।
বণিক বার্তা
‘উচ্চ শিক্ষায় বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টের জমজমাট ব্যবসা’—এটি বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যান। এ শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেখাচ্ছেন। ব্যাংকে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আমানত আছে, এমন স্টেটমেন্ট দেখানোর জন্য দেশের অনেক ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২-৫ লাখ টাকা নিচ্ছেন।
বছর দুই আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান বাংলাদেশী তরুণ আকিব হোসেন (প্রকৃত নাম নয়)। ভিসার জন্য তাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্রের জোগান দেয় গুলশানের একটি শিক্ষা ও ক্যারিয়ার কনসালট্যান্সি ফার্ম। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের এ তরুণের পক্ষে ব্যাংকে ৬০ লাখ টাকার আমানত স্থিতি দেখানো সম্ভব ছিল না। সেজন্য ওই ফার্মটির মধ্যস্থতায় দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের শরিয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংকে ৩ লাখ টাকা জমা দেয়া হয়। বিনিময়ে ওই ব্যাংক থেকে দেয়া হয় ৬০ লাখ টাকার সলভেন্সি সার্টিফিকেট। এজন্য জমাকৃত টাকা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সার্ভিস ফি কেটে নেয় ব্যাংকটি।
আকিব হোসেনের মতো উচ্চ শিক্ষার জন্য গত বছর যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান রাফসান আহমেদ। স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হতে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় তাকে ব্যাংক স্টেটমেন্টও কম দেখাতে হয়। তার প্রয়োজন ছিল ১২ লাখ টাকার সলভেন্সি সার্টিফিকেট। তবে সেই সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য রাফসান আহমেদকে কোনো ব্যাংকেই যেতে হয়নি। উত্তরার একটি স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং সেন্টার তাকে ওই স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দিয়েছিল। এজন্য তাকে পরিশোধ করতে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যান। এ শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেখাচ্ছেন। ব্যাংকে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আমানত আছে, এমন স্টেটমেন্ট দেখানোর জন্য দেশের অনেক ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২-৫ লাখ টাকা নিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, এটি ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা ও কনসালট্যান্সি ফার্মের বড় ব্যবসা হয়ে উঠেছে। ভুয়া স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতারণামূলক এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস উদ্বেগ জানিয়েছে। নিজেরা বিবৃতি দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে অনেক দেশের দূতাবাস। আর এসব দেশে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীসহ ভ্রমণ ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। চলতি বছরের ৭ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সাক্ষাৎ করেন। ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেয়ার বিষয়টি সেই সাক্ষাতে তুলে ধরেন সারাহ কুক।
উদ্বেগজনক এমন প্রেক্ষাপটে গত ১২ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর পরও ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক স্টেটমেন্ট দেয়ার কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: কৌশল বদলাচ্ছে এনসিপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে কৌশল বদলাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ছাড় না পেয়ে একক নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায়ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল এনসিপি। এখন সেখানে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার কথা ভাবছে দলটি। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতিমধ্যেই ভোটদানের (ঠিকানা) এলাকা অদলবদল করেছেন। নাসীরুদ্দীন ঢাকা উত্তর থেকে দক্ষিণে এসেছেন। আর আসিফ ঢাকা দক্ষিণ থেকে উত্তরের ভোটার হয়েছেন।
এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটের (ভোটদানের) এলাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে নির্বাচনী এলাকা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েমকে রাখার সিদ্ধান্ত এনসিপির কৌশলে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী করার পর সেখানে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি এনসিপি। দলটির প্রত্যাশা ছিল, জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াত ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে এনসিপিকে সমর্থন দেবে। সেই সমঝোতা না হওয়ায় বিকল্প কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধানমন্ডির ভোটার ছিলেন। সেখান থেকে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন।
এনসিপির গণমাধ্যমবিষয়ক উপকমিটি গতকাল সোমবার দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলটি জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করা হয়। যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করেছে।
দলীয় নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াতের সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সে সময় জামায়াতের কাছ থেকে লোকবলসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছিলেন পাটওয়ারী। জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর হয়ে এলাকায় প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে দক্ষিণে তাঁকে প্রার্থী করা হলে জামায়াতের ভোটারদের একটি অংশকে নিজেদের পক্ষে টানার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করে এনসিপি। একই সঙ্গে জুলাই-পরবর্তী তরুণ ভোটারদের মধ্যেও নাসীরুদ্দীনের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও কাজে লাগাতে চায় দলটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত ঠিকানা পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে দলের রাজনৈতিক কৌশলেরও সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সামনে এনে জামায়াতের ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। স্বতন্ত্র মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারও শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। আর এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অংশ হয়ে নির্বাচন করে। জামায়াতের কাছে ছাড় না পেয়ে আসিফ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি বলে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। এবারও সেই জামায়াতের বাধায় দক্ষিণে তাঁর প্রার্থী হওয়া হচ্ছে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপি আগেভাগেই আসিফকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী করার প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছিল। এরপর জামায়াত সাদিক কায়েমকে দক্ষিণের প্রার্থী করার কথা বলে। এর পর থেকেই ঢাকা দক্ষিণ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে দর-কষাকষি চলছিল। সেখানে চাহিদামতো ছাড় না পেয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দেশ রূপান্তর
‘স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে নিষিদ্ধ আ.লীগ’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে একাধিক বিকল্প ভেবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। ক্ষমতাসীন থাকার সর্বশেষ দেড় দশকে দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা ব্যক্তিকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দেবে আওয়ামী লীগ। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়েও পরিকল্পনা আছে দলটির। দলীয় পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনের কোনো পর্যায়ে প্রার্থী হতে আপাতত নিরুৎসাহিত করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মূল লক্ষ্য বিজয় অর্জন নয়, বরং কার্যকরী ইস্যূ বের করে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।
দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন হবে সে কারণে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হলে ‘আওয়ামী লীগার’দের নির্বাচনের বাইরে রাখা বিএনপির জন্য কঠিন হবে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন যেহেতু হবে না সে কারণে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগকে আটকানোর সুযোগ কম। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী কাউকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেবে না এটা ধরেই নিয়েছে দলটি। দলের পদ-পদবিধারী প্রার্থীকে ভোটে বিরত রাখতে মব করবে, মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠাবে, মোট কথা, ভোটের মাঠে থাকতে দেবে না বিএনপি। এসব ধরে নিয়েই আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে থাকবে। তাই পদ-পদবিধারী নেতাদের আপাতত ভোট করতে দেবে না আওয়ামী লীগ।
ওই নেতারা আরও বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হবে এমন ব্যক্তি যার পদ-পদবি নেই; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিতে আপসহীন। ইতিমধ্যে সেরকম একটি তালিকাও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত করেছে, দাবি করেন কার্যক্রম-নিষিদ্ধ দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে। কাদের প্রার্থী করা হবে তারও চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে ভোটের মাঠে নামার সুযোগ হয়তো নেই। তাই পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনের মাঠে নামাবে না আওয়ামী লীগ। পদ-পদবি নেই, রাজনীতিতেও নিষ্ক্রিয় কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের, বংশগতভাবে আওয়ামী লীগ পরিবারের প্রার্থীদের ভোট করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ভাবমূর্তি আছে, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, সমাজসেবী-দানশীল, শিক্ষিত-মার্জিত প্রার্থীকে ভোটে নামাবে আওয়ামী লীগ। একঝাঁক তরুণ প্রার্থীকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও ষাটের-সত্তরের দিকে আওয়ামী লীগ করা পরিবারগুলোর সন্তান এবং স্বজনরা অগ্রাধিকার পাবেন। ৫ আগস্টের পরে স্থানীয়ভাবে টিকে থাকা পরিবারগুলো থেকেও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী হতে উদ্বুদ্ধ করবে আওয়ামী লীগ।’
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবে সেই ব্যক্তি যিনি ৫ আগস্টের পরে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় কিন্তু আওয়ামী লীগ-পরিবারের সন্তান। তিনি বলেন, কারা স্থানীয় নির্বাচন করবেন ইতিমধ্যে সেসব প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় সভাপতির যোগাযোগ হয়েছে। তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভাপতি। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এ সদস্য আরও বলেন, সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১০ হাজার প্রার্থীর একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ভোট করবেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে; স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়। এ দুটি বিষয়কে বিবেচনায় রেখে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করা হবে না। আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের নির্বাচন করার সুযোগও নেই। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কারা, কারা বংশগতভাবে আওয়ামী লীগার, চিন্তা-চেতনায় প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সেটি ধরে আওয়ামী লীগ একটি তালিকা করেছে। সে তালিকা ধরে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সবাইকে তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাত এ রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে সব রকমের প্রস্তুতি আওয়ামী লীগ নিয়ে রেখেছে। স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হবে, ফলে আওয়ামী লীগকে আটকানোর সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিকল্প আওয়ামী লীগার আছে। কারা প্রার্থী হবেন, কারা হবেন না সে ব্যাপারেও ভেবে রেখেছে আওয়ামী লীগ।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘৩৬ হাজার স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার মূলভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বেহাল। ভয়াবহ শিক্ষকসংকট, অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তদারকির অভাবে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৩৬ হাজার ২৩৫। সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য প্রায় ২০ হাজার। কোথাও ভবন আছে, শিক্ষক নেই। কোথাও শিক্ষক আছে, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। কোথাও একজন শিক্ষককে একই সময়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। আবার কোথাও শিক্ষক-শিক্ষার্থী থাকলেও পড়াশোনার অবস্থা খুবই করুণ। এমন বিদ্যালয়ও আছে যেখানে বছরের পর বছর কেউ বৃত্তি পাচ্ছে না। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষককে পাঠদানের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। অনেক বিদ্যালয়ে হচ্ছে না বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে কমছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, বাড়ছে ঝরে পড়ার হার। বিপরীতে বেসরকারি ভালো বিদ্যালয়ে চলছে ভর্তিযুদ্ধ।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিক্ষার মূল ভিতটাই গড়ে ওঠে প্রাথমিকে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এখানে বাচ্চারা পড়ে। তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝে মোটিভেশন করার বিষয় আছে। এজন্য এখানে শুধু শিক্ষক নিয়োগই যথেষ্ট নয়, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবীরা আগ্রহী হন এবং তাঁরা শিশুদের পেছনে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন। এ ছাড়া এই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে।
৫৬ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষক পদ ৬৫ হাজার ৫০২টি এবং সহকারী শিক্ষক পদ ৩ লাখ ৬৪ হাজার ২৯টি। সাকল্যে শিক্ষক পদ ৪ লাখ ২৯ হাজার ৫৩১টি। এর মধ্যে গত রবিবার পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৩৬ জন। ফলে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩৯৫টি, যা অনুমোদিত পদের প্রায় ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদই শূন্য ৩৬ হাজার ২৩৫টি (৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ)। গত বছরের জুলাইয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য ছিল ৩৪ হাজার ১০৬টি, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২ হাজার ১২৯টি। এর বাইরে সহকারী শিক্ষক পদও ফাঁকা রয়েছে ২০ হাজারের বেশি।
দুই শিক্ষক চালাচ্ছেন এক স্কুল: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পয়েস্তির চর তারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র শিক্ষক সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ ছয়টি। কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। তাঁদের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। দুই শিক্ষককে পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান করতে গিয়ে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাঠদান। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাদ্দাম হোসেন জানান, স্কুলটিতে ডেপুটেশনে শিক্ষক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষক পাওয়া যায়নি।
এক বছরেই ময়মনসিংহে ঝরেছে লক্ষাধিক শিশু: ময়মনসিংহের ২ হাজার ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৪২টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ ৮৫৩টি। শিক্ষকসংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে শিক্ষার্থীও। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৫ সালে শিক্ষার্থী ছিল ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৮ জন। চলতি বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮২২ জনে। এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৪৬ জন। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী কমেছে গফরগাঁও উপজেলায়। এমন পরিস্থিতিতে গত ২ জুলাই শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, মামলা জটিলতা কাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদ দ্রুত পূরণ করা হবে। অবিলম্বে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদেও নিয়োগ দেওয়া হবে।
