জার্মানির উগ্র ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে নাটকীয় জয়ের পথে। মূলধারার প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে তারা। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও ওই রাজ্যে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট তারা পেয়েছে বলে দাবি করেছে এএফডি। অন্তর্বর্তী বেশিরভাগ ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, এএফডি রেকর্ড ৪৪ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
রাজ্যটিতে এএফডির জনপ্রিয় নেতা উলরিখ জিগমুন্ড এই ফলাফলকে অসাধারণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চান তারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে উগ্র ডানপন্থী দল এর আগে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজ্য পর্যায়ে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে পুলিশ, স্থানীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্ষমতা পাবে এএফডি। স্যাক্সনি-আনহাল্টের জনসংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা রাজ্যটির এএফডিকে ডানপন্থী উগ্রবাদী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে ৩৫ বছর বয়সী জিগমুন্ড এই শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করেছেন। এএফডির জাতীয় দুই নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালার সঙ্গে জিগমুন্ডও ফলাফলে উচ্ছ্বসিত। বুথফেরত জরিপে যখন দেখা যায়, ২০২১ সালের তুলনায় এবার দলটি দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেতে যাচ্ছে, তখন এএফডি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এই ফলাফলকে একটি যুগসন্ধিক্ষণ এবং অতীতের সঙ্গে বড় ধরনের বিচ্ছেদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জার্মানির প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল দাস এরস্টে পর্যন্ত তাদের জনপ্রিয় অপরাধভিত্তিক ধারাবাহিক টাটর্ট সম্প্রচার বাতিল করে নির্বাচনের ফলাফলের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। সমর্থকদের উদ্দেশে জিগমুন্ড বলেছেন, এটি শুধু স্যাক্সনি-আনহাল্টের বিষয় নয়। এটি পুরো জার্মানির জন্য একটি সংকেত। আত্মবিশ্বাসী একটি সংকেত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জার্মান টেলিভিশনে প্রকাশিত নির্বাচনী পূর্বাভাসের একটি স্ক্রিনশট তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন। এরপর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে বাস্তববাদী এএফডির ঐতিহাসিক জয় বলে প্রশংসা করেছেন।
এর আগে দিমিত্রিয়েভ রাশিয়াপন্থী হিসেবে পরিচিত এএফডিকে জার্মানির জন্য আশা ও যুক্তি, সহযোগিতা, সত্য ও আশার দল হিসেবে প্রশংসা করেন। গত বছর জার্মানির জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দলটির প্রতি সমর্থন জানান। জার্মানিতে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছিল। তবে পোল্যান্ডের মধ্য ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্ক এই ফলাফলকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, পোল্যান্ডে কেবল বোকা ও বিশ্বাসঘাতকরাই এএফডির বিজয়ে আনন্দিত হতে পারে।
