দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এ বছর মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১১৭ জন। সেপ্টেম্বরে এই প্রাদুর্ভাব আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপে এ বছর প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যুর কারণে স্বাস্থ্যসেবা খাত আগে থেকেই মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্য খাতকে আরো বিপাকে ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৫৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছর একদিনে সর্বোচ্চ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অক্টোবরেও এর প্রভাব থাকতে পারে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তি তার চার বছর বয়সী ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে তিনটি সরকারি হাসপাতালে ঘুরেও কোনো শয্যা পাননি। পরে এক আত্মীয়ের সাহায্যে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটিকে সাত ব্যাগ রক্ত ও প্লাজমা দিতে হয়েছে। ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলাতেই এখন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর কমার পরপরই ডেঙ্গু রোগীদের প্লাজমা লিকেজ, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ঢাকার চিকিৎসক অধ্যাপক তারেক আলম জানান, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া এবং মশা নিয়ন্ত্রণের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে অধ্যাপক বাশার বলেন, শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশা ধ্বংস করতে এর প্রজননস্থলগুলো লক্ষ্য করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
