ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে শুরু গত ২৮শে আগস্ট শুরু হয়েছে জাতীয় দলের প্রস্তুতি। শুরুর দিকে ২৭ ফুটবলারকে নিয়ে আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি মিশনে নেমেছিলেন টমাস ডুলি। পরে এই ক্যাম্পে যোগ দেন দুই গোলরক্ষক মিতুল মারমা ও সাইফ কেরাওয়ালা। এদের মধ্যে সাইফ ট্রায়ালে এসেছেন আমেরিকা থেকে। টানা আট দিন অনুশীলন চললেও মিডিয়ার জন্য ক্যাম্প উন্মুক্ত করেনি ডুলি। গতকালই প্রথম প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেন এই জার্মান কোচ। সেখানে জিদান ইউসুফকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকার কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এই কোচ।
ইংল্যান্ড প্রবাসী তরুণ ডিফেন্ডার জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফকে নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা দীর্ঘদিনের। উজবেকিস্তানে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পর এবার তাকে সিনিয়র জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে নেয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেন হেড কোচ থমাস ডুলি। বর্তমানে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই খেলতে উজবেকিস্তানে আছেন জিদান। তার মধ্যে সম্ভাবনা কতটুকু জানতে চাইলে কোচ ডুলি বলেন, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আমি দলে রাখতে চাই, যদিও সে আবার ফেরত চলে যাবে। অনূর্ধ্ব-২৩ দল থেকে ফিরে সে কয়েক দিন আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। আমি তাকে দেখতে চাই এবং জাতীয় মূল দলের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা দিতে চাই, যাতে সে (জাতীয় দলের) পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।’ শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক জাতীয় দলের মূল দলে ঢুকতে পারবেন কি না সেটি সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ইংল্যান্ড প্রবাসী এই ফুটবলার যে ইতিমধ্যে কোচের গুডবুক লিস্টে আছেন সেটি ডুলির পরের কথাতেই অনুমেয়, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’ ইন্দোনেশিয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৫ই সেপ্টেম্বর হবে আসিয়ান কাপ। প্রতিযোগিতায় প্রিমিয়ার ডিভিশনে বাংলাদেশ রয়েছে এ গ্রুপে।
সেখানে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও আছে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তিনটি দলই বাংলাদেশের ওপরে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের লক্ষ্য কিংবা প্রত্যাশা কি জানতে চাইলে হামজাদের কোচ বলেন, ‘আসলে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং সেভাবেই প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা এমন সব দলের বিপক্ষে খেলবো, যারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। স্পষ্টতই, কাজটা অত্যন্ত কঠিন।’ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ইন্দোনেশিয়া ৬০ ধাপ, মালয়েশিয়া ৪৫ ধাপ এবং সিঙ্গাপুর ৩৩ ধাপ এগিয়ে। টুর্নামেন্টের বি গ্রুপে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং পাকিস্তান। প্রত্যেকে গ্রুপের শীর্ষ দুই দল যাবে ফাইনালে। তৃতীয় স্থান নির্ধানরী ম্যাচে এ গ্রুপের রানারআপ খেলবে বি গ্রুপের রানারআপের বিপক্ষে। দুই গ্রুপ মিলিয়ে একমাত্র পাকিস্তানই (১৯৮) বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। এদিকে দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে কঠিন শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলাররা।
কোচ এমনভাবে অনুশীলন সাজিয়েছেন যে টানা আট সেশন অনুশীলনের পরও খেলোয়াড়দের কপালে কোনো বিশ্রাম জোটেনি। পেশিতে চরম ক্লান্তি ভর করলেও কোচ মূলত ফুটবলারদের মানসিক শক্তির পরীক্ষা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার সোহেল রানা। গতকাল বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন দুই বেলা করে অনুশীলন করছি। দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থাকায় প্লেয়ারদের স্বাভাবিকভাবেই একটু কষ্ট হচ্ছে। টানা আটটা সেশন করার পরও আমরা কোনো রেস্ট পাইনি। বুঝতে পারছেন আমাদের ওপর দিয়ে কী যাচ্ছে। পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, আমরা ম্যাচ খেলতে গিয়ে টায়ার্ড হয়ে যাচ্ছি। কোচও সেটা বুঝতে পারছেন। কিন্তু তিনি আসলে দেখতে চাচ্ছেন আমরা মেন্টালি কতটা স্ট্রং।
শারীরিক কষ্টের মাঝেও মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে আমরা কীভাবে টিকে থাকি, সেটাই তিনি পরখ করছেন।’ জাতীয় দলের মূল লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হলেও, সামনেই আসিয়ান কাপ। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে আসিয়ান কাপের ম্যাচগুলোকে সাফের আদর্শ প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন সোহেল। তিনি বলেন, ‘সাফ আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এখন সামনে আসিয়ান কাপ চলে এসেছে। র্যাঙ্কিংংেয় আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারলে সেটা সাফের জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আমরা শুধু অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে যাবো না, দলের ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসার জন্যই খেলবো।’
