কয়েক দফা পিছিয়ে গত ৩রা সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে খেলোয়াড় নিবন্ধন। যাদের জন্য বারবার পিছিয়েছে, শেষ পর্যন্ত ফিফা নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সেই তিন দল- বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী লিমিটেড ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবও দলবদলে অংশ নিয়েছে। এই তিন দল নিয়ে শেষ পর্যন্ত এবারের লীগে দলের সংখ্যা ১৩। চট্টগ্রাম সিটি এফসি, ফর্টিজ এফসি, ঢাকা আবাহনী, পুলিশ ও রহমতগঞ্জ ছাড়া বাকি ৮ ক্লাব সর্বোচ্চ ৩৫ জন করে ফুটবলার নিবন্ধন করিয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোতে সাফ অঞ্চলের ফুটবলারদের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে হিমালয়কন্যা নেপালের ফুটবলারদের দিকেই বেশি ঝুঁকেছে ক্লাবগুলো। বিদেশি এবং সাফ কোটা মিলিয়ে এবার মোট ৬৫ জন ভিনদেশি ফুটবলার নিবন্ধিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাফ কোটার ১৯ জনের ১৪ জনই নেপালের!
গত মৌসুম থেকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলাররা ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। প্রথমবার সাফ কোটায় সর্বোচ্চ ৫ জন খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও এবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের দাবি মেনে সেটি তিনজন করা হয়েছে। কোটা কমলেও গতবারের তুলনায় এবার এই অঞ্চলের ফুটবলার বেশি আসছেন। গত মৌসুমে লীগের প্রথম পর্বের জন্য সাফ কোটায় ১১ জন (৮ জনই ছিলেন নেপালের) নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এবার তা সাতজন বেড়েছে। বিদেশি কোটায় অবশ্য গতবারের মতো এবারো সর্বোচ্চ চারজন করে খেলোয়াড় নিতে পেরেছে দলগুলো। গত মৌসুমে সাফ কোটার বাইরে বিদেশি কোটায় নিবন্ধন করেছিলেন ৩৭ জন। গতবারের ১০টি থেকে এবার ঘরোয়া লীগে ক্লাব বেড়ে হয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে ৯টি ক্লাব সাফ কোটার খেলোয়াড় নিয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার, গত মৌসুমে সাফ কোটায় কোনো খেলোয়াড় না নেয়া বাংলাদেশ লীগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবার তিনজন নেপালি ফুটবলার দলে নিয়েছে। যাদের মধ্যে আছেন- নেপাল জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড অঞ্জন বিস্তা, মানিশ দাঙ্গি ও ডিফেন্ডার রহিত চাঁদ। কিংস তাদের পুরনো ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন রবিনহোকে ফিরিয়েছে, সঙ্গে নতুন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস দা সিলভা এবং নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড
ওবুগহ এমেকাকে নিয়েছে। মোহামেডান সাফ কোটায় কোনো ফুটবলার নেয়নি। বিদেশি কোটায় তারা দলে ফিরিয়েছে মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে এবং নাইজেরিয়ার দু’জনকে। উজবেকিস্তানের মোজাফফরভকে রেখে দিয়েছে সাদা-কালোরা। সাফ কোটায় নেপালের দু’জন করে নিয়েছে ফর্টিস এফসি, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, রহমতগঞ্জ ও চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব। একজন করে ব্রাদার্স, সিটি ক্লাব ও পিডব্লিউডি। পাকিস্তানের চারজনের দু’জন ব্রাদার্স ইউনিয়নে এবং ঢাকা আবাহনী ও সিটি ক্লাবে একজন করে। একমাত্র শ্রীলঙ্কান হিসেবে দেশটির জাতীয় দলের গোলকিপার সুজন পেরেইরা এবারো
খেলবেন ফর্টিসে। দলটিতে নাম লিখিয়েছেন নেপাল জাতীয় দলের মিডফিল্ডার আরিক বিস্তা ও ডিফেন্ডার অনন্ত তামাং। ফর্টিসে এবার দেখা যাবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি ফরোয়ার্ড সুকি ইতোফুসোকে। ঢাকা আবাহনী দলবদলের শেষ মুহূর্তে সাফ কোটায় পাকিস্তানের মিডফিল্ডার মইন আহমেদকে নিশ্চিত করেছে। বিদেশি কোটায় আবাহনী নিয়েছে নাইজেরিয়ার চার ফুটবলারকে, যাদের মধ্যে বড় আকর্ষণ ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলা মাইকেল বাবাতুন্দে। ব্রাদার্স সাফ কোটায় নিয়েছে পাকিস্তানের মিডফিল্ডার মাহমুদ আলী ওজায়ের, ফরোয়ার্ড সাইদ আলী রাজা ও নেপালের ফরোয়ার্ড সাকাল রেগমিকে। গোপীবাগের দলটি রেখে দিয়েছে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স সাফ কোটায় নেপালের দুই গোলকিপার সৌরভ বিক্রম কারকি ও মিডফিল্ডার যুবরাজ ডাকালকে দলে নিয়েছে। নবাগত চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাব সাফ কোটায় নিয়েছে
নেপালের মিডফিল্ডার আশীষ সোনম ও ডিফেন্ডার দিবাকর চৌধুরীকে। আরেক নবাগত ঢাকার সিটি ক্লাব সাফ কোটায় নিয়েছে পাকিস্তানের ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্ত ও নেপালের ডিফেন্ডার যোগেশ গুড়ংকে। রহমতগঞ্জ সাফ কোটায় নিয়েছে নেপাল জাতীয় দলের ডিফেন্ডার অভিষেক লিম্বু ও মিডফিল্ডার কুশাল দেউবাকে। বিভিন্ন দলের খেলোয়াড় তালিকায় কয়েকটি চমকজাগানিয়া দেশের নামও আছে, যেসব দেশের খেলোয়াড়দের দেখা হবে দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। ওয়ান্ডারার্স যেমন অস্ট্রেলিয়ার ফরোয়ার্ড বাইলে জন ও ইন্দোনেশিয়ার
ফরোয়ার্ড আইদিল উসমান দাইরাকে দলভুক্ত করেছে। ব্রাদার্সে আসছেন আয়ারল্যান্ডের ডিফেন্ডার উইলিয়াম ওদুয়া এবং পিডব্লিউডিতে জার্মানির ডিফেন্ডার উলরিচ বালোকি। বাফুফে ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে লীগ শুরু করতে চায়। ফর্টিস ও পুলিশ ছাড়া কোনো ক্লাবই সেভাবে অনুশীলন শুরু করেনি। ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতীয় দল আসিয়ান কাপে খেলবে। সবমিলিয়ে অক্টোবরের আগে লীগ কিংবা ফেডারেশন কাপ শুরু হওয়া বেশ কঠিনই। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি সভায় বসার কথা রয়েছে শিগগিরই।
