পাকিস্তানের ক্রিকেট আঙিনায় চরম অস্থিরতা ও নাটকীয়তার এক নতুন অধ্যায় চলছে। বিশ্ব ক্রিকেটে এমনিতেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) এবার শুরু হয়েছে কঠোর এক ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। আর এই ঝড়ের মুখে পড়ে পিসিবি’র প্রধান নির্বাচক ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার আকিব জাভেদের চাকরি এখন প্রায় খাদের কিনারায়। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্ডের ভেতরের বর্তমান রদবদল ও শুদ্ধি অভিযানের পরবর্তী বড় শিকার হতে যাচ্ছেন আকিব নিজেই।
সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফরে শোচনীয় পরাজয়ের পরই মূলত এই তোলপাড়ের সূত্রপাত ঘটে। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে হারের পর লর্ডসেও ১৯৪ রানে হেরে টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া করে পাকিস্তান। এই পারফরম্যান্সের পর পিসিবি নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ নেয়। সিরিজ চলাকালেই দল থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক এবং সালমান আলী আগার মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের মাঝপথেই দেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়। একইসঙ্গে টেস্ট কোচের পদ থেকে সরফরাজ আহমেদকে বরখাস্ত করে সাদা বলের কোচ মাইক হেসনের কাঁধে লাল বলের কোচের দায়িত্বও দেয়া হয়।
পিসিবি’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, এই রদবদল কেবল সাময়িক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বোর্ডের সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পনার অংশ। ওই সূত্রের দাবি, রিজওয়ান ও ইমামদের দল থেকে বাদ দেয়ার পেছনে শুধু খারাপ ফর্মই কারণ ছিল না, বরং ড্রেসিংরুমে তাদের শৃঙ্খলা ও আচরণগত কিছু বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া, বাকি খেলোয়াড়দের বিদায় দেয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন লাল বলের কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে, যিনি তার পরিচিত ও পছন্দের খেলোয়াড়দের সাদা বলের ক্যাম্প থেকে বাজিয়ে দেখতে চান। এদিকে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বোর্ডের ভেতরের কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। গুঞ্জন রয়েছে, চেয়ারম্যানের অত্যন্ত আস্থাভাজন বা ‘রীতিমতো নয়নের মণি’ হিসেবে পরিচিত আকিব জাভেদকে এখন কেবল লাহোরের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের ‘পরিচালক-উন্নয়ন’ (ডিরেক্টর ডেভেলপমেন্ট) পডেই সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে।
প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। শুধু আকিব একা নন, নির্বাচক কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য ও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকও এর আগে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পিসিবি এখন পুরোপুরি কঠোর অবস্থানে চলে গেছে। ইংল্যান্ড সফরে কোনো মানদণ্ড বা যুক্তিতে ইমাম ও রিজওয়ানের মতো তারকাদের দলে নেয়া হয়েছিল এবং নির্বাচক নীতির ভিত্তি কী ছিল- তা ব্যাখ্যা করার জন্য নির্বাচক ও উপদেষ্টা কমিটির প্রতিটি সদস্যের কাছে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানি ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে পর্দার অন্তরালে থেকে দল নির্বাচন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আকিব জাভেদ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে এলেও, এবারের এই ঝড়ে তার সেই প্রভাব বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
