রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ, শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রাথমিক প্রতীক হলো তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাষ্ট্রের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি পুলিশ। নাগরিক যখন বিপদে পড়ে, তখন তার প্রথম ও প্রধান প্রত্যাশা—পুলিশ পাশে দাঁড়াবে। চুরি, ডাকাতি, খুন, শিশু নিখোঁজ, মাদক,সন্ত্রাস কিংবা পারিবারিক বিরোধে নিরাপত্তার প্রয়োজন—অর্থাৎ নাগরিকের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের শেষ দৃশ্যমান প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে পুলিশ। সেই বাহিনীর নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়ন যদি যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের বদলে অর্থ, তদবির কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তবে সেটি কেবল কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির সংকট থাকে না; তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবনের সংকট। আজ প্রশ্ন উঠেছে—এভাবে যদি রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং অর্থ ও প্রভাবের জোরে রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর পদগুলো কেনাবেচা হয়, তবে দেশের সার্বিক জননিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?
আমি বহুবার স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, একজন সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তা যেকোনো পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র এবং সরকারের পক্ষে অবস্থান নেন—কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নৈতিক বল। তিনি জানেন, সরকার পরিবর্তনশীল, কিন্তু রাষ্ট্র স্থায়ী। রাজনৈতিক নেতৃত্ব আসবে ও যাবে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব পেশাদার কর্মকর্তার। একজন সৎ কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার কাছে নিজের ব্যক্তিত্ব, বিবেক কিংবা পেশাগত মর্যাদা বিসর্জন দেন না। তিনি সংবিধান, আইনের শাসন, রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করেন। এমন কর্মকর্তা কেবল বর্তমান সরকারের সুবিধা নন—তিনি পুরো রাষ্ট্র ও জাতির অক্ষয় সম্পদ।
পক্ষান্তরে, যে কর্মকর্তা রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর ভর করে পদায়ন পান, তিনি জনগণের সন্তুষ্টির বদলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট রাখা এবং ব্যক্তিগত ফায়দা লোটাকেই মূল লক্ষ্য মনে করেন। জনসেবা বা আইনের শাসন নিশ্চিত করা তাঁর মাথায় থাকে না। সরকারের কোনো সংকটকাল বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এই সুবিধাবাদী শ্রেণিই সবার আগে রাজনৈতিক খোলস পাল্টে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অথচ ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে থাকা রাজনৈতিক শাসকরা এই নির্মম সত্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন, যতক্ষণ না তারা করুণভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন। রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারকরা যতদিন পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে এই রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত না করবেন, ততদিন ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে এক অদ্ভুত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি গণতান্ত্রিকভাবে বিপুল ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারও মাত্র কয়েক বছরের মাথায় একই জনমানুষের কাছে চরম অপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে দেখা যায়, কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনেই পর পর দুই মেয়াদে একটানা পুনর্নির্বাচিত হওয়া কোনো দলের পক্ষে সম্ভব হয় না। মানুষ একটু সুশাসন ও ভালো থাকার আশায় বারবার বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি খোঁজে।
কিন্তু দেশের মানুষের চরম দুর্ভাগ্য হলো—বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একটি দলের নেতাদের ভাষা, আচার-আচরণ ও প্রতিশ্রুতি যেমন থাকে, ক্ষমতায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা মুহূর্তে জাদুকরি ছোঁয়ায় বদলে যায়। বিরোধী দলে থাকতে যে নেতার পকেটে রিকশা ভাড়ার টাকা থাকত না, ক্ষমতার স্পর্শে অল্প কিছুদিনেই তিনি কোটি টাকার মালিক বনে যান। দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা বা চাকরি ছাড়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসে? কোনো রূপকথার পরী নাকি আলাদিনের দৈত্য এসে তাদের রাতারাতি কোটিপতি বানিয়ে দিচ্ছে—এ প্রশ্ন প্রতিটি নাগরিকের।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিগত পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শাসনের দীর্ঘ কর্তৃত্বপরায়ণ অধ্যায়ের পর দেশবাসী আশা করেছিল যে, ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর দেশে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমুখী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা জননিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে রাখবে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও জননিরাপত্তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত হয়নি। মানুষ নিজ ঘরেও সুরক্ষিত নয়; পরিবারসহ খুনের শিকার হওয়ার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য চরম আশঙ্কাজনক।
বাংলাদেশে পুলিশে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পোস্টিং নিয়ে বাণিজ্য নতুন নয়। কিন্তু বর্তমানে এটি এক ভয়ংকর মহামারির রূপ নিয়েছে। কথিত ‘পদায়ন সিন্ডিকেট’ এখন এলাকাভিত্তিতে অফিসারদের দরদাম করে কেনাবেচা করছে। বিশেষ করে যেসব জেলা বা থানায় মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পরিবহন, বালু-পাথর কিংবা অনিয়মের অর্থনৈতিক প্রবাহ বেশি, সেখানে পোস্টিংয়ের মূল্যও বহু গুণ বেশি। অতি সম্প্রতি একজন জেলা পুলিশ সুপারকে তিন কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পদায়ন করা হয়েছে—এমন সংবাদও চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বিগত সময়ের বিভিন্ন তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ পদে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যসূত্র- মানবজমিন ৫ সেপ্টেম্বর।
যদি কোনো কর্মকর্তা কোটি টাকা বা বিপুল অর্থের বিনিময়ে একটি কাঙ্ক্ষিত পদ পান, তবে সেটি আর জনসেবার দায়িত্ব থাকে না; তা পরিণত হয় একটি ব্যক্তিগত আর্থিক বিনিয়োগে। তখন ওই কর্মকর্তার মাথায় একটিই চিন্তা কাজ করে—কীভাবে সুদে-আসলে সেই বিনিয়োগের টাকা তুলে আনা যায়। জনসেবা, সরকারের ভাবমূর্তি বা পেশাগত মর্যাদা তখন উবে যায়। ফলে যে থানায় মাদক বা অপরাধ দমনের কথা, সেখানে অপরাধীদের সঙ্গে প্রশাসনের আর্থিক সমঝোতা তৈরি হয়। পুলিশ সংস্কার কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, নিয়োগ ও বদলি-পদায়নই পুলিশের দুর্নীতির প্রধান উৎস, যা পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে ঘুষ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে পুনরুত্পাদিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও পোস্টিং বাণিজ্যের কারণে দেশের অপরাধচিত্র চরম ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালেই দেশে ৩,৭৮৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে—অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে (যা ২০২৪ সালের ৩,৪৩২টির চেয়েও বেশি)। ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধেকের অপরাধ পরিসংখ্যানও নির্দেশ করে যে নাগরিকের জীবন ও মালের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এর চেয়েও শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো শিশুদের নিরাপত্তা। খোদ পুলিশের নিজস্ব তথ্য ও হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র সাত মাসে দেশে ১৫,৭১৭টি শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে। যদিও অনলাইন জিডি সহজ হওয়ায় রিপোর্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১৩,৬৭৯ জন শিশুকে উদ্ধার বা ফেরত পাওয়া গেছে, তবুও ২,০৩৮ জন শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এই দুই হাজারেরও বেশি নিখোঁজ শিশু মানে দুই হাজারটি নিঃস্ব পরিবার, যাদের প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্র দিতে পারছে না।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনে যে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনামলে মব সন্ত্রাস ও চরম অনিশ্চয়তা সেই সংকটকে আরো ঘনীভূত করে। দুই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও পুলিশ বাহিনীতে আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মূল শর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ব্যবসায়ী ও দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা তাঁদের মূলধন সেখানেই বিনিয়োগ করেন, যেখানে সম্পদের নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত থাকে। কিন্তু বর্তমানে শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারি, মাদক এবং মব জাস্টিসের মতো যে অভিযোগগুলো আসছে, তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চরম আঘাত হানছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য প্রথমত প্রয়োজন দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত পুলিশি পাহারা।
তবে এখানে আমাকে একটি সত্য স্বীকার করতেই হবে যে,দেশের অর্থনৈতিক গতি ফেরাতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি সংস্কারে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিয়মিত কার্যালয়ে সময় দিচ্ছেন, রাষ্ট্রীয় খরচ সাশ্রয়ে সাধারণ জীবনযাপন ও নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ও অকল্যাণকর রাজনৈতিক চর্চাগুলোকে আটকে দিচ্ছেন। সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর সদিচ্ছা ও কাজের গতি দৃশ্যমান।
তবে চরম বাস্তব সত্য হলো—শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেরই এই সদিচ্ছা ও স্পৃহাকে তাঁর চারপাশের আমলাতন্ত্র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক সহযোগীরা পুরোপুরি অনুসরণ করছেন না, অথবা করতে চাইছেন না। তাঁরা এখনো পুরোনো ধ্যান-ধারণা, দুর্নীতি ও কা কায়েমী স্বার্থের চর্চায় লিপ্ত এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এখানে স্পষ্ট করে বলতে চাই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক এই সিন্ডিকেট শক্ত হাতে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনে বিরাজমান স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সরকারের সমস্ত সংস্কার উদ্যোগ ব্যর্থ হবে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
পুলিশকে ফের জনগণের বাহিনীতে রূপান্তর করতে হলে কেবল ইউনিফর্ম পরিবর্তন বা প্রযুক্তি সংযোজন যথেষ্ট নয়; মূল প্রশাসনিক কাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থ ও তদবিরনির্ভর বদলি বন্ধ করে প্রতিটি পদে নিয়োগ, প্রমোশন ও বদলির জন্য স্পষ্ট, প্রকাশ্য ও পরিমাপযোগ্য নীতিমালা তৈরি করতে হবে এবং প্রতিটি জেলা বা থানায় কর্মকর্তার মেয়াদের নির্দিষ্ট সীমা থাকতে হবে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আয়-ব্যয়ের নিয়মিত অডিট ও সম্পদ বিবরণী যাচাই করা প্রয়োজন। বদলি-পদায়ন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দালাল, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক এবং ঘুষদাতা-গ্রহীতা উভয় পক্ষকে বিশেষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পুলিশ কমিশনকে কেবল ঠুঁটো জগন্নাথ না বানিয়ে, পদায়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কমিশনকে স্বাধীন সুপারিশকারী ও তদারকি সংস্থায় রূপান্তর করা জরুরি। সর্বোপরি, সাম্প্রতিক সময়ের সমস্ত বিতর্কিত পদায়ন, কোটি টাকার পোস্টিং বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ ‘ফরেনসিক অডিট’ করতে হবে।
আমি দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই,সরকারের সাফল্য শুধু বড় বড় অর্থনৈতিক প্রকল্প বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রবৃদ্ধির চিত্রে মাপা যায় না। সাফল্যের আসল সূচক হলো—একজন নাগরিক রাতে ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন কি না, তাঁর শিশুটি নিরাপদে বাড়ি ফিরছে কি না, আর বিপদে পড়ে থানায় গেলে তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না।
পরিশেষে বলতে চাই,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও সিন্ডিকেটমুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়; এটি রাষ্ট্রকে বাঁচানোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব। যে রাষ্ট্র তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদ বিক্রি বন্ধ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কখনোই তার সাধারণ নাগরিকের জীবন ও মালের সুরক্ষা দিতে পারে না। এটাই চরম বাস্তবতা।
তাই আর কালবিলম্ব না করে সরকার প্রধানের উচিত নিজের জনপ্রিয়তা ও জনগণের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। জননিরাপত্তা যখন বিঘ্নিত হয়, তখন 'কে ক্ষমতায় আছে'—সে প্রশ্নের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে—ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, জনগণ কতটা নিরাপদ? সবচেয়ে বড় কথা হলো, জননিরাপত্তার চেয়ে বড় সাফল্য একটি সরকারের জন্য আর কিছুই হতে পারে না।
লেখক:সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক,আমার দিন। ই-মেইল:[email protected]
পুলিশে পদ বেচাকেনার ভয়ংকর সিন্ডিকেট: জননিরাপত্তা কোথায়?
আহসান হাবিব বরুন
মত-মতান্তর
৫৩ মিনিট আগে
৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার), ২০২৬, ১১ঃ৩৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
