পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কর্মসূচিতে সিলেটে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর
সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচার করে এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে টেলিভিশন সাংবাদিকরা বিকালে প্রতিমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। এদিকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগরে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি গতকাল প্রথম সিলেটে আসেন। ফলে তাকে ঘিরে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ- উদ্দীপনার কমতি ছিল না। সকালে সিলেটে পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী হযরত শাহ্জালাল (র.) মাজার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর মাজার জিয়ারত করে তিনি যখন বেরিয়ে আসছিলেন তখন সাংবাদিকরা তার বক্তব্য নিতে দাঁড়ান। এ সময় ভিড়ের চাপে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঠেলাঠেলি হয়।
কেউ কেউ সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা স্ট্যান্ডেরও ক্ষতি করে। এ সময় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করলে নেতাকর্মীরা তাদের দিকে তেড়ে আসেন। গালিগালাজও করেন অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। ঘটনার পর যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নাবিল হোসাইন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মাজারেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল প্রতিমন্ত্রীর। তবে নেতাকর্মীদের চাপে সেখানে কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীরা মাজারের বাইরে চলে আসেন। তখন কয়েকজন যুবক গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন। তাদের দাবি ছিল, ‘মন্ত্রীর বক্তব্য না নিয়ে স্থান ত্যাগের সাহস গণমাধ্যমের হয় কীভাবে।’ স্টার নিউজের সিলেট ব্যুরো চিফ ইয়াহ্ইয়া মারুফ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেওয়ার কথা ছিল। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হন। তবে জুমার নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী বের হওয়ার সময় নেতাকর্মীদের ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে মাজার প্রাঙ্গণে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
পরে সাংবাদিকরা মাজারের বাইরে চলে এলে বিএনপি’র কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর চড়াও হন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ না থাকায় তারা স্থান ত্যাগ করেন। বিকেলে নগরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা ও নগর বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। হেনস্তার প্রতিবাদে ওই অনুষ্ঠানে যাননি টেলিভিশন সাংবাদিকরা। জেলা ও নগর বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন- বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। এজন্য তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছেন।
