দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ, মাংস ও ডিম। এরইমধ্যে ঘোষণা দিয়ে লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি ফার্মের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, আর প্রতিটি ডিমের খুচরা দাম উঠেছে ১৪ টাকায়। ডজন কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৬৫ টাকা। তবে সবজির দামে আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের দাম রয়েছে আগের মতোই চড়া। মুরগি ও গরুর মাংসের দামও প্রায় অপরিবর্তিত। ডিম ও সবজির বাড়তি দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা। এর সঙ্গে চলমান লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বাজারের কেনাবেচায়ও। শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মাসখানেক আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০-১৮০ টাকা এবং ডিমের দাম ১৩০-১৪০ টাকা ছিল। আগস্টের শুরুতে পণ্য দু’টির দাম বেড়ে গেলেও আর কমেনি। তবে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার, গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তাতে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। বুধবার দাম বাড়ানো হলেও দোকানে আগের সরবরাহকৃত বোতলগুলো পুরাতন দামে বিক্রি হয়েছে। নতুন বোতলে বাড়তি দাম কার্যকর করা হয়েছে।
বাজারে রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া, পাঙাশ প্রভৃতি মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি আকারের প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতল (আকারভেদে) ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পোয়া ৫০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, বাইম ৮০০ টাকা, বেলে ৯০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৯০০ টাকা, বড় চিংড়ি ১ হাজার ৫০০ টাকা, বোয়াল ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়াও বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
কাওরান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরিফ মানবজমিনকে বলেন, গত দেড় মাসে ডিমের দাম ডজনে ৫০ টাকা বেড়েছে। আমি খামারিদের কাছে জেনেছি ডিম প্রতিশ’ ৯শ টাকায় খামার থেকে ছাড়ে। কিন্তু সেই ডিম আমরা কিনতে দিতে হয় ১১৬০ টাকা। এভাবে করে গত বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে। আমরা নিজেরাই কমে কিনতে পারছি না। খুচরা কীভাবে কমে ছাড়বো? মগবাজার চারুলতা মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী চন্দন বলেন, রুই ও কাতলা মাছ জ্যান্ত রাখতে চৌবাচ্চার পানিতে বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। একটানা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিনই কিছু মাছ মারা যায়। এসব মাছ লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়। কাওরান বাজারের আরেক সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, খুচরা বাজারের দাম নির্ভর করে পাইকারি আড়তের ওপর। তাছাড়া পরিবহন খরচসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে। দিনশেষে কিছু পণ্য অবিক্রিত থেকে নষ্ট হওয়ার হিসাবও আমাদের রাখতে হয়।
ওদিকে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এক মাসের বেশি সময় ধরে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কারখানায় চিনির উৎপাদন কমেছে। এতে বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে এ চিনি ১২০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা যায়। অবশ্য বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে চিনির দাম বেড়েছে বলে দাবি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর।
বাজারে সবজির দাম অনিয়মিতভাবে বাড়ছে-কমছে। শুক্রবার বাজারে লাউ ধরনভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি কেজি পটোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা, আকার ও ধরনভেদে বেগুন ১০০, ১২০ ও ১৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ছোট আকারের অর্থাৎ ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের ফুলকপি ১০০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শাকের মধ্যে লালশাক আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, কলমিশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা ও পালংশাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
