সিটি’র মামলায় আসামি তাহের ও বাবর বক্স

সিলেটে তোলপাড়

সিটি’র মামলায় আসামি তাহের ও বাবর বক্স

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগর ভবনে পানির দাবিতে কলস, বালতি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী বাবর বক্স ও সিলেট কল্যাণ সভাপতি এহসানুল হক তাহেরকে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন নগর ভবনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুস শহীদ। ঘটনা ও মামলায় সিলেটে তোলপাড় চলছে। এমন ঘটনা সিলেটে অতীতে কখনো ঘটেনি বলে জানিয়েছেন লোকজন। সিলেট নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারের পাশেই জল্লারপাড়। এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানির জন্য হাহাকার করছেন। সিটি করপোরেশনের সাপ্লাই পানি না পাওয়ার কারণে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এজন্য তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কয়েকদিন আগে এলাকার বাসিন্দা বাবর বক্স ও এহসানুল হক তাহেরের নেতৃত্বে কয়েকজন বাসিন্দা গিয়ে সিটি করপোরেশনের পানি শাখায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দু’দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযোগ দেয়ার পর বার বার যোগাযোগ করা হলেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ না নেয়ায় গত বৃহস্পতিবার সকালে বাবর বক্স ও এহসানুল হক তাহেরের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন কলস, বালতি নিয়ে নগর ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় থাকা পানি শাখার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা পানির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এদিকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নগরের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওইদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একদল লোক ইট-পাটকেল, বালতি, কলস, মগসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে নগর ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় এসে জমায়েত হয়। সেখানে তারা পানি-সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনের অজুহাতে ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করে। বিষয়টি জানতে পেরে সিসিকের সচিব ও প্রধান প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপনের অনুরোধ জানান। কিছুক্ষণ পর সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী নগর ভবনে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তাদের নিজ কার্যালয়ে আসার আহ্বান জানান।

তবে তারা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে ৬ষ্ঠ তলাতেই স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করে। নগর ভবনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। একই সময়ে বিভিন্ন সেবা নিতে নগর ভবনে আসা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিসিকের নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬ জনকে আটক করেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ শুক্রবার বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় করপোরেশনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে- নগর ভবনের কর্মকর্তা ৬ জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আটক থাকা জুয়েল মিয়া, আবু তাহের ও মিরাজকে আসামি করে থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় জল্লারপাড় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মামলার আসামি সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও জল্লারপাড় উত্তর অংশের এহসানুল হক তাহের জানিয়েছেন- মামলায় তাকে ৪ নম্বর ও বাবর বক্সকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনা সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে বিরল বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, অতীতে আমরা জনগণের সমস্যা নিয়ে অনেক আন্দোলন করেছি। কোনো মেয়রই জনগণের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাননি। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। প্রশাসক যখন তাদের ডাকালেন তখন তারা যাননি। বসে বসে স্লোগান দিচ্ছিলেন। পরে তাদের উপর এসে সিটির কর্মকর্তা, কর্মচারীরা হামলা করে। এতে তাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আর আহত অবস্থায়ই তাদের আটক করে পুলিশে তুলে দেয়া হয় বলে জানান তিনি।