পিঠে টোকা দিলেই ‘যৌনাঙ্গ উধাও’, গুজবে আফ্রিকায় নিহত ৮০

পিঠে টোকা দিলেই ‘যৌনাঙ্গ উধাও’, গুজবে আফ্রিকায় নিহত ৮০

ফন্ট সাইজ:

আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পুরুষের যৌনাঙ্গ চুরি বা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মতো গুজবকে কেন্দ্র করে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় হামলা ও গণপিটুনির শিকার হয়েছেন আরও অনেকে।

বিভিন্ন দেশের পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ চিত্র পেয়েছে বিবিসির গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট। তাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গণহত্যার পেছনে কাজ করছে বহু পুরোনো কুসংস্কার, ভয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্য।

গুজবের মূল দাবি হলো, কারও পিঠে হাত দিয়ে সামান্য টোকা দিলেই তার পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যেতে পারে কিংবা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। এরপর অপরিচিত ব্যক্তিকে যৌনাঙ্গ ‘চুরি’র অভিযোগে অভিযুক্ত করে উত্তেজিত জনতা হামলা চালাচ্ছে।

এ ধরনের ঘটনা আফ্রিকায় একেবারে নতুন নয়। বিশেষ করে জাদুটোনা ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস যেখানে এখনো প্রবল, সেখানে বহু বছর ধরেই এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্মার্টফোন, টিকটক ও ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এবার এসব গুজব নজিরবিহীন দ্রুততায় ছড়িয়ে পড়ছে।

‘মৃত্যু এত কাছে ছিল, জানতাম না’

তানজানিয়ার তুন্দুমা শহরের মেকানিক বনিফাস এমগালা এ ধরনের গুজবের ভয়াবহ শিকার হয়েছেন। গত ১ এপ্রিল গাড়ি বিক্রির জন্য এক ক্রেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বন্ধুকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে বসেছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই একদল উত্তেজিত মানুষ তাদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে নিয়ে যায়।
‘তারা চিৎকার করে বলছিল, আমরা কারও যৌনাঙ্গ চুরি করেছি। বিশাল ভিড়ের কারণে সেখান থেকে পালানোর কোনো উপায় ছিল না,’ বিবিসিকে বলেন এমগালা।

গণপিটুনিতে তিনি জ্ঞান হারান। দুই দিন পর হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তার বন্ধু মারা গেছেন। এখনো খুঁড়িয়ে হাঁটেন এমগালা এবং কাজে ফিরতে পারেননি। তার থুতনিতে ক্ষত ও একটি ভাঙা দাঁত সেই হামলার দৃশ্যমান চিহ্ন হয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘সেদিন যে মৃত্যুর কতটা কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম, তা যদি আগে জানতাম, তাহলে ওই রেস্তোরাঁয় খেতে যেতাম না।’

এমগালার ওপর হামলার দিনই তুন্দুমায় একই ধরনের আরেকটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন ফটোগ্রাফার ও ব্যবসায়ী মাইকেল সিলাভওয়ে। তার ভাষ্য, টিকটকে যৌনাঙ্গ চুরির কথিত ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক বাড়তে থাকে।

তিনি জানান, এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌনাঙ্গ চুরির অভিযোগ তুলে প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি মোজাম্বিকে

এই গুজবের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে মোজাম্বিকে। দেশটির পুলিশ মে মাসে জানায়, মাত্র ছয় সপ্তাহে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি চাকরিজীবীও ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো এসব গুজব ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারও শরীরের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণও সরকার পায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে কেনিয়ার কোয়ালে ও মোম্বাসা উপকূলীয় কাউন্টিতেও একই ধরনের গুজবকে কেন্দ্র করে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই ধরনের গুজব মালাউইতেও জনতাকে সহিংসতায় উসকে দিয়েছে। সেখানে আটজন নিহত হয়েছেন।