ওরা কারা?

ওরা কারা?

ফন্ট সাইজ:

বুধবার বিকালে সিলেটের চৌহাট্টা এলাকায় হঠাৎ একটি ছোট মিছিল। ৪-৫ জন ব্যক্তি। সবার আগে থাকা ব্যক্তির হাতে হ্যান্ডমাইক।

তিনি স্লোগান দিচ্ছেন; ‘গণতন্ত্র মানবে যারা, জাহান্নামে যাবে তারা’, ‘গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল মতবাদ— জাহিলিয়্যাত, জাহিলিয়্যাত’। এ ছাড়া, স্লোগানে আরও রয়েছে, ‘জাহিলিয়্যাত মানবে যারা জাহান্নামে যাবে তারা’। ‘জাহিলিয়্যাত ত্যাগ করো, ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঐক্য গড়ো’। এতে চোখ পড়ে সবার। অনেকেই উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে যান। কথা হয় মিছিলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি মো. নুর উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি নিজেকে সিলেট বিভাগের দায়িত্বশীল বলে পরিচয় দেন। তিনি জানান, গণতন্ত্র মানি না, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, মানব রচিত সকল তন্ত্রমন্ত্র বিরোধী, বিদ্রোহী আমরা। আমরা মুসলিম, কোরআন হচ্ছে আমাদের সংবিধান। তিনি জানান, ইসলামী সমাজ হচ্ছে আমাদের একটি দল। যেটা ইমান, ইসলামের দাওয়াতের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল। এদিকে, সিলেটে কর্মসূচি পালন করা ব্যক্তিরা সিলেটের নয়। তারা কোথায় থাকেন সে সম্পর্কেও জানা যায়নি। তবে এ মিছিলের আগে সিলেট নগরে আরও একটি মিছিল দিয়েছেন বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন। প্রচারণার সময় তারা ইসলামী সমাজের নামের একটি লিফলেটও জনগণের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন। সেখানে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে কুশিয়ারা বাজার, রায়পুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা এবং ঢাকা অফিস হিসেবে ৪ নম্বর দক্ষিণ বাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা উল্লেখ করা হয়েছে। সিলেটের কোনো অফিসের ঠিকানাও দেয়া হয়নি। লিফলেটে সংগঠনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে

তারা বলেছেন, ‘জাহিলিয়্যাত ত্যাগ করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টাই কল্যাণ ও মুক্তির একমাত্র পথ। দুনিয়ায় কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাত লাভের একমাত্র পথ। আল-কোরআন ও সুন্নাহ্ সম্মত পদ্ধতিতেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী সমাজ।’ ‘ইসলামী সমাজ’ মূলত কল্যাণ ও মুক্তির পথে জীবন গড়ারই আদর্শবাদী প্রতিষ্ঠান এবং আন্দোলন। ইসলামী সমাজের সদস্য আমরা সকলে কল্যাণ ও মুক্তির পথে জীবন গড়ার লক্ষ্যেই আল্লাহ্র সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তারই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী নেতা, ইসলামী সমাজের সম্মানিত আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে আন্দোলনের পথে এগিয়ে চলছি।’ লিফলেটে তারা ১০টি উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। সিলেটে এই সংগঠনের কার্যক্রমের বিষয়টি নজরে এসেছে পুলিশের। নগর পুলিশের ডিসি (উত্তর) মো. সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত ভিডিও তারা দেখেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিএসবি শাখা। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।