নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর জমিলা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত নিয়ে লুকোচুরি শুরু করেছেন নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। যুবকের মৃত্যুর ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকেরা দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারবেন না বলে অপারগতা প্রকাশ করেন। তদন্ত নিয়ে সরকারি কর্মকর্তার এমন লুকোচুরি সন্দেহের সৃষ্টি করছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালটির অনিয়ম ও চিকিৎসাজনিত অবহেলা ঢাকতে প্রতিবেদনের তথ্য গোপন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি কাতারপ্রবাসী পারভেজ নামের এক তরুণ সোনাইমুড়ীর জমিলা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অপারেশন থিয়েটারেই মারা যান।
পরে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে চিকিৎসাজনিত অবহেলার অভিযোগে ক্ষোভের মুখে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। তদন্তের ফলাফল ও হালনাগাদ জানতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন প্রতিবেদনটি সাংবাদিকদের দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই প্রতিবেদন সাংবাদিকদের সরবরাহ করা যাবে না। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত জমিলা মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মাইনুল ইসলাম বর্তমানে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জনের প্রশাসনিক আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এর জুনিয়র লেকচারার। এর আগে তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) থাকা অবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে পদোন্নতি পেয়ে ম্যাটসে বদলি হন।
অন্যদিকে, গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরাও সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, যেখানে অভিযুক্ত ডা. মাইনুল একসময় প্রধান ছিলেন। সাবেক প্রশাসনিক প্রধান ও বর্তমান সহকর্মীর প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম আড়াল করতেই সিভিল সার্জন তথ্য গোপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, রোগীকে কোনো অ্যানেসথেসিয়া দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সিভিল সার্জন। এ ছাড়া ওটিতে নেয়ার পর কার্ডিয়াক এরেস্টে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলেও ধারণা পোষণ করেন তিনি। তবে কোন যুক্তিতে তিনি এই কথা বলছেন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
