সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরানো আসির মিয়া নামে এক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। পরে ভাঙা হাতকড়ার একাংশ হাতে নিয়েই পালিয়ে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ওই আসামি। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার শান্তিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দামোধরতপী পয়েন্টে এসআই নুরউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।
এ সময় দামোধরতপী গ্রামের বাসিন্দা আসির মিয়াকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার সময় সেখানে হঠাৎ হট্টগোল শুরু হয়। পুলিশের অভিযোগ, হট্টগোলের সুযোগে আসির মিয়ার স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। এ সময় হাতকড়ার একাংশ ভেঙে যায়। পরে ভাঙা হাতকড়ার অংশ হাতে নিয়েই একটি লেগুনায় উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান আসির মিয়া। পালিয়ে যাওয়ার পর আসির মিয়া হাতকড়া হাতে ফেসবুকে লাইভে আসেন। ওই লাইভে নিজেকে অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাকে হঠাৎ পুলিশ ঘেরাও করে হাতকড়া পরিয়ে দিয়েছে। পরে ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান ও তল্লাশি শুরু করা হয়।
তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দামোধরতপী গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মো. আজির উদ্দিন বলেন, আমি একটি বিচার-সালিশে ছিলাম। পরে শুনেছি, আসির মিয়াকে আটকের সময় তার স্বজনরা হাতকড়াসহ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, হ্যান্ডকাফ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে।
