চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চাষকৃত ফসলি জমি দখল করে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ফসলি জমিতে কাঁচভাঙা ফেলে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে কৃষক আবদুর রহিমের পা। গতকাল সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নাথপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। কৃষক ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধের জেরে চাষকৃত ফসলি জমিতে বালু ভরাট করে রাস্তা নির্মাণে বর্গাচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্গাচাষি আবদুর রহিম বহু বছর ধরে এই জমিতে চাষ করে আসছেন। বিভিন্ন সময় সোনানাথ গং জমির মালিকানা দাবি করে চাষকৃত জমিতে কাঁচভাঙা বোতল ফেলতো। জমিতে কাজ করার সময় রহিমের পায়ে ভাঙা কাঁচ লেগে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। কৃষক রহিম বলেন, এই জমির প্রকৃত মালিক ভেলোয়ারপাড়ার মো. ইসমাইল। আমি তার কাছ থেকে জমিটি বর্গা নিয়েছি। জমির খাজনা বাবদ প্রতি বছর ইসমাইলকে ধান দিয়ে আসছি। এখন একপক্ষ এসে জমি দাবি করে আমার চাষকৃত ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। কিন্তু আমাকে পূর্বে অবগত করেননি।
কৃষাণী রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এই জমিতে ২০ বছর ধরে চাষ করে আসছি। তারা আমার ফসলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছে। মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, নজির আহমেদ গং পক্ষ থেকে একটা অভিযোগ পেয়েছি জমিসংক্রান্ত বিষয়ে। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন রকম গ্রাম আদালতের জটিলতার কারণে আমরা এখনো ওই অভিযোগ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। যেহেতু জমির বিষয়। আজকেও একটা অভিযোগ আসছে ওই জায়গাটি নিয়ে নাকি উভয়পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। তদন্তের পরে বিষয়টি জানতে পারবো। হাটহাজারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমান বলেন, কৃষকের ফসল নষ্ট করে রাস্তা নির্মাণ করাটা উচিত হয়নি। যদিও এটা ব্যক্তিগত জায়গা। অভিযোগ যেহেতু দিয়েছেন সেহেতু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
