পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্য বই বিতরণের সময় টাকা নেয়ার অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক মো. আব্দুল মজিদ ওরফে বাবুর মাধ্যমে টাকা নেয়ার অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। একইসঙ্গে বই বিতরণের দায়িত্ব, গুদামের চাবি এবং বই বিতরণের চালান নিয়েও গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
এর আগে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গত ৯ই আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদকে আহ্বায়ক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন কুমার বর্মণ ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আখতারুজ্জামানকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে গত ২৪শে আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে অভিযোগকারী তিন কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক লিখিত বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে, শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরাসরি টাকা না দিলেও তার পরামর্শ মতো সরকারি বই নিতে অফিস সহায়ক আব্দুল মজিদ ওরফে বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দেয়ার অভিযোগ উঠে আসে। কয়েকজন শিক্ষক তদন্তকারীদের জানান, বই গ্রহণের জন্য বাবু তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অফিস সময়ের বাইরে বই বিতরণ করেছেন।
তদন্ত কমিটির কাছে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহেল শাহজাদা জানান, বই বিতরণের জন্য তাকে ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদেককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বইয়ের গুদামের চাবি তাদের না দিয়ে অফিস সহায়ক আব্দুল মজিদ ওরফে বাবুকে দেয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হলেও কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়গুলোতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে বাবু বই বিতরণ করেন। এ ছাড়া বই বিতরণের চালান পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি জানতে পারে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণের চালানে স্বাক্ষর থাকলেও বেসরকারি স্কুলে বই বিতরণের চালানে কারও স্বাক্ষর নেই। বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন ও অফিস সহায়ক আব্দুল মজিদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আজমল হোসেনের দাবি, বিনামূল্যেই বই বিতরণ করা হয়েছে এবং তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, আমরা তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রাপ্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক স্যার বরাবর প্রেরণ করেছি।
