আন্ডারলোডিং ও হিলি স্থলবন্দরের প্রতি ভারত সরকারের দ্বিমুখী আচরণের প্রতিবাদে রোববার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সকল প্রকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এর ফলে পঞ্চম দিনের মতো বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্ট ধারী যাত্রীদের যাওয়া আসা স্বাভাবিক রয়েছে, স্বাভাবিক রয়েছে দেশের বন্দরে কার্যক্রম।
হিলি কাস্টমসে রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিন্স কুমার কুণ্ডু জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি টাকার মতো রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, গত পাঁচদিনে পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার, তিনি আশা করছেন বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে। এদিকে ভারতীয় একজন ব্যবসায়ী জানান, বুধবার ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসেছিলেন, মাদকদ্রব্য ধ্বংস, নতুন এয়ারপোর্ট চালু, মেডিকেল কলেজ নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিদর্শন করতে। পরিদর্শন শেষে, মন্ত্রীর কাছে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, রাজস্ব আহরণ সচল রাখতে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বসে সমস্যা সমাধান করার নির্দেশ দেন। সেই আলোকে বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বাংলাদেশের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ফেরদৌস রহমান জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের আন্দোলন স্থগিত করে, আগামী শনিবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম তারা চালু করবেন, অর্থাৎ শনিবার থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে চালু হবে।
উল্লেখ্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রাকপ্রতি মালামাল পরিবহনের ওজন নির্ধারণ করে দেয়া এবং তা রোববার থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে ভারতের হিলি বন্দরের ব্যবসায়ীদের সকল সংগঠন যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বন্দরের ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে।
