হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তে গুলিতে নিহত সোহাগ মিয়া (২৪)’র মৃত্যু নিয়ে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। সোহাগ কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন, কারা গুলি করেছে এ নিয়ে চলছে জল্পনা। গত ৩০শে আগস্ট দুপুরের দিকে চিমটিবিল সীমান্তে সোহাগকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চুনারুঘাট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান। নিহত সোহাগ চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্ত গ্রাম চিমটিবিলখাস গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী শফিক মিয়ার ছেলে। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৫ বিজিবি প্রেস রিলিজে জানা যায়, চিমটিবিল বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৯৭৪/৮-এস থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যক্তি চোরাচালানকৃত গরু নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে শূন্যরেখা অতিক্রম করে প্রবেশ করেন। সেখানে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে তাদের বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ভারতীয় চোরাকারবারিরা তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে।
এতে সোহাগ গুরুতর আহত হন। পরে তার সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে এসে চুনারুঘাট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিজিবি আরও জানায়, নিহত যুবকের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং স্থানীয় থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বিএসএফ বিজিবিকে জানিয়েছে, তাদের এলাকায় গোলাগুলির কোনো ঘটেছে কি না-তারা খতিয়ে দেখবে। নিহতের আত্মীয়রা জানান, সোহাগ ঘটনার দিন সীমান্তে গরু চড়াতে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে। অপর একটি সূত্র জানায়, সোহাগ ও তার বাবা ভারতীয় চোরাই গরু ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন সকালে সোহাগ ও তার বড়ভাই রাসেল একই গ্রামের আ. হান্নান, চাচা কাদির মিয়া ত্রিপুরার টেংড়াবাড়ি এলাকায় গেলে ওই এলাকার গরু সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী তমাস দেববর্মা, আশিস দেববর্মা, হেভেন দেববর্মা ও অমৃত দেববর্মার সঙ্গে দেনা-পাওনা নিয়ে তর্ক বাধে। একপর্যায়ে সেই এলাকার কারবারিরা সোহাগদের ওপর চড়াও হয় এবং গুলি চালায়। এরপর সোহাগকে সীমান্তের ৭৪নং পিলারের কাছে নিয়ে আসে সহযোগীরা। এ খবর চিমটিবিল বিজিবি ক্যাম্পে পৌঁছালে বিজিবি জওয়ানরা আত্মীয়দের সহায়তায় সোহাগকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত গ্রাম চিমটিলখাসের সোহাগের পরিবার ও আরও কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা চোরাচালানে জড়িত। চোরাচালান নিয়ে প্রায় সময়ই ভারতীয় চোরাকারবারির সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
