বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সরকারি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা কেটে পুকুর খনন করার অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। ধুনট উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সরকারি সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরজমিন জমি মাপজোখ করেন। মাপজোখের পর ১৩ ফুট চওড়া ওই সরকারি রাস্তার ১০ ফুটই কেটে পুকুরের মধ্যে ফেলে দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ই এপ্রিল প্রতাব খাদুলী গ্রামের সাধারণ মানুষের পক্ষে একই গ্রামের নুরুন্নবী শেখ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সরকারি রাস্তা কেটে পুকুর খননের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ৬৯নং প্রতাব খাদুলী মৌজার ৬৯১নং দাগে রেকর্ডভুক্ত একটি সরকারি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা রযেছে। যা বৃটিশ আমল থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু প্রতাব খাদুলী গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিন শেখের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক শেখ কয়েক বছর আগে তার নিজ ধানী জমিতে পুকুর খনন করেন। সে সময় তিনি জোরপূর্বক ৬৯১নং দাগের সরকারি কাঁচা রাস্তার ১০ ফুট অংশ কেটে পুকুরের ভেতর ফেলেন। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। সে সময় থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী সরকারি ওই কাঁচা রাস্তা রক্ষার জন্য আব্দুর রাজ্জাক শেখের কাছে অনুরোধ করেন। গ্রামবাসীর বারবার অনুরোধ ও নিষেধ করার পর তিনি জোরপূর্বক পুকুর খনন করেন এবং রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী করে রাখেন। বর্তমানে ওই গ্রামের মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি বন্ধ থাকায় ভ্যান, অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন ওই পথে প্রবেশ করতে পারছে না। এ অবস্থায় ওই এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বুধবার সরজমিন সার্ভেয়ার পাঠান। সার্ভেয়ার নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ওই রাস্তার মাপজোখ করি। মাপজোখ শেষে দেখা যায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত কাঁচা রাস্তাটির একপাশের ১৩ ফুটের মধ্যে ১০ ফুটই পুকুরের মধ্যে চলে গেছে।
অভিযোগকারী নুরুন্নবী শেখ বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাক গ্রামে প্রভাবশালী। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতে চায় না। আমি অভিযোগ করার দীর্ঘদিন পর হলেও সরকারি সার্ভেয়ার এসে জায়গাটি মেপে অভিযোগ প্রমাণ পেয়েছেন। সড়কের অংশে পুকুর ভরাট করে দ্রুত গ্রামবাসীর চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’
