বড়লেখার পিসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পাথারিয়া ছোটলিখা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১৮টি শিক্ষকের পদের অর্ধেকই শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও। জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর উপজেলা সদরের পাথারিয়া ছোটলিখা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের সময় প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৮টি শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়। এরপর প্রায় আট বছরে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ৯ জন অবসর গ্রহণ করেন। তাদের পদগুলো শূন্য হলেও এসব পদে নতুন করে শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। এ সময়ে শুধু একজন সহকারী প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষক সংখ্যা কমেছে। ফলে বর্তমানে ১৮টি পদের মধ্যে ৯টিই শূন্য রয়েছে। গত আগস্টে প্রধান শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন অবসর গ্রহণ করায় প্রধান শিক্ষকের পদটিও শূন্য হয়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি, গণিতসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি বা বিষয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করেও শিক্ষক সংকটের প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একসময় উপজেলার অন্যতম ভালো ফলাফল করা এই বিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফলাফল কমছে। চলতি বছর জেনারেল ও ভোকেশনাল বিভাগ মিলিয়ে ১২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭২ জন পাস করেছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, জাতীয়করণের পর থেকেই বিদ্যালয়টি চরম শিক্ষক সংকটে রয়েছে। বর্তমানে ১৮টি পদের মধ্যে ৯টি শূন্য। বিষয়ভিত্তিক শূন্য পদে শিক্ষক পদায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। তিনি বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলেও। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক পদায়ন করা প্রয়োজন।