খেলাপি ঋণ ফের ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো

ফন্ট সাইজ:

খেলাপিদের নানা সুবিধা ও ছাড় দেয়ার পরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমছে না। বরং চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২.৭৮ শতাংশ। এর তিন মাস আগে, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

ওই সময় মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ ছিল খেলাপি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ প্রথমবারের মতো ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল। তখন মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ছিল খেলাপি। পরবর্তী সময়ে ঋণ পুনঃতফসিল, আদায়সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধাসহ নানা নীতিগত পদক্ষেপের কারণে গত বছরের শেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। তবে চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে খেলাপি ঋণ।

জুন শেষে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ দেওয়ার ক্ষমতার ওপরও চাপ বাড়ছে। জুন ২০২৬: ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৩২.৭৮ শতাংশ, মার্চ ২০২৬: ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৩২.২৬ শতাংশ, ডিসেম্বর ২০২৫: ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বর ২০২৫: ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৩৫.৭৩ শতাংশ, মার্চ থেকে জুনে বৃদ্ধি: ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, ডিসেম্বর থেকে জুনে বৃদ্ধি: ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।