শিক্ষার আড়ালে বিকৃত মানসিকতার আরেক খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি মিডল স্কুলের সাবেক এক শিক্ষিকা তার এক শিক্ষার্থীর প্রতি ছয় মাস ধরে যৌন নির্যাতন চালান। তিনি এতটাই ‘আসক্ত’ হয়ে পড়েছিলেন যে ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় ২৫ হাজার বার্তা পাঠিয়েছিলেন। অবশেষে ওই শিক্ষিকার সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। ২৮শে আগস্ট জ্যাকসন টাউনশিপের দুই সন্তানের মা ৪৫ বছর বয়সী অ্যালিসন হ্যাভেম্যান-নিডরাখ’কে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন অপরাধের দায়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৩১ শে আগস্ট মনমাউথ কাউন্টির প্রসিকিউটর রেমন্ড এস. সান্তিয়াগো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। এ খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত পিপল ম্যাগাজিন।
সাজা ঘোষণার শুনানিতে ভুক্তভোগী ছাত্রটি আদালতকে জানায়, তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা অন্য শিক্ষার্থীরা জেনে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে তাকে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে তার পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। অ্যাসবারি পার্ক প্রেস পত্রিকার খবর অনুযায়ী, আদালতে ওই ছাত্র বলে যে, দুই-তিন বছর ধরে আমি ভেবেছি, এটা আমারই দোষ। এরপর সে জানায়, ওই শিক্ষিকা তার সঙ্গে যা করেছেন তার জন্য সে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। তখন হ্যাভেম্যান-নিডরাখ কাঁদতে শুরু করেন। আদালতে দেয়া নিজের বক্তব্যে হ্যাভেম্যান-নিডরাখ তার কর্মকাণ্ডের জন্য গভীরভাবে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ওই কিশোরের ক্ষমা তাকে আবেগাপ্লুত করেছে। তবে মনমাউথ কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক জিল জি. ও’ম্যালি সাবেক ফ্রিহোল্ড ইন্টারমিডিয়েট স্কুলের বিশেষ শিক্ষা বিভাগের এই শিক্ষিকাকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। ডেইলি ভয়েস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক তাকে বলেন, তুমিই তার ট্রমা। তুমি তাকে ধ্বংস করে দিয়েছ। অ্যাসবারি পার্ক প্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক আরও জানান, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ওই কিশোর আত্মহত্যার কথা ভেবেছিল। বিচারক বলেন, ২০২৩ সালের শরতে হ্যাভেম্যান-নিডরাখ ওই শিক্ষার্থীকে ‘গ্রুমিং’ করা শুরু করেন। তিনি তার খেলাধুলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন এবং তাকে উপহার দিতেন। এসব উপহারের মধ্যে একটি যৌন খেলনাও ছিল। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষিকার অতিরিক্ত মনোযোগ একসময় স্কুলে সন্দেহের সৃষ্টি করে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে আদালতে সহকারী প্রসিকিউটর ড্যানিয়েল জানজুক্কি বলেন, এক শিক্ষক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে তিনি হ্যাভেম্যান-নিডরাখকে ওই শিক্ষার্থীর ঘাড় ও পিঠের অংশে গোল করে হাত বুলাতে দেখেছেন। ওই শিক্ষক আরও বলেছিলেন, শিক্ষিকাকে শিক্ষার্থীর সঙ্গে নোংরা কথাবার্তা বলতে এবং তার পায়ে হাত দিতে দেখা গেছে।
জানজুক্কি জানান, ওই শিক্ষিকা ও কিশোরের মধ্যে ২৫ হাজার টেক্সট বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। কিশোরটি এক বন্ধুকে জানিয়েছিল যে, সে ও হ্যাভেম্যান-নিডরাখ প্রেমের সম্পর্কে রয়েছে। সে সময় জানজুক্কি আদালতে বলেন, আমি বলব, সে এই শিশুটির প্রতি আসক্ত। ২০২৪ সালের জুনে স্কুলের একজন ভাইস প্রিন্সিপাল পুলিশকে বিষয়টি জানান বলে অ্যাসবারি পার্ক প্রেস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কিশোরটির মা কর্তৃপক্ষকে জানান, তিনি ছেলেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তার মেয়ে তাকে জানিয়েছিল, সে তার ভাইকে শিক্ষিকার গাড়িতে দেখেছে। এ ছাড়া ছেলেটি রাতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করত বলেও তিনি লক্ষ্য করেন।
প্রথমে কিশোরটি তার মা-বাবাকে কিছুই ঘটেনি বলে জানায়। পরে সে মাকে বলে, শিক্ষিকার সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক হয়েছে। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশকে ওই কিশোর জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাদের যৌন সম্পর্ক শুরু হয়। তারা বিভিন্ন হোটেল এবং শিক্ষিকার বাড়িতে দেখা করত। মনমাউথ কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিসের স্পেশাল ভিকটিমস ব্যুরো এবং ফ্রিহোল্ড বরো পুলিশ বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তারা জানতে পারে, হ্যাভেম্যান-নিডরাখের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস চলেছিল।
তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির গুরুতর যৌন নিপীড়ন এবং দ্বিতীয় ডিগ্রির শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হ্যাভেম্যান-নিডরাখ প্রথম ডিগ্রির গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২৮শে আগস্ট সাজা ঘোষণার সময় তাকে কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ কারাদণ্ডের মেয়াদ ভোগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরই কেবল প্যারোলের সুযোগ বিবেচনা করা হবে। তার আইনজীবীকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও পিপল-এর অনুরোধে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
